ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

ঢাকা থেকে চিলাহাটি: ডবল রেললাইন স্থাপনের দাবি ‎

ঢাকা থেকে চিলাহাটি: ডবল রেললাইন স্থাপনের দাবি ‎
একটি কাল্পনিক ডবল রেলপথ: ছবি সংগৃহীত

ঈদ মানেই ঘরমুখো মানুষের ঢল। ট্রেনের প্রতিটি কোচ যেন ঘরে ফেরার সেতুবন্ধন। কিন্তু বুধবার বগুড়ার আদমদীঘির ছাতিয়ানগ্রামে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর আনন্দযাত্রা পরিণত হয় ক্লান্তি ও দীর্ঘশ্বাসে।  তাই এই রুটে ডবল রেললাইন স্থাপনের দাবি উঠেছে।
‎
‎‎ওই দিন  সকালে নীলসাগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে চিলাহাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। যাত্রা ছিল স্বাভাবিক, কিন্তু  ঘটনা স্থলে দুপুর সাড়ে ১২ টায় আচমকাই থেমে যায়। নয়টি বগির লাইনচ্যুতি মুহূর্তেই স্থবির করে দেয় পুরো রেল যোগাযোগ। থেমে যায় ট্রেন, আর তার সঙ্গে থেমে যায় হাজারো মানুষের গন্তব্যে পৌঁছানোর স্বপ্ন।  রেললাইনের দুই প্রান্তে আটকে পড়ে ট্রেন। যাত্রীদের নেমে পড়তে হয় মাঝপথে—কেউ শিশু কোলে, কেউ বৃদ্ধকে সঙ্গে নিয়ে, কেউবা ভারী মালামাল টেনে। দুর্ঘটনাস্থল অতিক্রম করতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ হাটতে হয় যাত্রীদের।  ঈদে ঘরে ফেরার  আনন্দমুখর যাত্রা পরিণত হয় ক্লান্তিকর এক সংগ্রামে।
‎
‎এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হয় উদ্ধার তৎপরতা। রেলপথ এর ওপেন লাইন শাখাসহ অন্যন্য দপ্তরের  প্রায় চার শতাধিক কর্মী রাতদিন নিরলসভাবে ২২ ঘন্টা কাজ করে  রেলপথ সচল করেন।  এতে পুরো সময়টা উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ওই রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে।
‎
‎যাত্রীদের মতে, একক লাইনের কারণে সামান্য দুর্ঘটনাই পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে দেয়। ডবল লাইনে এটি অনেকাংশে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
‎যাত্রীরা বলছেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের রেলব্যবস্থার উন্নয়ন এখন জরুরি।
‎
‎আব্দুল আউয়াল নামে এক যাত্রী জানান, রেলপথ সবসময়ই নিরাপদ হিসেবে পরিচিত। তাই আমরা এই পরিবহনের ওপর নির্ভর করি। কিন্তু এমন ঘটনায় সেই আস্থা কিছুটা হলেও নড়বড়ে হয়ে যায়।
‎
‎এসএসই/ওয়ে হিলি-এর প্রকৌশলী ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী বলেন,  দুর্ঘটনার পর রাতদিন বিরামহীনভাবে কাজ করে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রেলপথ সচল করা হয়েছে। তবে ডবল লাইন থাকলে যাত্রীসহ রেলপথ সংস্কার কাজে দায়িত্বরতদের সুবিধা হতো।
‎এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আবারও সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের একটি দাবি—ঢাকা থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত ডবল রেললাইন স্থাপন।
‎
‎এসএসই/ওয়ে সৈয়দপুর-এর প্রকৌশলী আল-আমিন বলেন, রেললাইন ডবল হলে ঝুঁকি কমবে এবং রেল যোগাযোগ আরও নিরাপদ হবে।
‎
‎বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চলের জিএম ফরিদ আহমেদ জানিয়েছেন, জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডবল লাইনের কাজ চলমান থাকলেও চিলাহাটি পর্যন্ত ডবল লাইনের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, ডবল লাইন স্থাপন হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
‎

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


ঢাকা থেকে চিলাহাটি: ডবল রেললাইন স্থাপনের দাবি ‎

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

ঈদ মানেই ঘরমুখো মানুষের ঢল। ট্রেনের প্রতিটি কোচ যেন ঘরে ফেরার সেতুবন্ধন। কিন্তু বুধবার বগুড়ার আদমদীঘির ছাতিয়ানগ্রামে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর আনন্দযাত্রা পরিণত হয় ক্লান্তি ও দীর্ঘশ্বাসে।  তাই এই রুটে ডবল রেললাইন স্থাপনের দাবি উঠেছে।
‎
‎‎ওই দিন  সকালে নীলসাগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে চিলাহাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। যাত্রা ছিল স্বাভাবিক, কিন্তু  ঘটনা স্থলে দুপুর সাড়ে ১২ টায় আচমকাই থেমে যায়। নয়টি বগির লাইনচ্যুতি মুহূর্তেই স্থবির করে দেয় পুরো রেল যোগাযোগ। থেমে যায় ট্রেন, আর তার সঙ্গে থেমে যায় হাজারো মানুষের গন্তব্যে পৌঁছানোর স্বপ্ন।  রেললাইনের দুই প্রান্তে আটকে পড়ে ট্রেন। যাত্রীদের নেমে পড়তে হয় মাঝপথে—কেউ শিশু কোলে, কেউ বৃদ্ধকে সঙ্গে নিয়ে, কেউবা ভারী মালামাল টেনে। দুর্ঘটনাস্থল অতিক্রম করতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ হাটতে হয় যাত্রীদের।  ঈদে ঘরে ফেরার  আনন্দমুখর যাত্রা পরিণত হয় ক্লান্তিকর এক সংগ্রামে।
‎
‎এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হয় উদ্ধার তৎপরতা। রেলপথ এর ওপেন লাইন শাখাসহ অন্যন্য দপ্তরের  প্রায় চার শতাধিক কর্মী রাতদিন নিরলসভাবে ২২ ঘন্টা কাজ করে  রেলপথ সচল করেন।  এতে পুরো সময়টা উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ওই রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে।
‎
‎যাত্রীদের মতে, একক লাইনের কারণে সামান্য দুর্ঘটনাই পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে দেয়। ডবল লাইনে এটি অনেকাংশে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
‎যাত্রীরা বলছেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের রেলব্যবস্থার উন্নয়ন এখন জরুরি।
‎
‎আব্দুল আউয়াল নামে এক যাত্রী জানান, রেলপথ সবসময়ই নিরাপদ হিসেবে পরিচিত। তাই আমরা এই পরিবহনের ওপর নির্ভর করি। কিন্তু এমন ঘটনায় সেই আস্থা কিছুটা হলেও নড়বড়ে হয়ে যায়।
‎
‎এসএসই/ওয়ে হিলি-এর প্রকৌশলী ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী বলেন,  দুর্ঘটনার পর রাতদিন বিরামহীনভাবে কাজ করে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রেলপথ সচল করা হয়েছে। তবে ডবল লাইন থাকলে যাত্রীসহ রেলপথ সংস্কার কাজে দায়িত্বরতদের সুবিধা হতো।
‎এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আবারও সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের একটি দাবি—ঢাকা থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত ডবল রেললাইন স্থাপন।
‎
‎এসএসই/ওয়ে সৈয়দপুর-এর প্রকৌশলী আল-আমিন বলেন, রেললাইন ডবল হলে ঝুঁকি কমবে এবং রেল যোগাযোগ আরও নিরাপদ হবে।
‎
‎বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চলের জিএম ফরিদ আহমেদ জানিয়েছেন, জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডবল লাইনের কাজ চলমান থাকলেও চিলাহাটি পর্যন্ত ডবল লাইনের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, ডবল লাইন স্থাপন হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
‎


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত