শ্রমিকদের রক্তে ফ্যাসিবাদের পতন ত্বরান্বিত হয়েছে— বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের বড়ো অংশই শ্রমজীবী মানুষ।ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা উৎখাতে তারাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শুক্রবার (১লা মে) চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বাংলাদেশে শ্রমিকদের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। দেশের অর্থনীতি গড়ে তুলতে শ্রমিকদের রক্ত-ঘামই প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে শ্রমিকরা জীবন দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের বড়ো অংশই শ্রমজীবী মানুষ। বিপ্লবের পর আমরা সুশাসনের প্রত্যাশা করেছিলাম, কিন্তু বর্তমান সরকার দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।” তিনি জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় শ্রমিকরা নতুন আন্দোলনে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার দেশকে বহু বছর পিছিয়ে দিয়েছে। সরকারি কলকারখানা বন্ধ করে লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে বেকার করেছে এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।”
তিনি বলেন, শ্রমিকদের বাদ দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয় এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নই হতে হবে মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের কলকারখানার কর্মপরিবেশ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ছাত্রদের শুরু করা আন্দোলন শ্রমিকদের অংশগ্রহণেই সফল হয়েছে এবং নিহত-আহতদের অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ।
সমাবেশে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চসিক মেয়র পদপ্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, ইসলামী শ্রমনীতিতে শ্রমিকের সততা ও আমানতদারিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মালিকের দায়িত্ব শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চসিক মেয়র পদপ্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী, বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এএম নাজিম উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার এবং বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস কে খোদা তোতন।
বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস কে খোদা তোতন বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা পেনশন সুবিধা পেলেও অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকরা বঞ্চিত। তিনি সকল শ্রমিকের জন্য পেনশন স্কিম ও রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।
শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই। তিনি বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ফেডারেশন অতীতের চেয়ে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে এবং শ্রমিকস্বার্থবিরোধী কোনো আপস করা হবে না। সমাবেশে নগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী ও সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী ও ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম। সমাবেশে বিভিন্ন সেক্টর ও নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোতোয়ালী থানার সেক্রেটারি মোস্তাক আহমদ, নগর ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক স. ম. শামীম, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক ও পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
শ্রমিকদের রক্তে ফ্যাসিবাদের পতন ত্বরান্বিত হয়েছে— বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের বড়ো অংশই শ্রমজীবী মানুষ।ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা উৎখাতে তারাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শুক্রবার (১লা মে) চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বাংলাদেশে শ্রমিকদের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। দেশের অর্থনীতি গড়ে তুলতে শ্রমিকদের রক্ত-ঘামই প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে শ্রমিকরা জীবন দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের বড়ো অংশই শ্রমজীবী মানুষ। বিপ্লবের পর আমরা সুশাসনের প্রত্যাশা করেছিলাম, কিন্তু বর্তমান সরকার দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।” তিনি জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় শ্রমিকরা নতুন আন্দোলনে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার দেশকে বহু বছর পিছিয়ে দিয়েছে। সরকারি কলকারখানা বন্ধ করে লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে বেকার করেছে এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।”
তিনি বলেন, শ্রমিকদের বাদ দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয় এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নই হতে হবে মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের কলকারখানার কর্মপরিবেশ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ছাত্রদের শুরু করা আন্দোলন শ্রমিকদের অংশগ্রহণেই সফল হয়েছে এবং নিহত-আহতদের অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ।
সমাবেশে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চসিক মেয়র পদপ্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, ইসলামী শ্রমনীতিতে শ্রমিকের সততা ও আমানতদারিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মালিকের দায়িত্ব শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চসিক মেয়র পদপ্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী, বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এএম নাজিম উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার এবং বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস কে খোদা তোতন।
বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস কে খোদা তোতন বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা পেনশন সুবিধা পেলেও অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকরা বঞ্চিত। তিনি সকল শ্রমিকের জন্য পেনশন স্কিম ও রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।
শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই। তিনি বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ফেডারেশন অতীতের চেয়ে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে এবং শ্রমিকস্বার্থবিরোধী কোনো আপস করা হবে না। সমাবেশে নগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী ও সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী ও ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম। সমাবেশে বিভিন্ন সেক্টর ও নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোতোয়ালী থানার সেক্রেটারি মোস্তাক আহমদ, নগর ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক স. ম. শামীম, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক ও পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন