ঈদ আসলে শিশুদের চোখে যে স্বপ্ন জাগে, তার রঙ থাকে নতুন জামার মতোই উজ্জ্বল। কিন্তু সমাজের বাস্তবতা বড় কঠিন—অনেক শিশুর সেই স্বপ্ন দারিদ্র্যের অন্ধকারেই থেমে যায়। তবু কখনো কখনো কিছু মানুষ তাদের ছোট ছোট উদ্যোগে সেই অন্ধকারে আলো জ্বালিয়ে দেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকায় শনিবার সকালে দেখা গেল তেমনই এক আলোছড়ানো দৃশ্য। একটি স্কুলের পাশে সামিয়ানা টাঙিয়ে বানানো হয়েছে ছোট্ট একটি দোকান। দোকানের সামনে বড় একটি ব্যানার—“১ টাকায় ঈদের নতুন জামা”। ব্যানারটি যেন আশপাশের পথশিশু আর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হৃদয়ে হঠাৎ করেই আনন্দের ঢেউ তুলে দিল।
দোকানের সামনে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট ছোট মুখ। কারও হাতে শক্ত করে ধরা এক টাকার একটি কয়েন, কেউ আবার মুঠো করে রেখেছে কাগজের নোট। তাদের চোখে এক ধরনের উজ্জ্বলতা—আজ তারা কিনবে ঈদের নতুন জামা। সেই স্বপ্ন, যা হয়তো এতদিন শুধু দূর থেকেই দেখা হয়েছিল।
দোকানের ভেতরে ব্যস্ত কয়েকজন তরুণ স্বেচ্ছাসেবী। হাসিমুখে তারা শিশুদের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের পছন্দের পোশাক দেখাচ্ছেন, সাইজ মিলিয়ে দিচ্ছেন। তারপর সেই এক টাকার বিনিময়ে তুলে দিচ্ছেন নতুন ফ্রক, পাঞ্জাবি, শার্ট কিংবা প্যান্ট। নতুন পোশাক হাতে পেয়েই শিশুদের মুখে ফুটে উঠছে এমন এক হাসি, যেন তারা পুরো পৃথিবীটাই পেয়ে গেছে।
রেহান, আকাশি, সাবিনা, কৌশিক—এদের মতো শতাধিক শিশুর কাছে এই ছোট্ট দোকানটি যেন এক টুকরো স্বপ্নের বাজার। কারও বাবা নেই, কারও মায়ের সামর্থ্য নেই ঈদের নতুন জামা কেনার। তবু আজ তাদের হাতেও নতুন কাপড়। বুকের কাছে শক্ত করে চেপে ধরে তারা যেন আগাম ঈদের আনন্দটুকু অনুভব করছে।
এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’। সংগঠনের তরুণ সদস্যরা নিজেদের সামর্থ্য ও ভালোবাসা দিয়ে সাজিয়েছে এই এক টাকার দোকান। তাদের বিশ্বাস, ঈদ কেবল উৎসব নয়—এটি ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ।
শুধু শিশুদের জন্যই নয়, অসহায় মানুষের জন্যও রাখা হয়েছে শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিস। মাত্র এক টাকার বিনিময়ে তারাও সংগ্রহ করতে পারছেন প্রয়োজনীয় পোশাক। পাশাপাশি বিতরণ করা হচ্ছে সেমাই, চিনি ও দুধ—যাতে দরিদ্র মানুষের ঘরেও ঈদের মিষ্টি সুবাস পৌঁছে যায়।
ঈদের চাঁদ ওঠা পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। ততদিন পর্যন্ত গোলাহাটের সেই ছোট্ট দোকানটি হয়ে থাকবে মানবতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। সেখানে মাত্র এক টাকায় কেনা যায় না শুধু একটি জামা—সেখানে পাওয়া যায় একটুকরো আনন্দ, একফোঁটা ভালোবাসা, আর অনেকগুলো শিশুর হাসিমাখা ঈদ।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬
ঈদ আসলে শিশুদের চোখে যে স্বপ্ন জাগে, তার রঙ থাকে নতুন জামার মতোই উজ্জ্বল। কিন্তু সমাজের বাস্তবতা বড় কঠিন—অনেক শিশুর সেই স্বপ্ন দারিদ্র্যের অন্ধকারেই থেমে যায়। তবু কখনো কখনো কিছু মানুষ তাদের ছোট ছোট উদ্যোগে সেই অন্ধকারে আলো জ্বালিয়ে দেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকায় শনিবার সকালে দেখা গেল তেমনই এক আলোছড়ানো দৃশ্য। একটি স্কুলের পাশে সামিয়ানা টাঙিয়ে বানানো হয়েছে ছোট্ট একটি দোকান। দোকানের সামনে বড় একটি ব্যানার—“১ টাকায় ঈদের নতুন জামা”। ব্যানারটি যেন আশপাশের পথশিশু আর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হৃদয়ে হঠাৎ করেই আনন্দের ঢেউ তুলে দিল।
দোকানের সামনে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট ছোট মুখ। কারও হাতে শক্ত করে ধরা এক টাকার একটি কয়েন, কেউ আবার মুঠো করে রেখেছে কাগজের নোট। তাদের চোখে এক ধরনের উজ্জ্বলতা—আজ তারা কিনবে ঈদের নতুন জামা। সেই স্বপ্ন, যা হয়তো এতদিন শুধু দূর থেকেই দেখা হয়েছিল।
দোকানের ভেতরে ব্যস্ত কয়েকজন তরুণ স্বেচ্ছাসেবী। হাসিমুখে তারা শিশুদের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের পছন্দের পোশাক দেখাচ্ছেন, সাইজ মিলিয়ে দিচ্ছেন। তারপর সেই এক টাকার বিনিময়ে তুলে দিচ্ছেন নতুন ফ্রক, পাঞ্জাবি, শার্ট কিংবা প্যান্ট। নতুন পোশাক হাতে পেয়েই শিশুদের মুখে ফুটে উঠছে এমন এক হাসি, যেন তারা পুরো পৃথিবীটাই পেয়ে গেছে।
রেহান, আকাশি, সাবিনা, কৌশিক—এদের মতো শতাধিক শিশুর কাছে এই ছোট্ট দোকানটি যেন এক টুকরো স্বপ্নের বাজার। কারও বাবা নেই, কারও মায়ের সামর্থ্য নেই ঈদের নতুন জামা কেনার। তবু আজ তাদের হাতেও নতুন কাপড়। বুকের কাছে শক্ত করে চেপে ধরে তারা যেন আগাম ঈদের আনন্দটুকু অনুভব করছে।
এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’। সংগঠনের তরুণ সদস্যরা নিজেদের সামর্থ্য ও ভালোবাসা দিয়ে সাজিয়েছে এই এক টাকার দোকান। তাদের বিশ্বাস, ঈদ কেবল উৎসব নয়—এটি ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ।
শুধু শিশুদের জন্যই নয়, অসহায় মানুষের জন্যও রাখা হয়েছে শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিস। মাত্র এক টাকার বিনিময়ে তারাও সংগ্রহ করতে পারছেন প্রয়োজনীয় পোশাক। পাশাপাশি বিতরণ করা হচ্ছে সেমাই, চিনি ও দুধ—যাতে দরিদ্র মানুষের ঘরেও ঈদের মিষ্টি সুবাস পৌঁছে যায়।
ঈদের চাঁদ ওঠা পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। ততদিন পর্যন্ত গোলাহাটের সেই ছোট্ট দোকানটি হয়ে থাকবে মানবতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। সেখানে মাত্র এক টাকায় কেনা যায় না শুধু একটি জামা—সেখানে পাওয়া যায় একটুকরো আনন্দ, একফোঁটা ভালোবাসা, আর অনেকগুলো শিশুর হাসিমাখা ঈদ।

আপনার মতামত লিখুন