ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

কুমিল্লায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: কয়েকটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

কুমিল্লায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: কয়েকটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: কয়েকটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

‎কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই দফা কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমিন। বিদ্যুতের পিলার ভেঙ্গেপড়াসহ বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার ৪২৯টি গ্রামের জনপদ।

সোমবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই রয়েছে অধিকাংশ এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, খামার, ফসলি জমির মাঠ, উপড়ে পড়েছে গাছপালা।

‎‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা পৌনে আটটায় শুরু হয় কালবৈশাখীর তান্ডব। এ সময় ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয় প্রবলভাবে। ভেঙে পড়ে বিভিন্ন টিনের ঘর, গাছপালা। আঞ্চলিক সড়কগুলোতে গাছ উপড়ে পড়ায় চলাচল বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কিং সেবা। এরপর সোমবার ভোরে আবারও শুরু হয় কালবৈশাখীর ঝড়। তীব্র বাতাশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় শাকসবজি, ধান ও বিভিন্ন ফসলের মাঠ। এক কথায়, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার তের ইউনিয়নের ৪২৯টি গ্রামের অধিকাংশ এলাকায় মানুষ কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

‎

‎মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, বেশ কয়েকটি ক্ষেতের আধা পাকা ধান কালবৈশাখী ঝড়ে নূয়ে পড়েছে। এতে আমার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসল ঘরে তুলতে শ্রমিকের ব্যয় বেড়ে যাবে।

‎

‎বাতিসা ইউনিয়নের পাটানন্দী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত খামারী জিয়াউল হক সবুজ বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে টিনশেড মুরগীর খামারটি পুরোপুরি ভেঙে যায়। এতে দশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

‎

‎কাশিনগর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক আবু মিয়া বলেন, রোববার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে আমার কৃষি ক্ষেতের সব ধান নুয়ে পড়েছে। এবার ভালোভাবে ফলন তুলতে পারবো কি না জানিনা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতায় সরকারের এগিয়ে আসা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

‎

‎বিকাশ দোকানী সাদ্দাম হোসেন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় মানুষের টাকা লেনদেন করা সম্ভব হয়নি। এতে অনেকে জরুরী সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

‎চৌদ্দগ্রাম পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী ওহিদুর রহমান বলেন, রাতে ঝড়ের পর থেকে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাতভর বিরতিহীন চেষ্টায় লাইনগুলো সচল করা হচ্ছে।

‎

চৌদ্দগ্রাম জোনাল অফিসের ডিজিএম নুরুজ্জামান নুর বলেন, আমাদের ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গত রাতে (বোরবার) কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ লাইনগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত উপজেলা ৫০ ভাগ লাইন সচল করা হয়েছে। রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বাকী লাইনগুলো সচল করার কাজ চলবে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


কুমিল্লায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: কয়েকটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

‎কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই দফা কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমিন। বিদ্যুতের পিলার ভেঙ্গেপড়াসহ বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার ৪২৯টি গ্রামের জনপদ।

সোমবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই রয়েছে অধিকাংশ এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, খামার, ফসলি জমির মাঠ, উপড়ে পড়েছে গাছপালা।

‎‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা পৌনে আটটায় শুরু হয় কালবৈশাখীর তান্ডব। এ সময় ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয় প্রবলভাবে। ভেঙে পড়ে বিভিন্ন টিনের ঘর, গাছপালা। আঞ্চলিক সড়কগুলোতে গাছ উপড়ে পড়ায় চলাচল বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কিং সেবা। এরপর সোমবার ভোরে আবারও শুরু হয় কালবৈশাখীর ঝড়। তীব্র বাতাশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় শাকসবজি, ধান ও বিভিন্ন ফসলের মাঠ। এক কথায়, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার তের ইউনিয়নের ৪২৯টি গ্রামের অধিকাংশ এলাকায় মানুষ কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

‎

‎মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, বেশ কয়েকটি ক্ষেতের আধা পাকা ধান কালবৈশাখী ঝড়ে নূয়ে পড়েছে। এতে আমার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসল ঘরে তুলতে শ্রমিকের ব্যয় বেড়ে যাবে।

‎

‎বাতিসা ইউনিয়নের পাটানন্দী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত খামারী জিয়াউল হক সবুজ বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে টিনশেড মুরগীর খামারটি পুরোপুরি ভেঙে যায়। এতে দশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

‎

‎কাশিনগর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক আবু মিয়া বলেন, রোববার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে আমার কৃষি ক্ষেতের সব ধান নুয়ে পড়েছে। এবার ভালোভাবে ফলন তুলতে পারবো কি না জানিনা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতায় সরকারের এগিয়ে আসা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

‎

‎বিকাশ দোকানী সাদ্দাম হোসেন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় মানুষের টাকা লেনদেন করা সম্ভব হয়নি। এতে অনেকে জরুরী সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।


‎চৌদ্দগ্রাম পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী ওহিদুর রহমান বলেন, রাতে ঝড়ের পর থেকে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাতভর বিরতিহীন চেষ্টায় লাইনগুলো সচল করা হচ্ছে।

‎

চৌদ্দগ্রাম জোনাল অফিসের ডিজিএম নুরুজ্জামান নুর বলেন, আমাদের ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গত রাতে (বোরবার) কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ লাইনগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত উপজেলা ৫০ ভাগ লাইন সচল করা হয়েছে। রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বাকী লাইনগুলো সচল করার কাজ চলবে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত