ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না, অথচ আদালতে গিয়ে জামিন পেলেন ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদের দুই সহযোগী

পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না, অথচ আদালতে গিয়ে জামিন পেলেন ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদের দুই সহযোগী

বিদেশে পলাতক আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম দুই সহযোগী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ও বোরহান উদ্দিনকে হন্যে হয়ে খুঁজছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। অথচ পুলিশ যাদের নাগাল পাচ্ছে না, সেই দুই সন্ত্রাসীই উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে দিব্যি জামিন নিয়ে নিয়েছেন।

 

চট্টগ্রামের আলোচিত একটি জোড়া খুনের মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি তারা ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। আদালতের এই জামিন আদেশের কপিটি গত ২৯ মার্চ বাকলিয়া থানায় পৌঁছানোর পর টনক নড়ে পুলিশের। নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পুলিশ যখন তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই তারা জামিন পেয়েছেন। বিষয়টি এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষকে জানানো হচ্ছে।

যে মামলায় তারা জামিন পেয়েছেন, সেটি সংঘটিত হয়েছিল ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায়। ওই রাতে বাকলিয়া এক্সেস রোডে সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে বখতিয়ার হোসেন ও মো. আবদুল্লাহ নামের দুজন নিহত হন। তারা দুজনেই বড় সাজ্জাদের দল ছেড়ে আসা সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলার অনুসারী ছিলেন। ওই ঘটনায় ৩১ মার্চ বাকলিয়া থানায় মামলা হয়, যেখানে মোবারক ও বোরহান এজাহারভুক্ত আসামি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় সাজ্জাদের আধিপত্য ধরে রাখতেই ওই রাতে সরোয়ার হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছিল। সে যাত্রায় সরোয়ার বেঁচে গেলেও তার দুই সহযোগী প্রাণ হারান। তবে এর কয়েক মাস পর ৫ নভেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে শেষ পর্যন্ত সরোয়ার খুন হন। সেই হামলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন আহত হয়েছিলেন।

চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত এই দুই সন্ত্রাসীর নাম আরও একাধিক নৃশংস ঘটনায় জড়িয়ে আছে। এর মধ্যে গত বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে প্রকাশ্যে আকবর আলী ওরফে ঢাকাইয়া আকবরকে হত্যার ঘটনায়ও তাদের নাম এসেছে। এছাড়া কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ জানুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় যে দুই দফা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, তার নেপথ্যেও সাজ্জাদের এই সহযোগীরা জড়িত বলে তথ্য রয়েছে।

পুলিশি রেকর্ড অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ওরফে ইমনের বিরুদ্ধে জোড়া খুন ও ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। তার সংগ্রহে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র থাকার প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও খুনের ঘটনায় আটটি মামলা রয়েছে।

এমন দুর্ধর্ষ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে না পারা এবং তাদের জামিন পাওয়ার বিষয়টিকে গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার। তিনি মনে করেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি থাকায় এমনটি ঘটেছে। তবে মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি মফিজুল হক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষ এখন প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সূত্র: প্রথম আলো

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না, অথচ আদালতে গিয়ে জামিন পেলেন ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদের দুই সহযোগী

প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিদেশে পলাতক আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম দুই সহযোগী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ও বোরহান উদ্দিনকে হন্যে হয়ে খুঁজছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। অথচ পুলিশ যাদের নাগাল পাচ্ছে না, সেই দুই সন্ত্রাসীই উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে দিব্যি জামিন নিয়ে নিয়েছেন।

 

চট্টগ্রামের আলোচিত একটি জোড়া খুনের মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি তারা ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। আদালতের এই জামিন আদেশের কপিটি গত ২৯ মার্চ বাকলিয়া থানায় পৌঁছানোর পর টনক নড়ে পুলিশের। নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পুলিশ যখন তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই তারা জামিন পেয়েছেন। বিষয়টি এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষকে জানানো হচ্ছে।

যে মামলায় তারা জামিন পেয়েছেন, সেটি সংঘটিত হয়েছিল ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায়। ওই রাতে বাকলিয়া এক্সেস রোডে সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে বখতিয়ার হোসেন ও মো. আবদুল্লাহ নামের দুজন নিহত হন। তারা দুজনেই বড় সাজ্জাদের দল ছেড়ে আসা সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলার অনুসারী ছিলেন। ওই ঘটনায় ৩১ মার্চ বাকলিয়া থানায় মামলা হয়, যেখানে মোবারক ও বোরহান এজাহারভুক্ত আসামি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় সাজ্জাদের আধিপত্য ধরে রাখতেই ওই রাতে সরোয়ার হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছিল। সে যাত্রায় সরোয়ার বেঁচে গেলেও তার দুই সহযোগী প্রাণ হারান। তবে এর কয়েক মাস পর ৫ নভেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে শেষ পর্যন্ত সরোয়ার খুন হন। সেই হামলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন আহত হয়েছিলেন।

চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত এই দুই সন্ত্রাসীর নাম আরও একাধিক নৃশংস ঘটনায় জড়িয়ে আছে। এর মধ্যে গত বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে প্রকাশ্যে আকবর আলী ওরফে ঢাকাইয়া আকবরকে হত্যার ঘটনায়ও তাদের নাম এসেছে। এছাড়া কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ জানুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় যে দুই দফা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, তার নেপথ্যেও সাজ্জাদের এই সহযোগীরা জড়িত বলে তথ্য রয়েছে।

পুলিশি রেকর্ড অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ওরফে ইমনের বিরুদ্ধে জোড়া খুন ও ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। তার সংগ্রহে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র থাকার প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও খুনের ঘটনায় আটটি মামলা রয়েছে।

এমন দুর্ধর্ষ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে না পারা এবং তাদের জামিন পাওয়ার বিষয়টিকে গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার। তিনি মনে করেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি থাকায় এমনটি ঘটেছে। তবে মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি মফিজুল হক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষ এখন প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সূত্র: প্রথম আলো


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত