শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক সংগ্রামকে স্মরণ করে শুক্রবার (১ মে) সারাদেশের সাথে নীলফামারীতে পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস।
শ্রমের ঘাম, ত্যাগ ও দীর্ঘ আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস ধারণ করে দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে।
সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
দিবসটি বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের সাথে আজ ১ মে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত হচ্ছে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে৷ রেলওয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ভিন্ন ব্যানারে দিবসটি উদযাপন করা হয়। সকালে সৈয়দপুর শহরব্যাপী শোভাযাত্রা ও দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ করে। একই ভাবে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক খাশরুল বাশারের নেতৃত্বে শহরব্যাপী বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও শহীদ স্মৃতি অম্লান চত্ত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সমবেত হন। পরে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত সমাবেশস্থলে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন পেশার শ্রমিক, সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
খায়রুল বাশারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আবদুল মুনতাকিম।
তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকরা এখনও নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চনা, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং মৌলিক অধিকার না পাওয়ার মতো বিষয়গুলো এখনো বিদ্যমান। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিকদের সর্বোচ্চ অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। শ্রমিকদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৈয়দপুর উপজেলা শাখার নায়েবে আমির শফিকুল ইসলাম, পৌর আমির শরফুদ্দিন খান এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আ. মেমিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমিক সমাজ হলেও তারা আজও নানাভাবে বঞ্চিত। ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উন্নয়ন কখনোই পূর্ণতা পায় না।
দিনের শেষে মে দিবস আবারও মনে করিয়ে দেয়, সভ্যতার ভিত্তি গড়ে ওঠে শ্রমিকের ঘামে, আর সেই ঘামের মর্যাদা নিশ্চিত করাই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক সংগ্রামকে স্মরণ করে শুক্রবার (১ মে) সারাদেশের সাথে নীলফামারীতে পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস।
শ্রমের ঘাম, ত্যাগ ও দীর্ঘ আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস ধারণ করে দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে।
সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
দিবসটি বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের সাথে আজ ১ মে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত হচ্ছে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে৷ রেলওয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ভিন্ন ব্যানারে দিবসটি উদযাপন করা হয়। সকালে সৈয়দপুর শহরব্যাপী শোভাযাত্রা ও দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ করে। একই ভাবে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক খাশরুল বাশারের নেতৃত্বে শহরব্যাপী বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও শহীদ স্মৃতি অম্লান চত্ত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সমবেত হন। পরে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত সমাবেশস্থলে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন পেশার শ্রমিক, সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
খায়রুল বাশারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আবদুল মুনতাকিম।
তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকরা এখনও নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চনা, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং মৌলিক অধিকার না পাওয়ার মতো বিষয়গুলো এখনো বিদ্যমান। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিকদের সর্বোচ্চ অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। শ্রমিকদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৈয়দপুর উপজেলা শাখার নায়েবে আমির শফিকুল ইসলাম, পৌর আমির শরফুদ্দিন খান এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আ. মেমিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমিক সমাজ হলেও তারা আজও নানাভাবে বঞ্চিত। ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উন্নয়ন কখনোই পূর্ণতা পায় না।
দিনের শেষে মে দিবস আবারও মনে করিয়ে দেয়, সভ্যতার ভিত্তি গড়ে ওঠে শ্রমিকের ঘামে, আর সেই ঘামের মর্যাদা নিশ্চিত করাই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

আপনার মতামত লিখুন