ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

তিস্তায় পাথর চক্রের হামলা: চেয়ারম্যান, পুলিশসহ আহত-১৭

তিস্তায় পাথর চক্রের হামলা: চেয়ারম্যান, পুলিশসহ আহত-১৭
অবৈধ পাথর চক্রের হামলায় ১৭ জন আহত। ছবিতে- আহত ব্যাক্তি চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসপাতালে।

‎নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১৭ জন। গুরুতর আহতদের মধ্যে চেয়ারম্যানসহ সাতজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।

‎স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র তিস্তা নদীতে বোমা মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, বাঁধ এবং আশপাশের সড়ক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

‎এই পরিস্থিতিতে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন অবৈধ উত্তোলন বন্ধে উদ্যোগ নেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পূর্বখড়িবাড়ি তিস্তা পাড় এলাকায় গেলে উত্তোলনকারী চক্র সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। এতে চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

‎খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই হামলাকারীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

‎আহতদের প্রথমে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে বেশি সক্রিয় থাকে পাথর উত্তোলনকারী চক্রটি। প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনের বিচ্ছিন্ন অভিযানের পরও বন্ধ হচ্ছে না এই অবৈধ কার্যক্রম।

‎ডিমলা থানার এক কর্মকর্তা জানান, অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।

‎উপজেলা প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করা হবে এবং তিস্তা নদীতে অবৈধ উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলে তিস্তা নদীর ভৌগোলিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা স্থানীয় জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
‎এদিকে হামলার ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


তিস্তায় পাথর চক্রের হামলা: চেয়ারম্যান, পুলিশসহ আহত-১৭

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

‎নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১৭ জন। গুরুতর আহতদের মধ্যে চেয়ারম্যানসহ সাতজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।

‎স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র তিস্তা নদীতে বোমা মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, বাঁধ এবং আশপাশের সড়ক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

‎এই পরিস্থিতিতে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন অবৈধ উত্তোলন বন্ধে উদ্যোগ নেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পূর্বখড়িবাড়ি তিস্তা পাড় এলাকায় গেলে উত্তোলনকারী চক্র সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। এতে চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

‎খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই হামলাকারীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

‎আহতদের প্রথমে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে বেশি সক্রিয় থাকে পাথর উত্তোলনকারী চক্রটি। প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনের বিচ্ছিন্ন অভিযানের পরও বন্ধ হচ্ছে না এই অবৈধ কার্যক্রম।

‎ডিমলা থানার এক কর্মকর্তা জানান, অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।

‎উপজেলা প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করা হবে এবং তিস্তা নদীতে অবৈধ উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলে তিস্তা নদীর ভৌগোলিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা স্থানীয় জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
‎এদিকে হামলার ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত