ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

কলাপাড়ায় আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানাল প্রতিবেশীর নিষ্ঠুরতা

কলাপাড়ায় আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানাল প্রতিবেশীর নিষ্ঠুরতা
এই আধুনিক যুগেও প্রতিবেশী পরিবারের চলাচলের পথে কাঁচ ও ব্লেড ফেলে রাখা আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগকেও হার মানায়

মাত্র এক ফুটেরও কম জায়গা। বৃষ্টির দিনে যা কর্দমাক্ত হয়ে একাকার হয়ে যায়। সেই সরু পথটুকু দিয়েও যেন প্রতিবেশী যাতায়াত করতে না পারে, সেজন্য সেখানে ফেলে রাখা হয় ধারালো ব্লেড কিংবা ভাঙা কাঁচ। সভ্য সমাজে এমন অমানবিক ঘটনা ঘটছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের চিংগড়িয়া এলাকায়। প্রতিবেশী পরিতোষ শীল ও হরিদাস শীলের রুঢ় আচরণে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে শৈলেন চন্দ্র শীল ও অনিল চন্দ্র শীলের পরিবার।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী পরিতোষ শীল ও হরিদাস শীল প্রভাব খাটিয়ে পৌরসভার সড়কের আওতাভুক্ত ০.৭২ শতাংশ জমি দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণ করেন। এর ফলে অনিল ও শৈলেনের পরিবারের চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তা উদ্ধারের দাবি জানালে উল্টো শৈলেন ও অনিলের নামে দেওয়ানি আদালতে একে একে চারটি মামলা করেন অভিযুক্তরা। তবে প্রতিটি মামলার রায়ই অনিলদের পক্ষে আসে।

আদালতের রায় পাওয়ার পর গত ২২ এপ্রিল অনিল শীল পৌরসভার প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে পৌর কর্তৃপক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে সড়কের জায়গা নির্ধারণ করে খুঁটি স্থাপন করে দেয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পরিতোষকে ঘর অপসারণের জন্য দুই দফা সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

তবে ঘর না সরিয়ে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পরিতোষ। তিনি পৌরসভার সচিব কাব্য লাল চক্রবর্তীসহ আরও তিনজনকে বিবাদী করে দেওয়ানি আদালতে নতুন করে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। ফলে রাস্তা উদ্ধারের প্রক্রিয়া পুনরায় আইনি জটিলতায় থমকে গেছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে পরিতোষ শীল বলেন, "আমার ক্রয়কৃত জমির দেড় শতাংশ ঘাটতি রয়েছে, তাই আমি মামলা করেছি। তাদের (ভুক্তভোগীদের) দলিলের চৌহদ্দিতে কোনো রাস্তার উল্লেখ নেই। তারপরও তারা আমার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা দাবি করছে।"

অন্যদিকে, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. কাউছার হামিদ জানান, সড়ক দখলের বিষয়টি দীর্ঘদিনের। এটি সমাধানের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই আধুনিক যুগেও প্রতিবেশী পরিবারের চলাচলের পথে কাঁচ ও ব্লেড ফেলে রাখা আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগকেও হার মানায়। ক্ষমতার দাপটে একটি সাধারণ রাস্তা আটকে দুটি পরিবারকে ১৭ বছর জিম্মি করে রাখা অত্যন্ত অমানবিক। তারা দ্রুত এই সংকীর্ণ পথের অবসান চান।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


কলাপাড়ায় আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানাল প্রতিবেশীর নিষ্ঠুরতা

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

মাত্র এক ফুটেরও কম জায়গা। বৃষ্টির দিনে যা কর্দমাক্ত হয়ে একাকার হয়ে যায়। সেই সরু পথটুকু দিয়েও যেন প্রতিবেশী যাতায়াত করতে না পারে, সেজন্য সেখানে ফেলে রাখা হয় ধারালো ব্লেড কিংবা ভাঙা কাঁচ। সভ্য সমাজে এমন অমানবিক ঘটনা ঘটছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের চিংগড়িয়া এলাকায়। প্রতিবেশী পরিতোষ শীল ও হরিদাস শীলের রুঢ় আচরণে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে শৈলেন চন্দ্র শীল ও অনিল চন্দ্র শীলের পরিবার।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী পরিতোষ শীল ও হরিদাস শীল প্রভাব খাটিয়ে পৌরসভার সড়কের আওতাভুক্ত ০.৭২ শতাংশ জমি দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণ করেন। এর ফলে অনিল ও শৈলেনের পরিবারের চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তা উদ্ধারের দাবি জানালে উল্টো শৈলেন ও অনিলের নামে দেওয়ানি আদালতে একে একে চারটি মামলা করেন অভিযুক্তরা। তবে প্রতিটি মামলার রায়ই অনিলদের পক্ষে আসে।

আদালতের রায় পাওয়ার পর গত ২২ এপ্রিল অনিল শীল পৌরসভার প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে পৌর কর্তৃপক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে সড়কের জায়গা নির্ধারণ করে খুঁটি স্থাপন করে দেয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পরিতোষকে ঘর অপসারণের জন্য দুই দফা সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

তবে ঘর না সরিয়ে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পরিতোষ। তিনি পৌরসভার সচিব কাব্য লাল চক্রবর্তীসহ আরও তিনজনকে বিবাদী করে দেওয়ানি আদালতে নতুন করে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। ফলে রাস্তা উদ্ধারের প্রক্রিয়া পুনরায় আইনি জটিলতায় থমকে গেছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে পরিতোষ শীল বলেন, "আমার ক্রয়কৃত জমির দেড় শতাংশ ঘাটতি রয়েছে, তাই আমি মামলা করেছি। তাদের (ভুক্তভোগীদের) দলিলের চৌহদ্দিতে কোনো রাস্তার উল্লেখ নেই। তারপরও তারা আমার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা দাবি করছে।"

অন্যদিকে, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. কাউছার হামিদ জানান, সড়ক দখলের বিষয়টি দীর্ঘদিনের। এটি সমাধানের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই আধুনিক যুগেও প্রতিবেশী পরিবারের চলাচলের পথে কাঁচ ও ব্লেড ফেলে রাখা আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগকেও হার মানায়। ক্ষমতার দাপটে একটি সাধারণ রাস্তা আটকে দুটি পরিবারকে ১৭ বছর জিম্মি করে রাখা অত্যন্ত অমানবিক। তারা দ্রুত এই সংকীর্ণ পথের অবসান চান।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত