উত্তরের কৃষিনির্ভর জনপদ রংপুরে অবশেষে স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে। “রংপুর সেচ সংকট, ১০ হাজার হেক্টর ইরি-বোরো চাষাবাদ হুমকিতে” শীর্ষক সংবাদটি ১ এপ্রিল বিডি স্টেড নিউজে প্রকাশের পর দ্রুতই নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিনের অবহেলা আর জটিলতার পর অবশেষে মেরামত করা হয়েছে তিস্তা সেচ প্রকল্পের রংপুর খালের জরাজীর্ণ ওই বাঁধ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল থেকে বিরতিহীনভাবে কাজ চালিয়ে মমিনপুর ইউনিয়ন দিয়ে প্রবাহিত খালের পশ্চিম পাশের বাঁধটি সংস্কার করা হয়। এতে খালের উভয় তীরবর্তী প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ পানির প্রবাহ সহজ হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প পরিচালক ও তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (,পুর) মো. মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, ওই বাঁধটি দীর্ঘ সময় ধরে জরাজীর্ণ ছিল। সেখানে বারবার মেরানত করা হলেও ভেঙে যায়। ওই অবস্থায় পানি ছেড়ে দিলে ঝুঁকি বাড়ত। তাই বাঁধটি মেরামতের পরই এখন সেচ ছাড়া হবে। সাথে বাঁধটি মনিটরিং টিম সর্বদা থাকবে। তিস্তা সেচ প্রকল্প পরিচালকের দ্রুত পদক্ষেপে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
কিছুদিন আগেও যেখানে অনিশ্চয়তায় ভর করেছিল পুরো ইরি-বোরো মৌসুম, সেখানে এখন নতুন করে আশার আলো জ্বলছে। জমি প্রস্তুত থাকলেও পানির অভাবে চারা রোপণ করতে না পারা কৃষকেরা আবারও মাঠে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন।
এর আগে গঙ্গাচড়ার খলেয়া ইউনিয়নের একটি রেগুলেটর সেচ ব্যবস্থার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। খালে পানি থাকা সত্ত্বেও ভাটির প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খলেয়া, মমিনপুর ও অতিরামপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে পানি পৌঁছাচ্ছিল না। শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে গেলে রেগুলেটরে পানি আটকে থাকত, ফলে সেচ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
কৃষকদের দুর্দশা তখন চরমে পৌঁছে। বিকল্প সেচ ব্যবস্থার অভাব, তেলের সংকটে শ্যালো মেশিন অচল হয়ে পড়া এবং গভীর নলকূপের সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে কৃষি কার্যক্রম প্রায় থমকে যায়। দুলাল মিয়া ও লিপি আক্তারের মতো অসংখ্য কৃষক পরিবার জীবিকার অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে থাকেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খালের ডাইক বা বাঁধগুলোর অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। ইঁদুরের গর্ত ও চোরা ভাঙনের কারণে পানি ছেড়ে দিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। তাই সাময়িকভাবে পানি প্রবাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
অবশেষে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হয়।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রবিউল আলম বলেন, বাঁধে মাটি ছিল না। তাই দুর্বল অংশগ শক্তিশালী করতে মাটি ভরাট করে জিও ব্যাগ প্রতিরোধক হিসাবে দেওয়া হয়েছে। এতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহে কোন ভাঙনের ঝুঁকি থাকবে না।
তবে স্থানীয়দের মতে, এই সংস্কার আপাতত স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান এখনো নিশ্চিত হয়নি। তারা বলছেন, পরিকল্পিত ও স্থায়ী উন্নয়ন ছাড়া প্রতিবছরই এমন সংকট ফিরে আসতে পারে। তারপরও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধটি সংস্কারে এ অন্চলের কৃষকেরা আশায় বুক বাঁধছেন। তাদের প্রত্যাশা—এই মেরামত শুধু সাময়িক স্বস্তি নয়, বরং একটি কার্যকর ও টেকসই সেচ ব্যবস্থার সূচনা। এতেই জীবন-জীবিকার নির্ভরতার সেচ পানিতে বোনা যাবে আগামী দিনের নিশ্চয়তা।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
উত্তরের কৃষিনির্ভর জনপদ রংপুরে অবশেষে স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে। “রংপুর সেচ সংকট, ১০ হাজার হেক্টর ইরি-বোরো চাষাবাদ হুমকিতে” শীর্ষক সংবাদটি ১ এপ্রিল বিডি স্টেড নিউজে প্রকাশের পর দ্রুতই নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিনের অবহেলা আর জটিলতার পর অবশেষে মেরামত করা হয়েছে তিস্তা সেচ প্রকল্পের রংপুর খালের জরাজীর্ণ ওই বাঁধ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল থেকে বিরতিহীনভাবে কাজ চালিয়ে মমিনপুর ইউনিয়ন দিয়ে প্রবাহিত খালের পশ্চিম পাশের বাঁধটি সংস্কার করা হয়। এতে খালের উভয় তীরবর্তী প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ পানির প্রবাহ সহজ হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প পরিচালক ও তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (,পুর) মো. মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, ওই বাঁধটি দীর্ঘ সময় ধরে জরাজীর্ণ ছিল। সেখানে বারবার মেরানত করা হলেও ভেঙে যায়। ওই অবস্থায় পানি ছেড়ে দিলে ঝুঁকি বাড়ত। তাই বাঁধটি মেরামতের পরই এখন সেচ ছাড়া হবে। সাথে বাঁধটি মনিটরিং টিম সর্বদা থাকবে। তিস্তা সেচ প্রকল্প পরিচালকের দ্রুত পদক্ষেপে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
কিছুদিন আগেও যেখানে অনিশ্চয়তায় ভর করেছিল পুরো ইরি-বোরো মৌসুম, সেখানে এখন নতুন করে আশার আলো জ্বলছে। জমি প্রস্তুত থাকলেও পানির অভাবে চারা রোপণ করতে না পারা কৃষকেরা আবারও মাঠে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন।
এর আগে গঙ্গাচড়ার খলেয়া ইউনিয়নের একটি রেগুলেটর সেচ ব্যবস্থার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। খালে পানি থাকা সত্ত্বেও ভাটির প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খলেয়া, মমিনপুর ও অতিরামপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে পানি পৌঁছাচ্ছিল না। শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে গেলে রেগুলেটরে পানি আটকে থাকত, ফলে সেচ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
কৃষকদের দুর্দশা তখন চরমে পৌঁছে। বিকল্প সেচ ব্যবস্থার অভাব, তেলের সংকটে শ্যালো মেশিন অচল হয়ে পড়া এবং গভীর নলকূপের সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে কৃষি কার্যক্রম প্রায় থমকে যায়। দুলাল মিয়া ও লিপি আক্তারের মতো অসংখ্য কৃষক পরিবার জীবিকার অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে থাকেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খালের ডাইক বা বাঁধগুলোর অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। ইঁদুরের গর্ত ও চোরা ভাঙনের কারণে পানি ছেড়ে দিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। তাই সাময়িকভাবে পানি প্রবাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
অবশেষে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হয়।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রবিউল আলম বলেন, বাঁধে মাটি ছিল না। তাই দুর্বল অংশগ শক্তিশালী করতে মাটি ভরাট করে জিও ব্যাগ প্রতিরোধক হিসাবে দেওয়া হয়েছে। এতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহে কোন ভাঙনের ঝুঁকি থাকবে না।
তবে স্থানীয়দের মতে, এই সংস্কার আপাতত স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান এখনো নিশ্চিত হয়নি। তারা বলছেন, পরিকল্পিত ও স্থায়ী উন্নয়ন ছাড়া প্রতিবছরই এমন সংকট ফিরে আসতে পারে। তারপরও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধটি সংস্কারে এ অন্চলের কৃষকেরা আশায় বুক বাঁধছেন। তাদের প্রত্যাশা—এই মেরামত শুধু সাময়িক স্বস্তি নয়, বরং একটি কার্যকর ও টেকসই সেচ ব্যবস্থার সূচনা। এতেই জীবন-জীবিকার নির্ভরতার সেচ পানিতে বোনা যাবে আগামী দিনের নিশ্চয়তা।

আপনার মতামত লিখুন