ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

জ্বালানি তেলের সঙ্কটে স্থবির যমুনা চরের নৌ-চলাচল, বিপাকে মৎস্যজীবীরাও

জ্বালানি তেলের সঙ্কটে স্থবির যমুনা চরের নৌ-চলাচল, বিপাকে মৎস্যজীবীরাও

সিরাজগঞ্জের যমুনা চরবাসী ও মৎস্যজীবীরা চাহিদামত জ্বালানি তেল না পাওয়ায় কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। জেলার যমুনা নদী সংলগ্ন কাজীপুর, বেলকুচি, চৌহালি, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার প্রায় ২৬টি ইউনিয়নে ৫ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছেন। দৈনন্দিন প্রয়োজনের কারণে এ সব মানুষকে শহরে আসতে হয়, কিন্তু জ্বালানি তেল চাহিদামত না পাওয়ায় নৌকার মাঝিরা কম যাত্রী নিয়ে যাতায়ত করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়ত করছেন এবং নৌকার মাঝিরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

শনিবার দুপুরে শহরের বিএল স্কুল নৌকা ঘাটে দেখা যায়, রুপসা চর থেকে ৬ জন যাত্রী নিয়ে সিরাজগঞ্জ ঘাটে একটি নৌকা এসেছে। নৌকার যাত্রী মেছড়া ইউনিয়নের হাড়িবাঙ্গা গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, জমিতে সেচের জন্য ডিজেল প্রয়োজন, কিন্তু যাত্রী না থাকায় বাধ্য হয়ে ১ হাজার টাকায় নৌকা ভাড়া করতে হয়েছে। অথচ নৌকা ভাড়া প্রতি যাত্রীর জন্য ছিল মাত্র ৫০ টাকা।

নৌকার মাঝি জহুরুল ইসলাম জানান, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জ্বালানি তেল চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। পাম্পে গেলে তেল নেই, বাইরে থেকে কিনতে গেলে দাম অনেক বেশি। এই পরিস্থিতিতে নৌকা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।” সিরাজগঞ্জ থেকে নালিতা চরে যাতায়াতকারী নৌকার মাঝি জুয়েল বলেন, এই রুটে যেতে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়, অথচ যাত্রী মাত্র ১৬ জন। এত খরচ দিয়ে নৌকা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

নৌকার যাত্রী সাবিহা ও আবু সাইদ জানান, আগে নৌকার ভাড়া ১০০ টাকা ছিল, এখন তা ১৫০ টাকা। ফলে যাত্রীদের পাশাপাশি চরে উৎপাদিত ফসল ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনে বাড়তি খরচ দিতে হচ্ছে।

যমুনা নদীর মৎস্যজীবী চররায়পুর গ্রামের খোকন চৌধুরী বলেন, আমরা যমুনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। পাম্পে তেল নেওয়া যায় না, বাইরে থেকে কিনলে দাম বেশি। এই অবস্থায় অনেকেই মাছ ধরা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হচ্ছেন। আমি নিজে শহরে পুরানো কাপড় বিক্রি করছি।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


জ্বালানি তেলের সঙ্কটে স্থবির যমুনা চরের নৌ-চলাচল, বিপাকে মৎস্যজীবীরাও

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সিরাজগঞ্জের যমুনা চরবাসী ও মৎস্যজীবীরা চাহিদামত জ্বালানি তেল না পাওয়ায় কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। জেলার যমুনা নদী সংলগ্ন কাজীপুর, বেলকুচি, চৌহালি, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার প্রায় ২৬টি ইউনিয়নে ৫ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছেন। দৈনন্দিন প্রয়োজনের কারণে এ সব মানুষকে শহরে আসতে হয়, কিন্তু জ্বালানি তেল চাহিদামত না পাওয়ায় নৌকার মাঝিরা কম যাত্রী নিয়ে যাতায়ত করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়ত করছেন এবং নৌকার মাঝিরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

শনিবার দুপুরে শহরের বিএল স্কুল নৌকা ঘাটে দেখা যায়, রুপসা চর থেকে ৬ জন যাত্রী নিয়ে সিরাজগঞ্জ ঘাটে একটি নৌকা এসেছে। নৌকার যাত্রী মেছড়া ইউনিয়নের হাড়িবাঙ্গা গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, জমিতে সেচের জন্য ডিজেল প্রয়োজন, কিন্তু যাত্রী না থাকায় বাধ্য হয়ে ১ হাজার টাকায় নৌকা ভাড়া করতে হয়েছে। অথচ নৌকা ভাড়া প্রতি যাত্রীর জন্য ছিল মাত্র ৫০ টাকা।

নৌকার মাঝি জহুরুল ইসলাম জানান, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জ্বালানি তেল চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। পাম্পে গেলে তেল নেই, বাইরে থেকে কিনতে গেলে দাম অনেক বেশি। এই পরিস্থিতিতে নৌকা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।” সিরাজগঞ্জ থেকে নালিতা চরে যাতায়াতকারী নৌকার মাঝি জুয়েল বলেন, এই রুটে যেতে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়, অথচ যাত্রী মাত্র ১৬ জন। এত খরচ দিয়ে নৌকা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

নৌকার যাত্রী সাবিহা ও আবু সাইদ জানান, আগে নৌকার ভাড়া ১০০ টাকা ছিল, এখন তা ১৫০ টাকা। ফলে যাত্রীদের পাশাপাশি চরে উৎপাদিত ফসল ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনে বাড়তি খরচ দিতে হচ্ছে।

যমুনা নদীর মৎস্যজীবী চররায়পুর গ্রামের খোকন চৌধুরী বলেন, আমরা যমুনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। পাম্পে তেল নেওয়া যায় না, বাইরে থেকে কিনলে দাম বেশি। এই অবস্থায় অনেকেই মাছ ধরা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হচ্ছেন। আমি নিজে শহরে পুরানো কাপড় বিক্রি করছি।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত