চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি, জামায়াত-আ.লীগের বর্জনের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন :
জামায়াতপন্থী আইনজীবীরাও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে মিছিল ও দুপুর থেকে নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্পের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা মানববন্ধন করে। আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা দিনভর আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে- "ভোট চোর ভোট চোর" স্লোগান দিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। আদালত প্রাঙ্গণে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে।
আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরাও আইনজীবী সমিতি ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে একতরফা ভোটের প্রতিবাদ জানায়।বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভোট গ্রহণ চলাকালে আদালত ভবন এলাকায় ভোট গ্রহণের প্রতিবাদে সমাবেশ করেন ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের সমর্থকরা।
আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের অভিযোগ, মনোনয়ন ফরম বিতরণের দিন সমিতির লাইব্রেরির মূল ফটক বন্ধ রেখে তাদের ফরম নিতে দেওয়া হয়নি।
নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সবকটি পদে বিএনপিপন্থী আইনজীবী ঐক্য ফোরামের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে। কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় সভাপতি পদে এডভোকেট তারিক আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মঈনুদ্দীন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বতিায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের তারিক আহমদ; সাধারণ সম্পাদক পদে জিতেছেন একই ফোরামের মো. মঈনুদ্দীন।
এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত অন্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিমা খানম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আবুল মনছুর সিকদার, পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদ হোছাইন সিকদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিলকিস আরা মিতু, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. লোকমান শাহ।নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়, এসব পদে কোন প্রার্থী না থাকায় এদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হল। সম্পাদকীয় ১০টি পদের মধ্যে নয়জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়।এছাড়া নির্বাহী সদস্যপদেও ঐক্য ফোরাম ও ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের মোট ২২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
তারমধ্যে ফোরামের ১১ সদস্য বিজয়ী হন। এরা হলেন আলী আকবর, দিদারুল আলম, দিলদার আহমেদ ভুইয়া, মো. ইকবাল হোসেন, মো. জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ হাসান, মোকতার উদ্দিন, মোমেনুল হক, সাদিয়া খান, সাইফুল ইসলাম ও শেখ মো. ফয়সাল উদ্দিন। গত বুধবার দুইপক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাঁদের আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে একই দাবিতে জামায়াতপন্থী সংগঠনটি এক তলবি সভার আহ্বান করেছিলেন। ওই সভায় প্রস্তাবনার পক্ষে ভোট পড়ে ১৭১ এবং বিপক্ষে পড়ে ২৮৯ ভোট।
নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা রৌশন আরা বেগম বলেন, “বিএনপি পূর্ণ প্যানেলে অর্থাৎ ২১টি পদের সবকটিতে বিজয়ী হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। একটি সহ-সভাপতি ও ১১টি সদস্য পদে ভোট হয়েছে। সমিতিতে এবার ভোটার হয়েছেন ৪ হাজার ৫০০। তম্মধ্যে ২১৬০ সদস্য ভোট দিয়েছেন।
এদিকে নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আদালত এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার অভিযোগ এনে একতরফা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা দিনভর আদালত এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি, জামায়াত-আ.লীগের বর্জনের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন :
জামায়াতপন্থী আইনজীবীরাও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে মিছিল ও দুপুর থেকে নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্পের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা মানববন্ধন করে। আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা দিনভর আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে- "ভোট চোর ভোট চোর" স্লোগান দিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। আদালত প্রাঙ্গণে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে।
আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরাও আইনজীবী সমিতি ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে একতরফা ভোটের প্রতিবাদ জানায়।বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভোট গ্রহণ চলাকালে আদালত ভবন এলাকায় ভোট গ্রহণের প্রতিবাদে সমাবেশ করেন ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের সমর্থকরা।
আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের অভিযোগ, মনোনয়ন ফরম বিতরণের দিন সমিতির লাইব্রেরির মূল ফটক বন্ধ রেখে তাদের ফরম নিতে দেওয়া হয়নি।
নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সবকটি পদে বিএনপিপন্থী আইনজীবী ঐক্য ফোরামের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে। কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় সভাপতি পদে এডভোকেট তারিক আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মঈনুদ্দীন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বতিায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের তারিক আহমদ; সাধারণ সম্পাদক পদে জিতেছেন একই ফোরামের মো. মঈনুদ্দীন।
এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত অন্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিমা খানম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আবুল মনছুর সিকদার, পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদ হোছাইন সিকদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিলকিস আরা মিতু, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. লোকমান শাহ।নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়, এসব পদে কোন প্রার্থী না থাকায় এদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হল। সম্পাদকীয় ১০টি পদের মধ্যে নয়জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়।এছাড়া নির্বাহী সদস্যপদেও ঐক্য ফোরাম ও ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের মোট ২২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
তারমধ্যে ফোরামের ১১ সদস্য বিজয়ী হন। এরা হলেন আলী আকবর, দিদারুল আলম, দিলদার আহমেদ ভুইয়া, মো. ইকবাল হোসেন, মো. জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ হাসান, মোকতার উদ্দিন, মোমেনুল হক, সাদিয়া খান, সাইফুল ইসলাম ও শেখ মো. ফয়সাল উদ্দিন। গত বুধবার দুইপক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাঁদের আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে একই দাবিতে জামায়াতপন্থী সংগঠনটি এক তলবি সভার আহ্বান করেছিলেন। ওই সভায় প্রস্তাবনার পক্ষে ভোট পড়ে ১৭১ এবং বিপক্ষে পড়ে ২৮৯ ভোট।
নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা রৌশন আরা বেগম বলেন, “বিএনপি পূর্ণ প্যানেলে অর্থাৎ ২১টি পদের সবকটিতে বিজয়ী হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। একটি সহ-সভাপতি ও ১১টি সদস্য পদে ভোট হয়েছে। সমিতিতে এবার ভোটার হয়েছেন ৪ হাজার ৫০০। তম্মধ্যে ২১৬০ সদস্য ভোট দিয়েছেন।
এদিকে নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আদালত এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার অভিযোগ এনে একতরফা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা দিনভর আদালত এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

আপনার মতামত লিখুন