ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে দেওয়া হলো কিলঘুষি

কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে দেওয়া হলো কিলঘুষি

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে অধ্যক্ষ মো. নূর সাখাওয়াত হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় তাকে তার কার্যালয় থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনে হামলাকারীরা। পরে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দুজনকে দায়ী করেছেন ভুক্তভোগী এই শিক্ষক। অভিযুক্তরা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজে উপস্থিত হয়ে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এসময় এলাকার আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক অতর্কিতভাবে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং তারা অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় অধ্যক্ষকে গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে অধ্যক্ষের উপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এসময় অধ্যক্ষকে টেনেহিঁচড়ে অফিস কক্ষ থেকে বের করে বারান্দায় এনে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকে হামলাকারীরা। হট্টগোলের শব্দে কলেজের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা অধ্যক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

ঘটনার পর থেকে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এলাকার আমজাদ হোসেন ও নাজমুল হোসেন বাদলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অফিস কক্ষে ঢুকে আমার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা আমার ওপর হামলা চালায়। এসময় কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীগণ এগিয়ে আসতে থাকলে সন্ত্রাসীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ব্যাপারে রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’

এদিকে ঘটনার এ ঘটনার ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, কয়েকজন নূর সাখাওয়াত হোসেনের কোমরের অংশের প্যান্টে ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাদের ‘না করছিলাম না’, ‘ধর’ বলতে শোনা যায়।

অভিযুক্ত নাজমুল আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং আমজাদ হোসেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে আছেন।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেনকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে। ওই মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ ছিল, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক ও তার সমর্থকেরা মানববন্ধনে হামলা চালান। ওই ঘটনার ফুটেজ সাংবাদিকরা সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে একাধিকবার মুঠোফোনে ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি আমজাদ হোসেন।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে এ ঘটনায় জানতে চাইলে আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি আজকের এই ঘটনায় কিছুই জানি না। আমি ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। এলাকার কেউ গিয়েছে কি না, জানি না।’

রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে দেওয়া হলো কিলঘুষি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে অধ্যক্ষ মো. নূর সাখাওয়াত হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় তাকে তার কার্যালয় থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনে হামলাকারীরা। পরে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দুজনকে দায়ী করেছেন ভুক্তভোগী এই শিক্ষক। অভিযুক্তরা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজে উপস্থিত হয়ে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এসময় এলাকার আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক অতর্কিতভাবে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং তারা অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় অধ্যক্ষকে গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে অধ্যক্ষের উপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এসময় অধ্যক্ষকে টেনেহিঁচড়ে অফিস কক্ষ থেকে বের করে বারান্দায় এনে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকে হামলাকারীরা। হট্টগোলের শব্দে কলেজের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা অধ্যক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

ঘটনার পর থেকে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এলাকার আমজাদ হোসেন ও নাজমুল হোসেন বাদলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অফিস কক্ষে ঢুকে আমার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা আমার ওপর হামলা চালায়। এসময় কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীগণ এগিয়ে আসতে থাকলে সন্ত্রাসীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ব্যাপারে রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’

এদিকে ঘটনার এ ঘটনার ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, কয়েকজন নূর সাখাওয়াত হোসেনের কোমরের অংশের প্যান্টে ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাদের ‘না করছিলাম না’, ‘ধর’ বলতে শোনা যায়।

অভিযুক্ত নাজমুল আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং আমজাদ হোসেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে আছেন।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেনকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে। ওই মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ ছিল, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক ও তার সমর্থকেরা মানববন্ধনে হামলা চালান। ওই ঘটনার ফুটেজ সাংবাদিকরা সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে একাধিকবার মুঠোফোনে ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি আমজাদ হোসেন।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে এ ঘটনায় জানতে চাইলে আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি আজকের এই ঘটনায় কিছুই জানি না। আমি ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। এলাকার কেউ গিয়েছে কি না, জানি না।’

রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত