আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে ১২৭টি রেল কোচ মেরামত, সংস্কার ও সচল করার কাজ চলছে। মেরামত শেষে এসব কোচ দেশের বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে জুরে দেওয়া হবে।
কারখানা সূত্র জানায়, ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত কোচ প্রস্তুতের লক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। কারখানার ২৮টি শপের শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরে অতিরিক্ত সময় দিয়ে কোচগুলো দ্রুত প্রস্তুত করছেন। ইতোমধ্যে ৯৯টি কোচ ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট কোচ আগামী কয়েক কর্মদিবসের মধ্যে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় অনুমোদিত ২ হাজার ৮৫৯টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৬৬৪ জন শ্রমিক-কর্মচারী। অর্থাৎ মাত্র ২৩ শতাংশ জনবল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। তীব্র জনবলসংকটের মধ্যেও ঈদযাত্রাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুরোনো কোচগুলোর জরাজীর্ণ কাঠামো পরিবর্তন, চাকার ট্রলি মেরামত, আসনবিন্যাস, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং রং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ কাজে বগি, হেভি রিপেয়ারিং, ক্যারেজ কনস্ট্রাকশন ও পেইন্ট শপসহ আরও ২৪টি শপ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
কারখানার শিডিউল শপের ইনচার্জ প্রকৌশলী রুহুল আমীন বলেন, “ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ১২৭টি কোচ সচল করা হচ্ছে। যাত্রীচাপ মোকাবিলায় বাড়তি কোচ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। কারখানার প্রতিটি শপে স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি কোচগুলোকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলার কাজ চলছে।”
বিভিন্ন শপে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, প্রয়োজনীয় মালামাল ও জনবলসংকট থাকলেও ঈদের যাত্রীসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত শ্রম ও সময় ব্যয় করে কোচগুলো দ্রুত প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে অধিকসংখ্যক যাত্রী নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন।
ক্যারেজ শপের ইনচার্জ প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম বলেন, “জনবলসংকট থাকা সত্ত্বেও ঈদের যাত্রীসেবা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ জানান, ঈদযাত্রায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে রেলওয়ের বহরে যুক্ত করা হচ্ছে ১২৭টি কোচ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৯৯টি কোচ ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি কোচগুলোও আগামী কয়েক কর্মদিবসের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।
ঈদযাত্রাকে ঘিরে সীমিত জনবল নিয়েও সৈয়দপুর রেলকারখানার এই কর্মতৎপরতা যাত্রীসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে ১২৭টি রেল কোচ মেরামত, সংস্কার ও সচল করার কাজ চলছে। মেরামত শেষে এসব কোচ দেশের বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে জুরে দেওয়া হবে।
কারখানা সূত্র জানায়, ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত কোচ প্রস্তুতের লক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। কারখানার ২৮টি শপের শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরে অতিরিক্ত সময় দিয়ে কোচগুলো দ্রুত প্রস্তুত করছেন। ইতোমধ্যে ৯৯টি কোচ ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট কোচ আগামী কয়েক কর্মদিবসের মধ্যে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় অনুমোদিত ২ হাজার ৮৫৯টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৬৬৪ জন শ্রমিক-কর্মচারী। অর্থাৎ মাত্র ২৩ শতাংশ জনবল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। তীব্র জনবলসংকটের মধ্যেও ঈদযাত্রাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুরোনো কোচগুলোর জরাজীর্ণ কাঠামো পরিবর্তন, চাকার ট্রলি মেরামত, আসনবিন্যাস, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং রং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ কাজে বগি, হেভি রিপেয়ারিং, ক্যারেজ কনস্ট্রাকশন ও পেইন্ট শপসহ আরও ২৪টি শপ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
কারখানার শিডিউল শপের ইনচার্জ প্রকৌশলী রুহুল আমীন বলেন, “ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ১২৭টি কোচ সচল করা হচ্ছে। যাত্রীচাপ মোকাবিলায় বাড়তি কোচ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। কারখানার প্রতিটি শপে স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি কোচগুলোকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলার কাজ চলছে।”
বিভিন্ন শপে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, প্রয়োজনীয় মালামাল ও জনবলসংকট থাকলেও ঈদের যাত্রীসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত শ্রম ও সময় ব্যয় করে কোচগুলো দ্রুত প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে অধিকসংখ্যক যাত্রী নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন।
ক্যারেজ শপের ইনচার্জ প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম বলেন, “জনবলসংকট থাকা সত্ত্বেও ঈদের যাত্রীসেবা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ জানান, ঈদযাত্রায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে রেলওয়ের বহরে যুক্ত করা হচ্ছে ১২৭টি কোচ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৯৯টি কোচ ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি কোচগুলোও আগামী কয়েক কর্মদিবসের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।
ঈদযাত্রাকে ঘিরে সীমিত জনবল নিয়েও সৈয়দপুর রেলকারখানার এই কর্মতৎপরতা যাত্রীসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন