ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

‘ভিডিও ভাইরাল হইছে কিন্তু আমার কষ্ট তো কমেনি’

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
‘ভিডিও ভাইরাল হইছে কিন্তু আমার কষ্ট তো কমেনি’

হাতে লম্বা বুম, টেলিভিশন সাংবাদিকদের মতো ভঙ্গি আর সহজ-সরল আঞ্চলিক ভাষায় লাইভে দাঁড়িয়েছেন জিলাপির দোকানের সামনে। দোকানিকে প্রশ্ন রাখেন, ‘আজকে মহান ২৬ মার্চ উপলক্ষে জিলাপি কত করে বেছতেছেন? সরকারি রেটে যদি জনগণকে একটু বলতেন, তাইলে অনেক খুশি হইতাম।’

এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেন নিজের ফেসবুক পেজে। তাতেই ভাইরাল হয়ে যান কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া চর গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম তাজু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এখন ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে পরিচিত।

জানা গেছে, অভাব-অনটনের কারণে কখনও স্কুলের বারান্দায় পা রাখেননি তাইজুল ইসলাম। কিন্তু নিজের এলাকার বিভিন্ন সমস্যার চিত্র তুলে ধরে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেন তাইজুল। পরে এসব কনটেন্ট নিজের ফেসবুক পেজে প্রচার করেন। তার সারল্য উপস্থাপনার কারণে দেশজুড়ে রাতারাতি ব্যাপক পরিচিত পান তিনি।

তাইজুল ইসলামের ‘তাজু ভাই ২.০’ পেজ ঘুরে দেখা গেছে, তিনি নানা বিষয়ে কনটেন্ট তৈরি করে তা পেজে প্রকাশ করেন। তার ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। এরই মধ্যে তার ফলোয়ারের সংখ্যা লক্ষাধিক হয়ে গেছে। ভাইরাল হওয়ার আগে যা ছিল প্রায় ছয় হাজারের মতো।

তবে যে উদ্দেশে ভিডিও বানান তাইজুল, ভাইরাল হলেও সেই লক্ষে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। এদিকে সংসারের অভাব-অনটন এখনও পিছু ছাড়েনি তার। তিনি ভেবেছেন তার ফেসবুক পেজটি মনিটাইজেশন হবে, এতে আয় হবে। কিন্তু তা এখনও না হওয়ায় মন খারাপ তার। এজন্য আগের পেশায় ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবছেন তিনি।

তাইজুল ইসলাম তাজু বলেন, মানুষ ভালোবাসা দিছে, ভিডিও ভাইরাল হইছে। কিন্তু আমার তো এখনও কষ্টই কমে নাই। পেইজে আয় নাই, সংসার চালানো কষ্ট হয়। চিন্তা করছি, আবারও ঢাকা গিয়ে কাজ করবো, কাজ না করলে তো আর ভাত জুটবে না পরিবারে।

নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কবিরুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জায়গায় বসবাস করছে তাজুর পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে তার এই অর্জনকে সম্মান জানিয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এই জনপ্রতিনিধি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চারদিকে নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল নাগেশ্বরী উপজেলা। এই উপজেলার সরকারপাড়া চর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ ও তাহেরা দম্পতির তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে বড় সন্তান তাইজুল ইসলাম তাজু।

তাইজুলের দাম্পত্য জীবন অভাবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অসুস্থ বাবা-মা ও দুই ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচও তাকে জোগাতে হয়। রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে যে আয় হয়, তা দিয়ে কুলাতে পারছেন না। তাই মাত্র আট হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু করেন ভিডিও তৈরি। মাঝেমধ্যে নিজের জীবনসংগ্রামের কথাও তুলে ধরে কনটেন্ট বানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


‘ভিডিও ভাইরাল হইছে কিন্তু আমার কষ্ট তো কমেনি’

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image

হাতে লম্বা বুম, টেলিভিশন সাংবাদিকদের মতো ভঙ্গি আর সহজ-সরল আঞ্চলিক ভাষায় লাইভে দাঁড়িয়েছেন জিলাপির দোকানের সামনে। দোকানিকে প্রশ্ন রাখেন, ‘আজকে মহান ২৬ মার্চ উপলক্ষে জিলাপি কত করে বেছতেছেন? সরকারি রেটে যদি জনগণকে একটু বলতেন, তাইলে অনেক খুশি হইতাম।’

এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেন নিজের ফেসবুক পেজে। তাতেই ভাইরাল হয়ে যান কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া চর গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম তাজু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এখন ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে পরিচিত।

জানা গেছে, অভাব-অনটনের কারণে কখনও স্কুলের বারান্দায় পা রাখেননি তাইজুল ইসলাম। কিন্তু নিজের এলাকার বিভিন্ন সমস্যার চিত্র তুলে ধরে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেন তাইজুল। পরে এসব কনটেন্ট নিজের ফেসবুক পেজে প্রচার করেন। তার সারল্য উপস্থাপনার কারণে দেশজুড়ে রাতারাতি ব্যাপক পরিচিত পান তিনি।

তাইজুল ইসলামের ‘তাজু ভাই ২.০’ পেজ ঘুরে দেখা গেছে, তিনি নানা বিষয়ে কনটেন্ট তৈরি করে তা পেজে প্রকাশ করেন। তার ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। এরই মধ্যে তার ফলোয়ারের সংখ্যা লক্ষাধিক হয়ে গেছে। ভাইরাল হওয়ার আগে যা ছিল প্রায় ছয় হাজারের মতো।

তবে যে উদ্দেশে ভিডিও বানান তাইজুল, ভাইরাল হলেও সেই লক্ষে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। এদিকে সংসারের অভাব-অনটন এখনও পিছু ছাড়েনি তার। তিনি ভেবেছেন তার ফেসবুক পেজটি মনিটাইজেশন হবে, এতে আয় হবে। কিন্তু তা এখনও না হওয়ায় মন খারাপ তার। এজন্য আগের পেশায় ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবছেন তিনি।

তাইজুল ইসলাম তাজু বলেন, মানুষ ভালোবাসা দিছে, ভিডিও ভাইরাল হইছে। কিন্তু আমার তো এখনও কষ্টই কমে নাই। পেইজে আয় নাই, সংসার চালানো কষ্ট হয়। চিন্তা করছি, আবারও ঢাকা গিয়ে কাজ করবো, কাজ না করলে তো আর ভাত জুটবে না পরিবারে।

নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কবিরুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জায়গায় বসবাস করছে তাজুর পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে তার এই অর্জনকে সম্মান জানিয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এই জনপ্রতিনিধি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চারদিকে নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল নাগেশ্বরী উপজেলা। এই উপজেলার সরকারপাড়া চর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ ও তাহেরা দম্পতির তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে বড় সন্তান তাইজুল ইসলাম তাজু।

তাইজুলের দাম্পত্য জীবন অভাবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অসুস্থ বাবা-মা ও দুই ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচও তাকে জোগাতে হয়। রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে যে আয় হয়, তা দিয়ে কুলাতে পারছেন না। তাই মাত্র আট হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু করেন ভিডিও তৈরি। মাঝেমধ্যে নিজের জীবনসংগ্রামের কথাও তুলে ধরে কনটেন্ট বানান তিনি।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত