ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

সিংগাইরে ওভারলোডেড ড্রাম ট্রাকের দাপট, নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক

সিংগাইরে ওভারলোডেড ড্রাম ট্রাকের দাপট, নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক

রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত ইটভাটা প্রবণ মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গ্রামীণ সড়কজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভিটিবালু, মাটি ও কয়লাবাহী ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক। অতিরিক্ত ওজন বহনকারী এসব ট্রাকের কারণে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, মাঝে মধ্যে প্রশাসন দু-একটি গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও বন্ধ হয়নি এসব ট্রাকের অবাধ চলাচল। অনেক ট্রাকেই “সেনাবাহিনীর কাজে নিয়োজিত”, “ট্রাস্ট গ্রীণ সিটি” ও “আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট” স্টিকার ব্যবহার করতে দেখা যায়। এসব স্টিকারকে অনেকেই অবাধ চলাচলের ‘রক্ষা কবচ’ হিসেবে দেখছেন।

সরেজমিনে উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে ১০ চাকার ড্রাম ট্রাকে ভিটিবালু ফেলতে দেখা যায়। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৮৫৭ নম্বরের একটি ট্রাকের সামনের গ্লাসে “সেনাবাহিনীর কাজে নিয়োজিত” স্টিকার লাগানো ছিল। ক্রেতা সেজে কথা বললে ট্রাক চালক রবিন জানান, গাড়িটির মালিক ঢাকার আমিনবাজারের সাহাদাত এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি সিংগাইরসহ মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভিটিবালু সরবরাহ করে থাকে। সেনাবাহিনীর স্টিকার ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, রাতে সেনাবাহিনীর একটি প্রকল্পে বালু সরবরাহ করা হয় বলেই স্টিকার দেয়া হয়েছে, যাতে পুলিশি বা আইনি ঝামেলা না হয়।

সায়েস্তা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “২০ থেকে ২৫ টন লোড নিয়ে ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক গ্রামীণ সড়কে চলাচলের কোনো অনুমোদন নেই।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও রেমিট্যান্সযোদ্ধা মো. ইকবাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গ্রামীণ সড়কে এত ভারী যানবাহন কীভাবে চলে তা বুঝে আসে না। দিন-রাত ট্রাক চলাচলের কারণে পাকা সড়কগুলো খুব দ্রুত খানা-খন্দে পরিণত হচ্ছে।”

চান্দহর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী তারিকুর রহমান আলাল বলেন, “সিংগাইরের সড়কগুলো ড্রাম ট্রাক চলাচলের উপযোগী নয়। অথচ প্রতিনিয়ত ওভারলোডেড ইটবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল করছে। এতে সড়কের বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে।” তিনি দ্রুত এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “গ্রামীণ সড়কে ৮ থেকে ১০ টনের বেশি ওজন নিয়ে চলাচলের সুযোগ নেই। ভারী যানবাহনের কারণেই সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” তিনি এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


সিংগাইরে ওভারলোডেড ড্রাম ট্রাকের দাপট, নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত ইটভাটা প্রবণ মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গ্রামীণ সড়কজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভিটিবালু, মাটি ও কয়লাবাহী ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক। অতিরিক্ত ওজন বহনকারী এসব ট্রাকের কারণে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, মাঝে মধ্যে প্রশাসন দু-একটি গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও বন্ধ হয়নি এসব ট্রাকের অবাধ চলাচল। অনেক ট্রাকেই “সেনাবাহিনীর কাজে নিয়োজিত”, “ট্রাস্ট গ্রীণ সিটি” ও “আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট” স্টিকার ব্যবহার করতে দেখা যায়। এসব স্টিকারকে অনেকেই অবাধ চলাচলের ‘রক্ষা কবচ’ হিসেবে দেখছেন।

সরেজমিনে উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে ১০ চাকার ড্রাম ট্রাকে ভিটিবালু ফেলতে দেখা যায়। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৮৫৭ নম্বরের একটি ট্রাকের সামনের গ্লাসে “সেনাবাহিনীর কাজে নিয়োজিত” স্টিকার লাগানো ছিল। ক্রেতা সেজে কথা বললে ট্রাক চালক রবিন জানান, গাড়িটির মালিক ঢাকার আমিনবাজারের সাহাদাত এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি সিংগাইরসহ মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভিটিবালু সরবরাহ করে থাকে। সেনাবাহিনীর স্টিকার ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, রাতে সেনাবাহিনীর একটি প্রকল্পে বালু সরবরাহ করা হয় বলেই স্টিকার দেয়া হয়েছে, যাতে পুলিশি বা আইনি ঝামেলা না হয়।

সায়েস্তা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “২০ থেকে ২৫ টন লোড নিয়ে ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক গ্রামীণ সড়কে চলাচলের কোনো অনুমোদন নেই।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও রেমিট্যান্সযোদ্ধা মো. ইকবাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গ্রামীণ সড়কে এত ভারী যানবাহন কীভাবে চলে তা বুঝে আসে না। দিন-রাত ট্রাক চলাচলের কারণে পাকা সড়কগুলো খুব দ্রুত খানা-খন্দে পরিণত হচ্ছে।”

চান্দহর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী তারিকুর রহমান আলাল বলেন, “সিংগাইরের সড়কগুলো ড্রাম ট্রাক চলাচলের উপযোগী নয়। অথচ প্রতিনিয়ত ওভারলোডেড ইটবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল করছে। এতে সড়কের বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে।” তিনি দ্রুত এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “গ্রামীণ সড়কে ৮ থেকে ১০ টনের বেশি ওজন নিয়ে চলাচলের সুযোগ নেই। ভারী যানবাহনের কারণেই সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” তিনি এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত