মানুষ যখন নিজের প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত থাকে, তখন এক দম্পতি নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের নতুন জীবন দান করলেন। ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাধানগর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ও বীরত্বপূর্ণ ঘটনাটি এখন সারা দেশের মানুষের চোখে অশ্রু এনে দিয়েছে। সন্তানদের যমদূত থেকে ছিনিয়ে আনলেও, আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছেন এই মমতাময়ী বাবা-মা। নিহতরা হলেন ওই এলাকার সালাম শিকদার (৫৭) ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগম (৫০)।
শনিবার রাত তখন ১টা। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন পুরো গ্রাম। হঠাৎ সালাম শিকদারের বসতবাড়িতে আগুনের লেলিহান শিখা আকাশ ছুঁয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তাপে এবং ধোঁয়ায় যখন দম বন্ধ হয়ে আসছিল, তখন ঘরের ভেতরে পরিবারের পাঁচজন সদস্য আটকা পড়েন। মৃত্যুকূপ হয়ে ওঠা সেই ঘর থেকে দুই সন্তান ও এক নাতিকে বাঁচানোর জন্য জান প্রাণ দিয়ে লড়েছেন এই দম্পতি।
যখন পালানোর কোনো পথ ছিল না, তখন সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম নিজেদের পোড়া শরীরের তীব্র যন্ত্রণা উপেক্ষা করে জানালার গ্রিল বা কাঠামো ভেঙে মরণপণ লড়াই চালান। তাঁরা একে একে তাঁদের দুই শিশুসন্তান জান্নাতুল (১১), খাদিজা (৭) এবং আদরের নাতিকে সেই ভাঙা জানালা দিয়ে বাইরে ঠেলে বের করে দেন।
সন্তানদের নিরাপদ স্থানে পাঠিয়েও নিজেরা আর বের হতে পারেননি। আগুনের প্রচণ্ড শিখা তাঁদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। সন্তানদের নতুন পৃথিবী উপহার দিতে গিয়ে তাঁরা নিজেরা সেই আগুনেই ভস্মীভূত হন এবং ঘটনাস্থলেই চিরদিনের জন্য চোখ বন্ধ করেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। খবর পেয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি, এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি এই এতিম শিশুদের লেখাপড়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।
দোহার থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি কোনো পরিকল্পিত নাশকতা, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
দক্ষিণ রাধানগর গ্রামজুড়ে এখন শুধু কান্নার রোল। এলাকাবাসী বলছেন, বাবা-মায়ের এই আত্মত্যাগের উদাহরণ বিরল। সন্তানদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে তাঁরা যে বীরত্ব দেখিয়েছেন, তা এখন মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। শোকাচ্ছন্ন গ্রামবাসী এই বীরত্বপূর্ণ অথচ অত্যন্ত বেদনাদায়ক মৃত্যুতে আজ বাকরুদ্ধ।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
মানুষ যখন নিজের প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত থাকে, তখন এক দম্পতি নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের নতুন জীবন দান করলেন। ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাধানগর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ও বীরত্বপূর্ণ ঘটনাটি এখন সারা দেশের মানুষের চোখে অশ্রু এনে দিয়েছে। সন্তানদের যমদূত থেকে ছিনিয়ে আনলেও, আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছেন এই মমতাময়ী বাবা-মা। নিহতরা হলেন ওই এলাকার সালাম শিকদার (৫৭) ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগম (৫০)।
শনিবার রাত তখন ১টা। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন পুরো গ্রাম। হঠাৎ সালাম শিকদারের বসতবাড়িতে আগুনের লেলিহান শিখা আকাশ ছুঁয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তাপে এবং ধোঁয়ায় যখন দম বন্ধ হয়ে আসছিল, তখন ঘরের ভেতরে পরিবারের পাঁচজন সদস্য আটকা পড়েন। মৃত্যুকূপ হয়ে ওঠা সেই ঘর থেকে দুই সন্তান ও এক নাতিকে বাঁচানোর জন্য জান প্রাণ দিয়ে লড়েছেন এই দম্পতি।
যখন পালানোর কোনো পথ ছিল না, তখন সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম নিজেদের পোড়া শরীরের তীব্র যন্ত্রণা উপেক্ষা করে জানালার গ্রিল বা কাঠামো ভেঙে মরণপণ লড়াই চালান। তাঁরা একে একে তাঁদের দুই শিশুসন্তান জান্নাতুল (১১), খাদিজা (৭) এবং আদরের নাতিকে সেই ভাঙা জানালা দিয়ে বাইরে ঠেলে বের করে দেন।
সন্তানদের নিরাপদ স্থানে পাঠিয়েও নিজেরা আর বের হতে পারেননি। আগুনের প্রচণ্ড শিখা তাঁদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। সন্তানদের নতুন পৃথিবী উপহার দিতে গিয়ে তাঁরা নিজেরা সেই আগুনেই ভস্মীভূত হন এবং ঘটনাস্থলেই চিরদিনের জন্য চোখ বন্ধ করেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। খবর পেয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি, এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি এই এতিম শিশুদের লেখাপড়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।
দোহার থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি কোনো পরিকল্পিত নাশকতা, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
দক্ষিণ রাধানগর গ্রামজুড়ে এখন শুধু কান্নার রোল। এলাকাবাসী বলছেন, বাবা-মায়ের এই আত্মত্যাগের উদাহরণ বিরল। সন্তানদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে তাঁরা যে বীরত্ব দেখিয়েছেন, তা এখন মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। শোকাচ্ছন্ন গ্রামবাসী এই বীরত্বপূর্ণ অথচ অত্যন্ত বেদনাদায়ক মৃত্যুতে আজ বাকরুদ্ধ।

আপনার মতামত লিখুন