ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

নবাবগঞ্জে ভুয়া সনদে ২০ বছর চাকরি করার অভিযোগ

নবাবগঞ্জে ভুয়া সনদে ২০ বছর চাকরি করার অভিযোগ

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা এনটিআরসির ভুয়া নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ  ২০ বছর ধরে চাকরি করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা জাল নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ পান এবং দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিদর্শনে তার সনদ জাল বলে ধরা পড়ে। পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগের প্রতিবেদনে উক্ত শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদটি ভুয়া বলে উল্লেখ করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে ওই প্রতিবেদনের পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রেবেকা সুলতানা ২০০৬ সালে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে এই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পান।

এদিকে সহকারী শিক্ষক মোসা. রেবেকা সুলতানার শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য ২১/০৯/২০২২ তারিখে স্মারক নং-৩৭.১৯.০০০০.০৩৬.১৬.০৫৪.২২.৫৬ মোতাবেক এনটিআরসিএ বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ২৬/০৯/২০২২ তারিখে স্মারক নং-৩৭.০৫.০০০০.০১০.০৫.০০১.২০/৯২৪ অনুযায়ী এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, তার সনদটি সঠিক নয়। ফলে তার নিয়োগ বিধি সম্মত হয়নি এবং তিনি সরকারি বেতন-ভাতার জন্য প্রাপ্য নন। এছাড়া ২৩/০৯/২০০৬ থেকে ৩০/১১/২০১৯ পর্যন্ত সময়ে তার গ্রহণ করা মোট ১৪,৪০,৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা বলেন, তিনি নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়েছেন এবং সনদও পেয়েছেন। অডিট প্রতিবেদনে কেন তার সনদকে জাল বলা হয়েছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি পুনরায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদটি জাল বা ভুয়া বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক বলেন, জাল সনদের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন, তবে তার দপ্তরে এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কপি এখনো পৌঁছায়নি। সাধারণত এসব কপি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে আসে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অনুলিপি দেওয়া হয়। তিনি বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সঠিকভাবে তদন্ত করে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মোঃ আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদ জাল বা ভুয়া হওয়ার অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


নবাবগঞ্জে ভুয়া সনদে ২০ বছর চাকরি করার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা এনটিআরসির ভুয়া নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ  ২০ বছর ধরে চাকরি করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা জাল নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ পান এবং দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিদর্শনে তার সনদ জাল বলে ধরা পড়ে। পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগের প্রতিবেদনে উক্ত শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদটি ভুয়া বলে উল্লেখ করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে ওই প্রতিবেদনের পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রেবেকা সুলতানা ২০০৬ সালে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে এই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পান।

এদিকে সহকারী শিক্ষক মোসা. রেবেকা সুলতানার শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য ২১/০৯/২০২২ তারিখে স্মারক নং-৩৭.১৯.০০০০.০৩৬.১৬.০৫৪.২২.৫৬ মোতাবেক এনটিআরসিএ বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ২৬/০৯/২০২২ তারিখে স্মারক নং-৩৭.০৫.০০০০.০১০.০৫.০০১.২০/৯২৪ অনুযায়ী এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, তার সনদটি সঠিক নয়। ফলে তার নিয়োগ বিধি সম্মত হয়নি এবং তিনি সরকারি বেতন-ভাতার জন্য প্রাপ্য নন। এছাড়া ২৩/০৯/২০০৬ থেকে ৩০/১১/২০১৯ পর্যন্ত সময়ে তার গ্রহণ করা মোট ১৪,৪০,৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা বলেন, তিনি নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়েছেন এবং সনদও পেয়েছেন। অডিট প্রতিবেদনে কেন তার সনদকে জাল বলা হয়েছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি পুনরায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদটি জাল বা ভুয়া বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক বলেন, জাল সনদের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন, তবে তার দপ্তরে এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কপি এখনো পৌঁছায়নি। সাধারণত এসব কপি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে আসে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অনুলিপি দেওয়া হয়। তিনি বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সঠিকভাবে তদন্ত করে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মোঃ আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদ জাল বা ভুয়া হওয়ার অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত