ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জে পশুর প্রচারণার সঙ্গে ভোটের হাওয়া

দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জে পশুর প্রচারণার সঙ্গে ভোটের হাওয়া
কাঠের ফ্রেমে পোস্টার, ইনসেটে ব্যবসায়ী ও কারিগর রানা

পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র এখন উৎসবের আমেজ। তবে এবারের ঈদে পশুর হাটের প্রচারণার পাশাপাশি এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিন উপজেলার প্রতিটি মোড়, হাট-বাজার, রাস্তার পাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো এখন ছেয়ে গেছে বাহারি ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার আর তোরণে। আর এসব শুভেচ্ছা বাণীর সিংহভাগই এসেছে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছ থেকে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ক্যালেন্ডারের পাতায় কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনি হাওয়া ততটাই জোরালো হচ্ছে। যারা আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা এবং উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মনস্থ করেছেন, তারা এই ধর্মীয় উৎসবকে মোক্ষম সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। নিজেদের অস্তিত্ব ও প্রার্থিতার জানান দিতে তারা বড়ো বড়ো রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন। এসব ব্যানারে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষকে পবিত্র ঈদুল আজহার আগাম শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে, তেমনি অন্যদিকে নিজেদের ছবি ও রাজনৈতিক পরিচয় ফুটিয়ে তুলে ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করা হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের ব্যানার বা ফেস্টুনগুলো ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী করতে কাঠের ফ্রেমে বন্দি করে জনপদের বিভিন্ন গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে লটকে দিচ্ছেন। আর এই নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দোহারের জয়পাড়া বাজারের, তথা লটাখোলা জমিদার বাড়ি এলাকার ফ্রেম প্রস্তুতকারী ব্যবসায়ী রানা এখন পার করছেন অত্যন্ত ব্যস্ত সময়।

আলাপকালে কারিগর রানা জানান, রাজনৈতিক ফেস্টুনের আকার বা প্রকারভেদে এই কাঠের ফ্রেমগুলোর মূল্য নির্ধারিত হয়। প্রার্থীরা ডিজিটাল ব্যানার বা কাপড় দিয়ে যাওয়ার পর তিনি শুধু কাঠের ফ্রেমটি তৈরি করে দেন। তার দেয়া তথ্যে প্রতি পিসের মূল্য, ৩ × ২ ফিট ৭০ টাকা, ৪ × ২.৫ ফিট ১০০ টাকা, ৪ × ৩ ফিট ১২০ টাকা, ৫ × ৩ ফিট ১৫০ টাকা, ৮ × ৫ ফিট ৫০০ টাকা, ১০ × ৫ ফিট ৭০০ টাকা। ব্যবসায়ী রানা আরও জানান, ঈদের সময় যত এগিয়ে আসছে, বিভিন্ন নেতার কর্মী-সমর্থকদের অর্ডার তত বাড়ছে। দিন-রাত কাজ করেও ফ্রেম সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গ সংগঠনের তরুণ এবং প্রবীণ নেতারা এই প্রচারণায় শামিল হয়েছেন।

দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গ সংগঠনের তরুণ এবং প্রবীণ নেতারা এই প্রচারণায় শামিল হয়েছেন। অনেকে আবার ডিজিটাল ব্যানারের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবেও ‘স্পন্সরড’ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। চা দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক আড্ডাগুলোতে এখন কোরবানির পশুর দামের পাশাপাশি এই আগাম শুভেচ্ছা বাণী ও নির্বাচনি প্রার্থীদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। তবে যত্রতত্র তোরণ এবং ব্যানার টাঙানোর বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রচার-প্রচারণা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হওয়া উচিত, যাতে উৎসবের আমেজে সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি বা চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে।

একদিকে যেমন পশুর খামারি ও ব্যাপারীরা হাটে নিজেদের গরু-ছাগল বিক্রির জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন, অন্যদিকে হবু প্রার্থীরাও ঈদের দিন কোরবানিদাতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বা ঈদের জামাতে উপস্থিত হয়ে কুশল বিনিময়ের ছক কষছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঈদুল আজহাই মূলত আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাঠের লড়াইয়ের প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে দিচ্ছে। ফলে কোরবানি পশুর পালের সাথে সাথে দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের এই ত্রিমুখী জনপদে এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আগাম নির্বাচনি আমেজ। 

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জে পশুর প্রচারণার সঙ্গে ভোটের হাওয়া

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র এখন উৎসবের আমেজ। তবে এবারের ঈদে পশুর হাটের প্রচারণার পাশাপাশি এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিন উপজেলার প্রতিটি মোড়, হাট-বাজার, রাস্তার পাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো এখন ছেয়ে গেছে বাহারি ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার আর তোরণে। আর এসব শুভেচ্ছা বাণীর সিংহভাগই এসেছে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছ থেকে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ক্যালেন্ডারের পাতায় কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনি হাওয়া ততটাই জোরালো হচ্ছে। যারা আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা এবং উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মনস্থ করেছেন, তারা এই ধর্মীয় উৎসবকে মোক্ষম সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। নিজেদের অস্তিত্ব ও প্রার্থিতার জানান দিতে তারা বড়ো বড়ো রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন। এসব ব্যানারে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষকে পবিত্র ঈদুল আজহার আগাম শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে, তেমনি অন্যদিকে নিজেদের ছবি ও রাজনৈতিক পরিচয় ফুটিয়ে তুলে ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করা হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের ব্যানার বা ফেস্টুনগুলো ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী করতে কাঠের ফ্রেমে বন্দি করে জনপদের বিভিন্ন গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে লটকে দিচ্ছেন। আর এই নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দোহারের জয়পাড়া বাজারের, তথা লটাখোলা জমিদার বাড়ি এলাকার ফ্রেম প্রস্তুতকারী ব্যবসায়ী রানা এখন পার করছেন অত্যন্ত ব্যস্ত সময়।

আলাপকালে কারিগর রানা জানান, রাজনৈতিক ফেস্টুনের আকার বা প্রকারভেদে এই কাঠের ফ্রেমগুলোর মূল্য নির্ধারিত হয়। প্রার্থীরা ডিজিটাল ব্যানার বা কাপড় দিয়ে যাওয়ার পর তিনি শুধু কাঠের ফ্রেমটি তৈরি করে দেন। তার দেয়া তথ্যে প্রতি পিসের মূল্য, ৩ × ২ ফিট ৭০ টাকা, ৪ × ২.৫ ফিট ১০০ টাকা, ৪ × ৩ ফিট ১২০ টাকা, ৫ × ৩ ফিট ১৫০ টাকা, ৮ × ৫ ফিট ৫০০ টাকা, ১০ × ৫ ফিট ৭০০ টাকা। ব্যবসায়ী রানা আরও জানান, ঈদের সময় যত এগিয়ে আসছে, বিভিন্ন নেতার কর্মী-সমর্থকদের অর্ডার তত বাড়ছে। দিন-রাত কাজ করেও ফ্রেম সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গ সংগঠনের তরুণ এবং প্রবীণ নেতারা এই প্রচারণায় শামিল হয়েছেন।

দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গ সংগঠনের তরুণ এবং প্রবীণ নেতারা এই প্রচারণায় শামিল হয়েছেন। অনেকে আবার ডিজিটাল ব্যানারের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবেও ‘স্পন্সরড’ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। চা দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক আড্ডাগুলোতে এখন কোরবানির পশুর দামের পাশাপাশি এই আগাম শুভেচ্ছা বাণী ও নির্বাচনি প্রার্থীদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। তবে যত্রতত্র তোরণ এবং ব্যানার টাঙানোর বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রচার-প্রচারণা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হওয়া উচিত, যাতে উৎসবের আমেজে সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি বা চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে।

একদিকে যেমন পশুর খামারি ও ব্যাপারীরা হাটে নিজেদের গরু-ছাগল বিক্রির জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন, অন্যদিকে হবু প্রার্থীরাও ঈদের দিন কোরবানিদাতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বা ঈদের জামাতে উপস্থিত হয়ে কুশল বিনিময়ের ছক কষছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঈদুল আজহাই মূলত আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাঠের লড়াইয়ের প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে দিচ্ছে। ফলে কোরবানি পশুর পালের সাথে সাথে দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের এই ত্রিমুখী জনপদে এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আগাম নির্বাচনি আমেজ। 


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত