ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

ঈদযাত্রার প্রথম দিনে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস না পেয়ে কেউ কেউ ফিরছেন ট্রাকে

ঈদযাত্রার প্রথম দিনে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস না পেয়ে কেউ কেউ ফিরছেন ট্রাকে

শুরু হয়েছে ঈদের টানা সাত দিনের ছুটি। ফলে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গগামী মানুষ। এতে যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। এমতাবস্থায় নিম্ন আয়ের অনেকজনই বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল এমনকি কম খরচে পণ্যবাহী ট্রাকে করেও বাড়ি ফিরছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর থেকে যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত মহাসড়কে পরিবহনের চাপ দেখা যায়।

জানা যায়, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পণ্য ও পশুবাহী ট্রাকে করেও গ্রামে ফিরছেন অনেক যাত্রী। এসব ট্রাকে নারী ও শিশুর উপস্থিতিও দেখা গেছে।

ঢাকা থেকে পাবনাগামী একটি ট্রাকের যাত্রীরা জানান, সকালে সড়কে খুব বেশি যানজট ছিল না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। তবে তাঁদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে অনেক ক্ষেত্রে পরিবহন ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি নেওয়া হচ্ছে।

চন্দ্রা থেকে ট্রাকে করে জাফর নামের এক যাত্রী বগুড়া ফিরছিলেন। তিনি বলেন, ‘সকালে বাস না পেয়ে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছি। ভাড়া নিয়েছে ৪০০ টাকা। সকালে রাস্তা তুলনামূলক ফাঁকা ছিল।’

আবুল নামের এক গার্মেন্টস কর্মী বলেন, ‘ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে পাবনায় যাচ্ছি। বাসের তুলনায় ট্রাকে ভাড়া কম হওয়ায় পরিবারসহ ট্রাকে উঠেছি।’

এদিকে সাধারণত সিরাজগঞ্জগামী বাসের ভাড়া সাধারণ সময়ে প্রায় ৩৫০ টাকা, সেখানে ঈদ উপলক্ষে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন কিছু পরিবহন মালিক বলে অভিযোগ করছেন কয়েকজন বাসযাত্রী।

যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার সেতু দিয়ে মোট ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এদিন টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা।

এর মধ্যে পূর্বমুখী যানবাহনের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৭৫টি এবং এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা।

অপরদিকে পশ্চিমমুখী যানবাহনের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৫৮৩টি এবং এদিক থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ টাকা।

এ বিষয়ে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সেতু দিয়ে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। তবে সেতুর দুই প্রান্তে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২২ জেলার মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হলো যমুনা সেতু। এসব জেলার যানবাহন রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যেতে হলে এই সেতু পার হয়েই চলাচল করতে হয়।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


ঈদযাত্রার প্রথম দিনে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস না পেয়ে কেউ কেউ ফিরছেন ট্রাকে

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

শুরু হয়েছে ঈদের টানা সাত দিনের ছুটি। ফলে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গগামী মানুষ। এতে যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। এমতাবস্থায় নিম্ন আয়ের অনেকজনই বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল এমনকি কম খরচে পণ্যবাহী ট্রাকে করেও বাড়ি ফিরছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর থেকে যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত মহাসড়কে পরিবহনের চাপ দেখা যায়।

জানা যায়, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পণ্য ও পশুবাহী ট্রাকে করেও গ্রামে ফিরছেন অনেক যাত্রী। এসব ট্রাকে নারী ও শিশুর উপস্থিতিও দেখা গেছে।

ঢাকা থেকে পাবনাগামী একটি ট্রাকের যাত্রীরা জানান, সকালে সড়কে খুব বেশি যানজট ছিল না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। তবে তাঁদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে অনেক ক্ষেত্রে পরিবহন ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি নেওয়া হচ্ছে।

চন্দ্রা থেকে ট্রাকে করে জাফর নামের এক যাত্রী বগুড়া ফিরছিলেন। তিনি বলেন, ‘সকালে বাস না পেয়ে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছি। ভাড়া নিয়েছে ৪০০ টাকা। সকালে রাস্তা তুলনামূলক ফাঁকা ছিল।’

আবুল নামের এক গার্মেন্টস কর্মী বলেন, ‘ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে পাবনায় যাচ্ছি। বাসের তুলনায় ট্রাকে ভাড়া কম হওয়ায় পরিবারসহ ট্রাকে উঠেছি।’

এদিকে সাধারণত সিরাজগঞ্জগামী বাসের ভাড়া সাধারণ সময়ে প্রায় ৩৫০ টাকা, সেখানে ঈদ উপলক্ষে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন কিছু পরিবহন মালিক বলে অভিযোগ করছেন কয়েকজন বাসযাত্রী।

যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার সেতু দিয়ে মোট ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এদিন টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা।

এর মধ্যে পূর্বমুখী যানবাহনের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৭৫টি এবং এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা।

অপরদিকে পশ্চিমমুখী যানবাহনের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৫৮৩টি এবং এদিক থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ টাকা।

এ বিষয়ে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সেতু দিয়ে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। তবে সেতুর দুই প্রান্তে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২২ জেলার মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হলো যমুনা সেতু। এসব জেলার যানবাহন রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যেতে হলে এই সেতু পার হয়েই চলাচল করতে হয়।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত