ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

সৈয়দপুরের শতাধিক কসাই বিমানে যাচ্ছেন ঢাকা

সৈয়দপুরের শতাধিক কসাই বিমানে যাচ্ছেন ঢাকা
ছবি:সংগৃহীত

‎পবিত্র ঈদুল আজহা এলেই রাজধানী ঢাকায় বাড়তে থাকে দক্ষ কসাইদের চাহিদা। আর সেই চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করেন  সৈয়দপুরের কসাইরা। পশু জবাই, চামড়া অক্ষত রেখে ছাড়ানো, নিখুঁতভাবে মাংস কাটা ও ভাগ-বাঁটোয়ারার দক্ষতায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীতে তাদের আলাদা সুনাম রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও কোরবানির মৌসুমে শতাধিক কসাই ঢাকামুখী হচ্ছেন। কেউ বাস ও ট্রেনে রওনা হয়েছেন, আবার কেউ বেছে নিয়েছেন আকাশপথ।

‎সৈয়দপুরে বিমানবন্দর থাকায় ঈদের এক-দুই দিন আগে বিমানে চড়ে দ্রুত ঢাকায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছেন অনেক কসাই। ইতোমধ্যে কয়েকজন টিকিটও কেটে ফেলেছেন। সময় বাঁচানো এবং বেশি কাজের সুযোগ পাওয়ার জন্যই তারা এই ব্যয়বহুল যাতায়াত মাধ্যম বেছে নিচ্ছেন।

‎স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে ঈদুল আজহার সময় সৈয়দপুরের শতাধিক কসাই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কোরবানির পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো, মাংস টুকরো করা ও ভাগ-বাঁটোয়ারার কাজ করে আসছেন। ঈদের তিন দিনের ব্যস্ত সময়েই তারা সম্মিলিতভাবে প্রায় ২০ লাখ টাকার মতো আয় করেন।

‎সৈয়দপুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাদিম কোরাইশি জানান, এবার ঈদের আগের দিন ১০ জনের একটি দল নিয়ে বিমানে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে টিকিট কাটা সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কাজের সুবিধার্থে দলটিকে তিন ভাগে ভাগ করা হবে।

‎তিনি বলেন, “আমাদের বাপ-দাদারাও ঢাকায় গিয়ে কোরবানির কাজ করতেন। পশু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া অক্ষত রেখে ছাড়ানো, মাংস পিস করা ও হাড় আলাদা করার কাজ আমরা ছোটবেলা থেকেই শিখেছি। এই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কারণেই ঢাকার মানুষ আমাদের খোঁজ করেন।”

‎সৈয়দপুরের গোলাহাট এলাকার কসাই সুলতান জানান, ঈদের প্রায় এক মাস আগেই ঢাকার অনেক পরিবার তাদের বুকিং দিয়ে রাখেন। তিনি বলেন, “মোহাম্মদপুরে আত্মীয় থাকায় গত ২১ মে তিনজনের একটি দল নিয়ে বিমানে করে ঢাকায় চলে এসেছি। সাধারণত হাজারে ২০০ টাকা হারে চুক্তি হয়। অর্থাৎ এক লাখ টাকার গরু কাটলে প্রায় ২০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। আয় ভালো হওয়ায় বিমানে যাতায়াত করলেও খরচ পুষিয়ে যায়।”

‎কেবল পারিশ্রমিক নয়, কোরবানির সময় দ্রুত ও পরিচ্ছন্নভাবে কাজ শেষ করার দক্ষতার কারণেও রাজধানীতে সৈয়দপুরের কসাইদের কদর বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অনেক পরিবার এখন আগেভাগেই নির্দিষ্ট কসাই দল ঠিক করে রাখেন, যাতে ঈদের দিন ঝামেলা ছাড়াই কোরবানির কাজ সম্পন্ন করা যায়।

‎প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির মৌসুমে সৈয়দপুরের কসাইদের এই ঢাকামুখী যাত্রা হয়ে উঠেছে এক ব্যস্ত, লাভজনক এবং দীর্ঘদিনের পেশাগত ঐতিহ্যের অংশ।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


সৈয়দপুরের শতাধিক কসাই বিমানে যাচ্ছেন ঢাকা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

‎পবিত্র ঈদুল আজহা এলেই রাজধানী ঢাকায় বাড়তে থাকে দক্ষ কসাইদের চাহিদা। আর সেই চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করেন  সৈয়দপুরের কসাইরা। পশু জবাই, চামড়া অক্ষত রেখে ছাড়ানো, নিখুঁতভাবে মাংস কাটা ও ভাগ-বাঁটোয়ারার দক্ষতায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীতে তাদের আলাদা সুনাম রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও কোরবানির মৌসুমে শতাধিক কসাই ঢাকামুখী হচ্ছেন। কেউ বাস ও ট্রেনে রওনা হয়েছেন, আবার কেউ বেছে নিয়েছেন আকাশপথ।

‎সৈয়দপুরে বিমানবন্দর থাকায় ঈদের এক-দুই দিন আগে বিমানে চড়ে দ্রুত ঢাকায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছেন অনেক কসাই। ইতোমধ্যে কয়েকজন টিকিটও কেটে ফেলেছেন। সময় বাঁচানো এবং বেশি কাজের সুযোগ পাওয়ার জন্যই তারা এই ব্যয়বহুল যাতায়াত মাধ্যম বেছে নিচ্ছেন।

‎স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে ঈদুল আজহার সময় সৈয়দপুরের শতাধিক কসাই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কোরবানির পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো, মাংস টুকরো করা ও ভাগ-বাঁটোয়ারার কাজ করে আসছেন। ঈদের তিন দিনের ব্যস্ত সময়েই তারা সম্মিলিতভাবে প্রায় ২০ লাখ টাকার মতো আয় করেন।

‎সৈয়দপুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাদিম কোরাইশি জানান, এবার ঈদের আগের দিন ১০ জনের একটি দল নিয়ে বিমানে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে টিকিট কাটা সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কাজের সুবিধার্থে দলটিকে তিন ভাগে ভাগ করা হবে।

‎তিনি বলেন, “আমাদের বাপ-দাদারাও ঢাকায় গিয়ে কোরবানির কাজ করতেন। পশু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া অক্ষত রেখে ছাড়ানো, মাংস পিস করা ও হাড় আলাদা করার কাজ আমরা ছোটবেলা থেকেই শিখেছি। এই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কারণেই ঢাকার মানুষ আমাদের খোঁজ করেন।”

‎সৈয়দপুরের গোলাহাট এলাকার কসাই সুলতান জানান, ঈদের প্রায় এক মাস আগেই ঢাকার অনেক পরিবার তাদের বুকিং দিয়ে রাখেন। তিনি বলেন, “মোহাম্মদপুরে আত্মীয় থাকায় গত ২১ মে তিনজনের একটি দল নিয়ে বিমানে করে ঢাকায় চলে এসেছি। সাধারণত হাজারে ২০০ টাকা হারে চুক্তি হয়। অর্থাৎ এক লাখ টাকার গরু কাটলে প্রায় ২০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। আয় ভালো হওয়ায় বিমানে যাতায়াত করলেও খরচ পুষিয়ে যায়।”

‎কেবল পারিশ্রমিক নয়, কোরবানির সময় দ্রুত ও পরিচ্ছন্নভাবে কাজ শেষ করার দক্ষতার কারণেও রাজধানীতে সৈয়দপুরের কসাইদের কদর বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অনেক পরিবার এখন আগেভাগেই নির্দিষ্ট কসাই দল ঠিক করে রাখেন, যাতে ঈদের দিন ঝামেলা ছাড়াই কোরবানির কাজ সম্পন্ন করা যায়।

‎প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির মৌসুমে সৈয়দপুরের কসাইদের এই ঢাকামুখী যাত্রা হয়ে উঠেছে এক ব্যস্ত, লাভজনক এবং দীর্ঘদিনের পেশাগত ঐতিহ্যের অংশ।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত