ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

মিথ্যা মামলায় ৯৪ দিন কারাবাস : বাবার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে শেষ বিদায়

মিথ্যা মামলায় ৯৪ দিন কারাবাস :  বাবার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে শেষ বিদায়
ছবিতে নব্বই দশকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের রোষানলে সব থেকে বেশী ও হৃদয়বিদারক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন  সৈয়দপুর জেলা বিএনপির  সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু।

‎জেল গেট থেকে আটকানো, রাতভর ওসির রুমে নির্মম প্রহার ও  পিতাকে শেষ বিদায় জানাতে ৪ ঘন্টার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দাফন করা।  যা আওয়ামী নির্যাতনের একটি গভীর দলিল।  বাংলা চলচ্চিত্রের রাজনৈতিক গল্পকেও হার মানিয়েছিল।

‎‎নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের পৌর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের নয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা, হাজি আবদুল্লাহর জ্যেষ্ঠ পুত্র পাপ্পু—স্থানীয় মানুষের কাছে এক দৃপ্ত ও পরিচিত মুখ। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় রাজনীতির প্রতিকূল সময়ের এক জীবন্ত সাক্ষী।

‎তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে। সৈয়দপুর ক্যান্টপাবলকিক স্কুলে ৩য় শ্রেনীতে পড়ার সময় খালখনন কর্মসূচি উদ্বোধনে আসেন রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার পরিদর্শনে আসেন। সেখানে রাস্ট্রপতিকে অভ্যার্থনা জানানোর সময় মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করেন। রাস্ট্রপতির স্নেহমাখা সেই স্পর্শ তার কচি মনকে আলোড়িত করে।  সেটিই তার রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তি হয়ে ওঠে। তিনি বুঝতে শিখেছিলেন—রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়বদ্ধতা।

‎কলেজ জীবন থেকেই তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে। স্কাউটিং, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাকে পরিণত করে এক দক্ষ সংগঠকে। ছাত্ররাজনীতির পথ ধরে তারেক রহমান-এর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত প্রথম কাউন্সিলে জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হওয়া ছিল তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

‎২০০২ সালে প্রথমবার পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে তিনি মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন। এরপর ২০১৫ ও ২০২১ সালে পুনর্নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করেন—এই আস্থা কেবল নির্বাচনের ফল নয়; এটি মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের গভীর প্রতিফলন।

‎কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ বেদনাময় ইতিহাস। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের রোষানলে পড়ে তার বিরুদ্ধে ১৬টি মিথ্যা নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়। বারবার গ্রেপ্তার ও নির্মম নির্যাতনে ৯৪ দিন কারাবাস করেন। তার প্রতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের পাষন্ড আচরন   তার জীবনকে সংগ্রামের প্রতীকে পরিণত করে।

‎ এক মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় পুনরায় আটক—স্বাধীনতার দুয়ারে দাঁড়িয়েও তাকে ফিরতে হয়েছে বন্দিত্বের অন্ধকারে।

‎এই নির্মম বাস্তবতার সবচেয়ে গভীর আঘাত আসে তার ব্যক্তিগত জীবনে। অসুস্থ পিতার পাশে থাকতে না পারার কষ্ট তাকে আজও তাড়িয়ে বেড়ায়।  তার বাড়িতে স্টেট নিউজের সাথে একান্ত আলোচনায় তার ওপর চালানো ফ্যাসিবাদ নেতাদের  স্টিম রোলার নিয়ে  স্মৃতিচারণ করা এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, আমার পিতাকে জীবিত অবস্থায় দেখতে দেয়নি। প্রতিটি মুহূর্তে তার আকুতি শুনতাম, কিন্তু শিকলবন্দি থাকার কারণে পাশে যেতে পারিনি। সেই ব্যথা কখনো মুছে যায় না।”

‎কারাগারের অন্ধকার কক্ষে কাটানো সেই দীর্ঘ রাতগুলো যেন সময়কেও হার মানাতো। একদিকে পিতার শেষ আহ্বান, অন্যদিকে শিকলবন্দি বাস্তবতা—এই নির্মম দ্বন্দ্ব তাকে প্রতিনিয়ত ভেঙে দিয়েছে, আবার নতুন করে গড়েও তুলেছে।

‎অবশেষে পিতার সঙ্গে দেখা—তাও নিথর দেহের সামনে। ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি, শনিবার, বাদ মাগরিব সৈয়দপুর রেলওয়ে অফিসার কলোনির ফাইভ স্টার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তার পিতার জানাজা। বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। কঠোর পুলিশি পাহারায়, ডান্ডাবেরী পরে উপস্থিত হন সেই জানাজায়।

‎হাজারো মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। কিন্তু সেই জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তিনি ছিলেন একা—এক শিকলবন্দি সন্তান, যার বুকভরা আর্তনাদ নীরবে ঝরে পড়ছিল অশ্রু হয়ে।

‎জানাজা শেষে পিতাকে কবরস্থ করে আবারও ফিরে যেতে হয় জেলখানায়। এই দৃশ্য শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; এটি এক নির্মম রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। একজন সন্তান তার পিতার শেষ মুহূর্তে পাশে থাকতে পারেনি—এই বেদনা আজও তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।

‎তবে ইতিহাসের নির্মমতা কখনো স্থায়ী হয়নি। তার ওপর চালানো নির্যাতনের ভার ছয় মাসও টিকিয়ে রাখতে পারেনি সেই শাসনব্যবস্থা। ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় তারা। মানুষের ক্ষোভ, প্রতিবাদ আর ন্যায়ের দাবি—সব মিলিয়ে এক সময় সেই দমন-পীড়নের দেয়াল ভেঙে পড়ে।

‎তবুও থেমে যাননি এরশাদ হোসেন পাপ্পু। বরং প্রতিটি আঘাত তাকে আরও দৃঢ় করেছে। আজও তিনি সৈয়দপুরের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। মেয়র হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে অপেক্ষায় আছেন।

‎তার পরিকল্পনা সুস্পষ্ট—রেল ও পৌরসভার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান, রেলওয়ে কারখানায় স্থানীয় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকে সম্পৃক্ত করা, আমদানি ব্যয় কমানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তার বিশ্বাস, এসব উদ্যোগ সৈয়দপুরকে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর শহরে পরিণত করবে।

‎দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। “৭১-এর চেতনা এবং ২৪-এর প্রত্যাশার সমন্বয়েই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ”—এই বিশ্বাসই তাকে পথ দেখায়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর আদর্শ এবং তারেক রহমান-এর ৩১ দফা তার কাছে একটি উন্নত রাষ্ট্রের রূপরেখা।

‎এরশাদ হোসেন পাপ্পু-এর জীবন তাই কেবল একজন নেতার গল্প নয়—এটি এক সময়ের নির্মম ইতিহাস, এক সন্তানের না বলা কান্না, এবং এক অদম্য মানুষের অনড় প্রত্যয়ের প্রতিচ্ছবি।

‎শিকল তার শরীরকে বেঁধেছিল, কিন্তু তার বিশ্বাসকে নয়। সেই বিশ্বাস নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেছেন—মানুষের জন্য, ন্যায়ের জন্য, এবং একটি মানবিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন বুকে ধারণ করে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


মিথ্যা মামলায় ৯৪ দিন কারাবাস : বাবার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে শেষ বিদায়

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের রোষানলে সব থেকে বেশী ও হৃদয়বিদারক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন  সৈয়দপুর জেলা বিএনপির  সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু।

‎জেল গেট থেকে আটকানো, রাতভর ওসির রুমে নির্মম প্রহার ও  পিতাকে শেষ বিদায় জানাতে ৪ ঘন্টার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দাফন করা।  যা আওয়ামী নির্যাতনের একটি গভীর দলিল।  বাংলা চলচ্চিত্রের রাজনৈতিক গল্পকেও হার মানিয়েছিল।

‎‎নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের পৌর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের নয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা, হাজি আবদুল্লাহর জ্যেষ্ঠ পুত্র পাপ্পু—স্থানীয় মানুষের কাছে এক দৃপ্ত ও পরিচিত মুখ। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় রাজনীতির প্রতিকূল সময়ের এক জীবন্ত সাক্ষী।

‎তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে। সৈয়দপুর ক্যান্টপাবলকিক স্কুলে ৩য় শ্রেনীতে পড়ার সময় খালখনন কর্মসূচি উদ্বোধনে আসেন রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার পরিদর্শনে আসেন। সেখানে রাস্ট্রপতিকে অভ্যার্থনা জানানোর সময় মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করেন। রাস্ট্রপতির স্নেহমাখা সেই স্পর্শ তার কচি মনকে আলোড়িত করে।  সেটিই তার রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তি হয়ে ওঠে। তিনি বুঝতে শিখেছিলেন—রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়বদ্ধতা।

‎কলেজ জীবন থেকেই তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে। স্কাউটিং, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাকে পরিণত করে এক দক্ষ সংগঠকে। ছাত্ররাজনীতির পথ ধরে তারেক রহমান-এর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত প্রথম কাউন্সিলে জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হওয়া ছিল তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

‎২০০২ সালে প্রথমবার পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে তিনি মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন। এরপর ২০১৫ ও ২০২১ সালে পুনর্নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করেন—এই আস্থা কেবল নির্বাচনের ফল নয়; এটি মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের গভীর প্রতিফলন।

‎কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ বেদনাময় ইতিহাস। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের রোষানলে পড়ে তার বিরুদ্ধে ১৬টি মিথ্যা নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়। বারবার গ্রেপ্তার ও নির্মম নির্যাতনে ৯৪ দিন কারাবাস করেন। তার প্রতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের পাষন্ড আচরন   তার জীবনকে সংগ্রামের প্রতীকে পরিণত করে।

‎ এক মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় পুনরায় আটক—স্বাধীনতার দুয়ারে দাঁড়িয়েও তাকে ফিরতে হয়েছে বন্দিত্বের অন্ধকারে।

‎এই নির্মম বাস্তবতার সবচেয়ে গভীর আঘাত আসে তার ব্যক্তিগত জীবনে। অসুস্থ পিতার পাশে থাকতে না পারার কষ্ট তাকে আজও তাড়িয়ে বেড়ায়।  তার বাড়িতে স্টেট নিউজের সাথে একান্ত আলোচনায় তার ওপর চালানো ফ্যাসিবাদ নেতাদের  স্টিম রোলার নিয়ে  স্মৃতিচারণ করা এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, আমার পিতাকে জীবিত অবস্থায় দেখতে দেয়নি। প্রতিটি মুহূর্তে তার আকুতি শুনতাম, কিন্তু শিকলবন্দি থাকার কারণে পাশে যেতে পারিনি। সেই ব্যথা কখনো মুছে যায় না।”

‎কারাগারের অন্ধকার কক্ষে কাটানো সেই দীর্ঘ রাতগুলো যেন সময়কেও হার মানাতো। একদিকে পিতার শেষ আহ্বান, অন্যদিকে শিকলবন্দি বাস্তবতা—এই নির্মম দ্বন্দ্ব তাকে প্রতিনিয়ত ভেঙে দিয়েছে, আবার নতুন করে গড়েও তুলেছে।

‎অবশেষে পিতার সঙ্গে দেখা—তাও নিথর দেহের সামনে। ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি, শনিবার, বাদ মাগরিব সৈয়দপুর রেলওয়ে অফিসার কলোনির ফাইভ স্টার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তার পিতার জানাজা। বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। কঠোর পুলিশি পাহারায়, ডান্ডাবেরী পরে উপস্থিত হন সেই জানাজায়।

‎হাজারো মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। কিন্তু সেই জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তিনি ছিলেন একা—এক শিকলবন্দি সন্তান, যার বুকভরা আর্তনাদ নীরবে ঝরে পড়ছিল অশ্রু হয়ে।

‎জানাজা শেষে পিতাকে কবরস্থ করে আবারও ফিরে যেতে হয় জেলখানায়। এই দৃশ্য শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; এটি এক নির্মম রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। একজন সন্তান তার পিতার শেষ মুহূর্তে পাশে থাকতে পারেনি—এই বেদনা আজও তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।

‎তবে ইতিহাসের নির্মমতা কখনো স্থায়ী হয়নি। তার ওপর চালানো নির্যাতনের ভার ছয় মাসও টিকিয়ে রাখতে পারেনি সেই শাসনব্যবস্থা। ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় তারা। মানুষের ক্ষোভ, প্রতিবাদ আর ন্যায়ের দাবি—সব মিলিয়ে এক সময় সেই দমন-পীড়নের দেয়াল ভেঙে পড়ে।

‎তবুও থেমে যাননি এরশাদ হোসেন পাপ্পু। বরং প্রতিটি আঘাত তাকে আরও দৃঢ় করেছে। আজও তিনি সৈয়দপুরের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। মেয়র হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে অপেক্ষায় আছেন।

‎তার পরিকল্পনা সুস্পষ্ট—রেল ও পৌরসভার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান, রেলওয়ে কারখানায় স্থানীয় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকে সম্পৃক্ত করা, আমদানি ব্যয় কমানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তার বিশ্বাস, এসব উদ্যোগ সৈয়দপুরকে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর শহরে পরিণত করবে।

‎দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। “৭১-এর চেতনা এবং ২৪-এর প্রত্যাশার সমন্বয়েই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ”—এই বিশ্বাসই তাকে পথ দেখায়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর আদর্শ এবং তারেক রহমান-এর ৩১ দফা তার কাছে একটি উন্নত রাষ্ট্রের রূপরেখা।

‎এরশাদ হোসেন পাপ্পু-এর জীবন তাই কেবল একজন নেতার গল্প নয়—এটি এক সময়ের নির্মম ইতিহাস, এক সন্তানের না বলা কান্না, এবং এক অদম্য মানুষের অনড় প্রত্যয়ের প্রতিচ্ছবি।

‎শিকল তার শরীরকে বেঁধেছিল, কিন্তু তার বিশ্বাসকে নয়। সেই বিশ্বাস নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেছেন—মানুষের জন্য, ন্যায়ের জন্য, এবং একটি মানবিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন বুকে ধারণ করে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত