সরকারি বরাদ্দ থাকলেও বঞ্চিত খেলোয়াড়রা। ম্যাচ ফি থেকে যাতায়াত ও ন্যূনতম খাবার এবং প্রশ্নবিদ্ধ কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে সৈয়দপুরের ক্রীড়াঙ্গন।
জানা যায়, নতুন কুড়ি ক্রীড়া আসর পরিচালনায় দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় একযোগে সরকার বরাদ্দ দিয়েছেন ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা।
যা প্রতিটি উপজেলার জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ১৭ হাজার ১০০ টাকা। তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা খুদে মেধাবী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহনে উদ্বুদ্ধ করতে ৮ টি ইভেন্ট প্রচারের জন্য ১০ হাজার, খেলোয়াড়দের ভেন্যুতে ভ্রমনে যেতে ৩০ হাজার, ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়ে ৩০ হাজাট ও অনুষ্ঠান উতসবাদী বাবদ ৪৭ হাজার ১০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
দেখা গেছে, সৈয়দপুর যুব উন্নয়ন অফিস প্রাঙ্গণে দুটি ব্যানার ও একটি রেজিষ্ট্রেশন বুধ বসিয়ে প্রচার কার্য চালিয়ে গেছেন। সাথে স্কুলগুলোকে অবহিত করে প্রচারের দায় পালন করেন। কেনা হয়নি খেলার কোন সরঞ্জাম। ভ্রমণ ভাতা ব্যায় মেটানো হয়নি সাথে কোন উতসব হয়নি।
এ আসরের ম্যাচে অংশ নিতে প্রতি খেলায়াড়, কোচ ও ম্যানেজার কে ৫ শত টাকা প্রদান করা হয় জেলা ক্রীড়া অফিসের মাধ্যমে। ওই টাকা থেকে
ওই টাকা থেকে তাদেরকে সবকিছু মেটানো হয়েছে।
যা অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ২ এপ্রিল বিকালে সিলেট স্টেডিয়ামে মাননিয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুড়ি ক্রীড়া আসর উদ্বোধন করেন। বালক ও বালিকাদের দুই খেলা অনুষ্ঠিত হয় নীলফামারী আন্তর্জাতিক জেলা স্টেডিয়ামে। ওই দিনের খেলায় অংশ নিতে সৈয়দপুর থেকে বাস নেয়া হয় ৫ হাজার টাকা ভাড়ায়। খেলোয়াড় ১৮ জন ও কোচ ম্যানেজার মিলে ২০ জনের বালক ও বালিকাদের স্কোয়াডটির ৪০ সদস্য ছাড়াও অতিরিক্ত ১০ কর্মকর্তা বহরে যুক্ত হয়ে সফরে যান।
সেখানে ক্ষুধার্থ খেলোয়াড়দের ১ টি কলা ও ১ টি ১০ টাকা মুল্যের রুটি দেওয়া হয়। ওখান থেকে অন্যন্যদের দেয়া হয় ওই নাস্তা। পরে এ সবের মুল্য ও যাতায়াত ভাড়া পরিশোধ করা হয় জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে পাওয়া প্রতিজন খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফি ৫ শত টাকা থেকে। খেলোয়াড়দের দেওয়া হশ ৩ শত টাকা। পরের দিন বালক ও বালিকা দলের ক্রিকেট ম্যাচে ৩২ জনের বহরের খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যানেজারের টাকা কর্তন করা হয়। এ নিয়ে দলটির কোচ মোখতার সিদ্দিকী ও ম্যানেজার আঃ সালাম সৈয়দপুর পৌরসভায় গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতিহা তাকমিলাকে অভিযোগ দেন।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক বলেন, এই অবশিষ্ট টাকা পরে খেলোয়াড়দের দেওয়া হবে।
তবে একটি রুটি ও একটি কলা। প্রচণ্ড তাপদাহে দীর্ঘ সময় খেলার পর এই সামান্য খাবার যে একজন কিশোরের জন্য পর্যাপ্ত নয়, তা বলাই বাহুল্য।
সৈয়দপুর উপজেলা কারাতে দলের ম্যানেজার এহতেশামুল হক সানি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
সরকার যখন সব দিচ্ছে, তখন কম দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। যদিও পরে দেয়ার নিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খেলোয়াড়ের কণ্ঠে ফুটে ওঠে মাঠের বাস্তবতা, খেলতে গিয়ে শরীর ভেঙে যাচ্ছে। কিন্তু খেলার পর ঠিকমতো খাওয়ার ব্যবস্থাও নেই। তাহলে আমরা কার জন্য খেলছি?
খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দকৃত ওই অর্থ থেকেই ২৭টি জার্সি অর্ডার দেওয়া হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৯ হাজার টাকা। অথচ খেলোয়াড়দের মৌলিক চাহিদা খাবার ও প্রাপ্য ভাতা সেটিই পূরণ হশনি।
কমিটি গঠনেও করা হয়েছে ‘পকেট সিন্ডিকেট’?
নীতিমালা অনুযায়ী ২৭ সদস্যের কমিটিতে ৮ জন ক্রীড়ানুরাগী থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক দিয়ে কমিটি পূরণ করা হয়েছে। এতে জাতীয় পর্যায়ে খেলা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাবেক ফুটবলার মো. আব্দুল হান্নান বলেন, আমি কায়সার হামিদ, আসলাম, সাব্বিরদের সঙ্গে খেলেছি। অথচ এখানে আমাদের কোনো মূল্য নেই। এইভাবে প্রতিভা খোঁজা সম্ভব নয়। স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে এই কমিটিকে অনেকেই ‘পকেট কমিটি’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
দায় এড়ানোর সুরে অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, “আমি নতুন। উপজেলা থেকে নাম নিয়ে কমিটি করেছি। ভবিষ্যতে এমন হবে না।
ম্যাচ ফি কর্তনের বিষয়ে তিনি দাবি করেন,
আমি নিজ পকেট থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ করেছি। উপজেলা প্রশাসন থেকে অর্থ না পেলে আমি কীভাবে দিতাম?
তবে এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রশ্ন সরকারি বরাদ্দ থাকলে ব্যক্তিগত খরচের প্রয়োজন কেন?
নতুন কুঁড়ি এ ক্রীড়া আসর হওয়ার কথা ছিল দেশের ভবিষ্যৎ তারকাদের খুঁজে বের করার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু সৈয়দপুরে সেই প্ল্যাটফর্মই এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
স্থানীয় খেলোয়াড় ও ক্রীড়ানুরাগীদের দাবি, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা এই উদ্যোগ হারাবে তার মূল লক্ষ্য।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতিহা তাকমিলা বলেন, খুব স্নল্প সময়ে করা হয়েছে। যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বিষয়গুলো দেখছেন। আর সরকারী ওই টাকা ভ্যাট ট্যাক্স বাদে অবশিষ্ট টাকা দিয়ে সরন্জাম ও খেলোয়াড়দের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
সরকারি বরাদ্দ থাকলেও বঞ্চিত খেলোয়াড়রা। ম্যাচ ফি থেকে যাতায়াত ও ন্যূনতম খাবার এবং প্রশ্নবিদ্ধ কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে সৈয়দপুরের ক্রীড়াঙ্গন।
জানা যায়, নতুন কুড়ি ক্রীড়া আসর পরিচালনায় দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় একযোগে সরকার বরাদ্দ দিয়েছেন ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা।
যা প্রতিটি উপজেলার জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ১৭ হাজার ১০০ টাকা। তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা খুদে মেধাবী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহনে উদ্বুদ্ধ করতে ৮ টি ইভেন্ট প্রচারের জন্য ১০ হাজার, খেলোয়াড়দের ভেন্যুতে ভ্রমনে যেতে ৩০ হাজার, ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়ে ৩০ হাজাট ও অনুষ্ঠান উতসবাদী বাবদ ৪৭ হাজার ১০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
দেখা গেছে, সৈয়দপুর যুব উন্নয়ন অফিস প্রাঙ্গণে দুটি ব্যানার ও একটি রেজিষ্ট্রেশন বুধ বসিয়ে প্রচার কার্য চালিয়ে গেছেন। সাথে স্কুলগুলোকে অবহিত করে প্রচারের দায় পালন করেন। কেনা হয়নি খেলার কোন সরঞ্জাম। ভ্রমণ ভাতা ব্যায় মেটানো হয়নি সাথে কোন উতসব হয়নি।
এ আসরের ম্যাচে অংশ নিতে প্রতি খেলায়াড়, কোচ ও ম্যানেজার কে ৫ শত টাকা প্রদান করা হয় জেলা ক্রীড়া অফিসের মাধ্যমে। ওই টাকা থেকে
ওই টাকা থেকে তাদেরকে সবকিছু মেটানো হয়েছে।
যা অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ২ এপ্রিল বিকালে সিলেট স্টেডিয়ামে মাননিয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুড়ি ক্রীড়া আসর উদ্বোধন করেন। বালক ও বালিকাদের দুই খেলা অনুষ্ঠিত হয় নীলফামারী আন্তর্জাতিক জেলা স্টেডিয়ামে। ওই দিনের খেলায় অংশ নিতে সৈয়দপুর থেকে বাস নেয়া হয় ৫ হাজার টাকা ভাড়ায়। খেলোয়াড় ১৮ জন ও কোচ ম্যানেজার মিলে ২০ জনের বালক ও বালিকাদের স্কোয়াডটির ৪০ সদস্য ছাড়াও অতিরিক্ত ১০ কর্মকর্তা বহরে যুক্ত হয়ে সফরে যান।
সেখানে ক্ষুধার্থ খেলোয়াড়দের ১ টি কলা ও ১ টি ১০ টাকা মুল্যের রুটি দেওয়া হয়। ওখান থেকে অন্যন্যদের দেয়া হয় ওই নাস্তা। পরে এ সবের মুল্য ও যাতায়াত ভাড়া পরিশোধ করা হয় জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে পাওয়া প্রতিজন খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফি ৫ শত টাকা থেকে। খেলোয়াড়দের দেওয়া হশ ৩ শত টাকা। পরের দিন বালক ও বালিকা দলের ক্রিকেট ম্যাচে ৩২ জনের বহরের খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যানেজারের টাকা কর্তন করা হয়। এ নিয়ে দলটির কোচ মোখতার সিদ্দিকী ও ম্যানেজার আঃ সালাম সৈয়দপুর পৌরসভায় গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতিহা তাকমিলাকে অভিযোগ দেন।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক বলেন, এই অবশিষ্ট টাকা পরে খেলোয়াড়দের দেওয়া হবে।
তবে একটি রুটি ও একটি কলা। প্রচণ্ড তাপদাহে দীর্ঘ সময় খেলার পর এই সামান্য খাবার যে একজন কিশোরের জন্য পর্যাপ্ত নয়, তা বলাই বাহুল্য।
সৈয়দপুর উপজেলা কারাতে দলের ম্যানেজার এহতেশামুল হক সানি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
সরকার যখন সব দিচ্ছে, তখন কম দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। যদিও পরে দেয়ার নিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খেলোয়াড়ের কণ্ঠে ফুটে ওঠে মাঠের বাস্তবতা, খেলতে গিয়ে শরীর ভেঙে যাচ্ছে। কিন্তু খেলার পর ঠিকমতো খাওয়ার ব্যবস্থাও নেই। তাহলে আমরা কার জন্য খেলছি?
খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দকৃত ওই অর্থ থেকেই ২৭টি জার্সি অর্ডার দেওয়া হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৯ হাজার টাকা। অথচ খেলোয়াড়দের মৌলিক চাহিদা খাবার ও প্রাপ্য ভাতা সেটিই পূরণ হশনি।
কমিটি গঠনেও করা হয়েছে ‘পকেট সিন্ডিকেট’?
নীতিমালা অনুযায়ী ২৭ সদস্যের কমিটিতে ৮ জন ক্রীড়ানুরাগী থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক দিয়ে কমিটি পূরণ করা হয়েছে। এতে জাতীয় পর্যায়ে খেলা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাবেক ফুটবলার মো. আব্দুল হান্নান বলেন, আমি কায়সার হামিদ, আসলাম, সাব্বিরদের সঙ্গে খেলেছি। অথচ এখানে আমাদের কোনো মূল্য নেই। এইভাবে প্রতিভা খোঁজা সম্ভব নয়। স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে এই কমিটিকে অনেকেই ‘পকেট কমিটি’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
দায় এড়ানোর সুরে অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, “আমি নতুন। উপজেলা থেকে নাম নিয়ে কমিটি করেছি। ভবিষ্যতে এমন হবে না।
ম্যাচ ফি কর্তনের বিষয়ে তিনি দাবি করেন,
আমি নিজ পকেট থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ করেছি। উপজেলা প্রশাসন থেকে অর্থ না পেলে আমি কীভাবে দিতাম?
তবে এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রশ্ন সরকারি বরাদ্দ থাকলে ব্যক্তিগত খরচের প্রয়োজন কেন?
নতুন কুঁড়ি এ ক্রীড়া আসর হওয়ার কথা ছিল দেশের ভবিষ্যৎ তারকাদের খুঁজে বের করার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু সৈয়দপুরে সেই প্ল্যাটফর্মই এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
স্থানীয় খেলোয়াড় ও ক্রীড়ানুরাগীদের দাবি, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা এই উদ্যোগ হারাবে তার মূল লক্ষ্য।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতিহা তাকমিলা বলেন, খুব স্নল্প সময়ে করা হয়েছে। যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বিষয়গুলো দেখছেন। আর সরকারী ওই টাকা ভ্যাট ট্যাক্স বাদে অবশিষ্ট টাকা দিয়ে সরন্জাম ও খেলোয়াড়দের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন