ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

কাঁঠালের সুবাসে মাতোয়ারা ঢাকার দক্ষিণ জনপদ

কাঁঠালের সুবাসে মাতোয়ারা ঢাকার দক্ষিণ জনপদ
ঢাকার দক্ষিণ জনপদে বাড়ির আনাচে কানাচে থোকায় থোকায় কাঁঠাল

প্রকৃতিতে এখন আগুনের রূপ। জ্যৈষ্ঠের তপ্ত দাবদাহে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই যেন এক পশলা প্রশান্তি নিয়ে হাজির হয়েছে মধুমাস। উত্তপ্ত বাতাসের পরতে পরতে এখন মিশে আছে এক চিরচেনা সুমধুর আবেশ। ঢাকার দক্ষিণ প্রান্তের তিন জনপদ—দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের পথে প্রান্তরের বাতাসে এখন কেবলই জাতীয় ফল কাঁঠালের মদির সুবাস। 

দেখা যায়, দোহারে জয়পাড়া কিংবা নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের গ্রামগুলোতে এখন থোকায় থোকায় কাঁঠালের সমারোহ। মিষ্টি ঘ্রাণে পথিকের পা আটকে যায় অজান্তি। রোদের তীব্রতা যেন হার মানছে পাকা কাঁঠালের সোনালী রঙের মায়ার কাছে। প্রতিটি জনপদে সারি সারি গাছগুলো নুয়ে পড়েছে ফলের ভারে। সবুজ পাতার আড়াল থেকে উঁকি দেওয়া বিশালকায় কাঁঠালগুলো যেন প্রকৃতির এক অমূল্য উপহার। মজার বিষয় হলো, এসব এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে বড় কোনো বাগান তেমন একটা নজরে না পড়লেও প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় ও ভিটায় রয়েছে কাঁঠাল গাছের উপস্থিতি। বাড়ির পাশে সযত্নে বেড়ে ওঠা এসব গাছ এখন ফলবতী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই অঞ্চলের কাঁঠাল স্বাদে ও মানে অতুলনীয় হওয়ায় নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে তারা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও পাঠাচ্ছেন এই মধুমাসের উপহার।

বাঙালি আর কাঁঠালের সম্পর্ক যুগ-যুগান্তরের এক নিবিড় প্রেমের মতো। তপ্ত দুপুরে বাড়ির আঙিনায় পরিবারের সবাই মিলে বসে কাঁঠাল ভাঙার সেই চিরায়ত দৃশ্য আজও গ্রামবাংলার মানুষকে স্মৃতিকাতর করে। কেরানীগঞ্জের আঁটি বাজারে কাঁঠাল কিনতে আসা এক বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রেতা স্মিত হেসে বলেন, "এই গন্ধটা পেলেই মনে হয় গ্রীষ্ম কেবল কষ্ট দেয় না, আমাদের পরম তৃপ্তিও দেয়"।

আসলে আম-কাঁঠালের এই উৎসব কেবল উদরপূর্তি নয়, এটি আমাদের শিকড়ের টান আর শৈশবের অতীত বিধুরতার এক অনন্য মেলবন্ধন। দাবদাহের ক্লান্তি মুছে দিয়ে কাঁঠালের এই রাজকীয় উপস্থিতি দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের জনজীবনে নিয়ে এসেছে অঘোষিত এক উৎসবের ছোঁয়া। মধুমাসের এই মিষ্টি সুবাসে মজেছে মানুষের মন। রোদের প্রখরতা ছাপিয়ে দিনশেষে জয় হয়েছে প্রকৃতির এই রসালো ভালোবাসার।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


কাঁঠালের সুবাসে মাতোয়ারা ঢাকার দক্ষিণ জনপদ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

প্রকৃতিতে এখন আগুনের রূপ। জ্যৈষ্ঠের তপ্ত দাবদাহে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই যেন এক পশলা প্রশান্তি নিয়ে হাজির হয়েছে মধুমাস। উত্তপ্ত বাতাসের পরতে পরতে এখন মিশে আছে এক চিরচেনা সুমধুর আবেশ। ঢাকার দক্ষিণ প্রান্তের তিন জনপদ—দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের পথে প্রান্তরের বাতাসে এখন কেবলই জাতীয় ফল কাঁঠালের মদির সুবাস। 

দেখা যায়, দোহারে জয়পাড়া কিংবা নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের গ্রামগুলোতে এখন থোকায় থোকায় কাঁঠালের সমারোহ। মিষ্টি ঘ্রাণে পথিকের পা আটকে যায় অজান্তি। রোদের তীব্রতা যেন হার মানছে পাকা কাঁঠালের সোনালী রঙের মায়ার কাছে। প্রতিটি জনপদে সারি সারি গাছগুলো নুয়ে পড়েছে ফলের ভারে। সবুজ পাতার আড়াল থেকে উঁকি দেওয়া বিশালকায় কাঁঠালগুলো যেন প্রকৃতির এক অমূল্য উপহার। মজার বিষয় হলো, এসব এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে বড় কোনো বাগান তেমন একটা নজরে না পড়লেও প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় ও ভিটায় রয়েছে কাঁঠাল গাছের উপস্থিতি। বাড়ির পাশে সযত্নে বেড়ে ওঠা এসব গাছ এখন ফলবতী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই অঞ্চলের কাঁঠাল স্বাদে ও মানে অতুলনীয় হওয়ায় নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে তারা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও পাঠাচ্ছেন এই মধুমাসের উপহার।

বাঙালি আর কাঁঠালের সম্পর্ক যুগ-যুগান্তরের এক নিবিড় প্রেমের মতো। তপ্ত দুপুরে বাড়ির আঙিনায় পরিবারের সবাই মিলে বসে কাঁঠাল ভাঙার সেই চিরায়ত দৃশ্য আজও গ্রামবাংলার মানুষকে স্মৃতিকাতর করে। কেরানীগঞ্জের আঁটি বাজারে কাঁঠাল কিনতে আসা এক বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রেতা স্মিত হেসে বলেন, "এই গন্ধটা পেলেই মনে হয় গ্রীষ্ম কেবল কষ্ট দেয় না, আমাদের পরম তৃপ্তিও দেয়"।

আসলে আম-কাঁঠালের এই উৎসব কেবল উদরপূর্তি নয়, এটি আমাদের শিকড়ের টান আর শৈশবের অতীত বিধুরতার এক অনন্য মেলবন্ধন। দাবদাহের ক্লান্তি মুছে দিয়ে কাঁঠালের এই রাজকীয় উপস্থিতি দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের জনজীবনে নিয়ে এসেছে অঘোষিত এক উৎসবের ছোঁয়া। মধুমাসের এই মিষ্টি সুবাসে মজেছে মানুষের মন। রোদের প্রখরতা ছাপিয়ে দিনশেষে জয় হয়েছে প্রকৃতির এই রসালো ভালোবাসার।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত