ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

টাকা না দিলে মেলে না ভাতা : মেম্বার মিনারার হাতে জিম্মি অসহায় মানুষ

টাকা না দিলে মেলে না ভাতা : মেম্বার মিনারার হাতে জিম্মি অসহায় মানুষ

পটুয়াখালীর মহিপুরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের সরকারি সহায়তার টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক নারী জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সদস্য মিনারা বেগমের বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং সরকারি পানির ট্যাংক পাইয়ে দেওয়ার নামে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিনারা বেগম ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নাম করে অসহায় মানুষের কাছ থেকে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন। টাকা নিয়েও মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও কার্ড পাননি ভুক্তভোগীরা। তার এই প্রতারণার জাল থেকে রেহাই পায়নি ৮০ বছর বয়সী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধও।

নিজামপুর গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ আঃ গনি খাঁ ক্ষোভের সাথে জানান, অনেক আগে তার নাম নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তিনি কোনো সরকারি ভাতা পাননি। তার স্ত্রী অভিযোগ করেন, বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য মিনারা বেগম দেড় হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। অভাবের সংসারে ধার-দেনা করে এক হাজার টাকা দিলেও কোনো কার্ড মেলেনি, উপরন্তু সেই টাকাও আর ফেরত পাওয়া যায়নি।

একই গ্রামের ভুক্তভোগী আকিমুন বেগম বলেন, "আমাকে বয়স্ক ভাতা দেওয়ার কথা বলে মিনারা মেম্বার দুই হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত ভাতার দেখা পাইনি। টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা টালবাহানা করেন এবং হুমকি-ধমকি দেন।"

স্বামীর মৃত্যুর পর মানবেতর জীবনযাপন করা জাহেদা খাতুনের অভিযোগ আরও মর্মান্তিক। তিনি জানান, বিধবা ভাতার জন্য তার কাছে দুই হাজার টাকা চেয়েছিলেন মিনারা বেগম। টাকা দিতে না পারায় তাকে আর ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সরেজমিনে তদন্তকালে নিজামপুর গ্রামের এখলাস ফকির জানান, মিনারা বেগম তার স্ত্রীকেও বয়স্ক ভাতা পেতে চাইলে দুই হাজার টাকা দিতে হবে বলে সরাসরি প্রস্তাব দেন। একই সাথে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেন।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র ভাতার কার্ড নয়, সরকারি ত্রাণ সামগ্রী, পানির ট্যাংক, টিউবওয়েল এবং পাকা টয়লেট দেওয়ার নাম করেও ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন এই জনপ্রতিনিধি। অসহায় মানুষের দারিদ্র্যকে পুঁজি করে এমন জালিয়াতি ও প্রতারণায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মিনারা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, "আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার জন্য একটি চক্র এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।"

তবে মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. ফজলু গাজী জানান, এখন পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়েছেন। অভিযোগ পেলে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অসহায় মানুষের হক আত্মসাৎকারী এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


টাকা না দিলে মেলে না ভাতা : মেম্বার মিনারার হাতে জিম্মি অসহায় মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর মহিপুরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের সরকারি সহায়তার টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক নারী জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সদস্য মিনারা বেগমের বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং সরকারি পানির ট্যাংক পাইয়ে দেওয়ার নামে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিনারা বেগম ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নাম করে অসহায় মানুষের কাছ থেকে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন। টাকা নিয়েও মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও কার্ড পাননি ভুক্তভোগীরা। তার এই প্রতারণার জাল থেকে রেহাই পায়নি ৮০ বছর বয়সী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধও।

নিজামপুর গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ আঃ গনি খাঁ ক্ষোভের সাথে জানান, অনেক আগে তার নাম নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তিনি কোনো সরকারি ভাতা পাননি। তার স্ত্রী অভিযোগ করেন, বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য মিনারা বেগম দেড় হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। অভাবের সংসারে ধার-দেনা করে এক হাজার টাকা দিলেও কোনো কার্ড মেলেনি, উপরন্তু সেই টাকাও আর ফেরত পাওয়া যায়নি।

একই গ্রামের ভুক্তভোগী আকিমুন বেগম বলেন, "আমাকে বয়স্ক ভাতা দেওয়ার কথা বলে মিনারা মেম্বার দুই হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত ভাতার দেখা পাইনি। টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা টালবাহানা করেন এবং হুমকি-ধমকি দেন।"

স্বামীর মৃত্যুর পর মানবেতর জীবনযাপন করা জাহেদা খাতুনের অভিযোগ আরও মর্মান্তিক। তিনি জানান, বিধবা ভাতার জন্য তার কাছে দুই হাজার টাকা চেয়েছিলেন মিনারা বেগম। টাকা দিতে না পারায় তাকে আর ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সরেজমিনে তদন্তকালে নিজামপুর গ্রামের এখলাস ফকির জানান, মিনারা বেগম তার স্ত্রীকেও বয়স্ক ভাতা পেতে চাইলে দুই হাজার টাকা দিতে হবে বলে সরাসরি প্রস্তাব দেন। একই সাথে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেন।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র ভাতার কার্ড নয়, সরকারি ত্রাণ সামগ্রী, পানির ট্যাংক, টিউবওয়েল এবং পাকা টয়লেট দেওয়ার নাম করেও ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন এই জনপ্রতিনিধি। অসহায় মানুষের দারিদ্র্যকে পুঁজি করে এমন জালিয়াতি ও প্রতারণায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মিনারা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, "আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার জন্য একটি চক্র এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।"

তবে মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. ফজলু গাজী জানান, এখন পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়েছেন। অভিযোগ পেলে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অসহায় মানুষের হক আত্মসাৎকারী এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত