ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

সেতু নয় যেন মরণ ফাঁদ!

সেতু নয় যেন মরণ ফাঁদ!

ফরিদপুরের সালথায় প্রায় এক যুগ ধরে ভাঙ্গাচোরা সেতুর উপর দিয়েই চলছে যানবাহন। দেখে মনে হয় এটা কোন সেতু নয় বরং মরন ফাঁদ। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের নারানদিয়া নামক স্থানে দেখা গেছে এমন সেতুর চিত্র।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, সেতুর একপাশের রেলিং ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে। অপরপাশের রেলিং অর্ধেক ভেঙে ঝুলে আছে। পলেস্তারা ওঠে গিয়ে বেরিয়ে গেছে রড। সেতুটি যেন পুরোপুরি মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। কাছে গিয়ে ভাঙাচোরা ওই সেতুর দিকে তাকালে যে কেউ ভয়ে কেঁপে ওঠবে। অথচ এমন অবস্থায়ই প্রতিদিন সেতুটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ ও যানবাহন। সেতুটি দ্রুত অপসারণ না করা হলে যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। এতে ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। তাই ওইখানে নতুন একটি সেতু পুননির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রামকান্তপুর গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নাসির তালুকদার বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মাণ করা হয় নারানদিয়া সেতুটি। প্রায় এক যুগ ধরে সেতুটি ভেঙে-চুরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। সেতুটি নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকি। কখন এটি ভেঙে পড়ে সেই আতঙ্কে থাকে সবাই। ওখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসীর শান্তি নেই। অত্র এলাকার প্রায় দশ হাজার লোক মনে আতঙ্ক আর ভয় নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছেন। আর যানবাহন চালকরা তো প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করছে ওই সেতুর ওপর দিয়ে ।

নারানদিয়া গ্রামের এক ভ্যানচালক বলেন, নারানদিয়া সেতুর পার হয়ে এলাকার সব চেয়ে বড় হাট ময়েনদিয়া বাজারে যেতে হয়। বিশেষ করে হাটের দিন কৃষিপন্য ভ্যানে করে ওই সেতুর ওপর দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে বাজারে যাতায়াত করা লাগে। এ ছাড়া আতঙ্ক নিয়ে ওই সেতু ব্যবহার করে জেলা-উপজেলা সদরে চলাচল করেন স্থানীয় কয়েক গ্রামের হাজারো। সেতুটি পুননির্মাণের উদ্যোগ হিসেবে মাঝে মাঝে মাটি পরীক্ষা করে যান কর্মকর্তা। তবে এখনো সেতুটি নির্মাণের কোনো লক্ষণ নেই। এমন অবস্থায় দ্রুত সেতুটি অপসারণ করে এখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

মোটরসাইকেল চালক সেলিম ইসলাম জানান, এখানে একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। বড় কোনো গাড়ী চলাচল করতে পারে না। গাড়ী চলাচলের সময় ব্রীজটি কাঁপতে থাকে। ভয় নিয়েই চলাচল করতে হয়। কেউ কোনো খোঁজ নেয় না।

সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, নারানদিয়ার সেতুটির বিষয় খোঁজখবর নিয়েছি। ওখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য ঢাকায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


সেতু নয় যেন মরণ ফাঁদ!

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের সালথায় প্রায় এক যুগ ধরে ভাঙ্গাচোরা সেতুর উপর দিয়েই চলছে যানবাহন। দেখে মনে হয় এটা কোন সেতু নয় বরং মরন ফাঁদ। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের নারানদিয়া নামক স্থানে দেখা গেছে এমন সেতুর চিত্র।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, সেতুর একপাশের রেলিং ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে। অপরপাশের রেলিং অর্ধেক ভেঙে ঝুলে আছে। পলেস্তারা ওঠে গিয়ে বেরিয়ে গেছে রড। সেতুটি যেন পুরোপুরি মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। কাছে গিয়ে ভাঙাচোরা ওই সেতুর দিকে তাকালে যে কেউ ভয়ে কেঁপে ওঠবে। অথচ এমন অবস্থায়ই প্রতিদিন সেতুটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ ও যানবাহন। সেতুটি দ্রুত অপসারণ না করা হলে যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। এতে ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। তাই ওইখানে নতুন একটি সেতু পুননির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রামকান্তপুর গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নাসির তালুকদার বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মাণ করা হয় নারানদিয়া সেতুটি। প্রায় এক যুগ ধরে সেতুটি ভেঙে-চুরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। সেতুটি নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকি। কখন এটি ভেঙে পড়ে সেই আতঙ্কে থাকে সবাই। ওখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসীর শান্তি নেই। অত্র এলাকার প্রায় দশ হাজার লোক মনে আতঙ্ক আর ভয় নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছেন। আর যানবাহন চালকরা তো প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করছে ওই সেতুর ওপর দিয়ে ।

নারানদিয়া গ্রামের এক ভ্যানচালক বলেন, নারানদিয়া সেতুর পার হয়ে এলাকার সব চেয়ে বড় হাট ময়েনদিয়া বাজারে যেতে হয়। বিশেষ করে হাটের দিন কৃষিপন্য ভ্যানে করে ওই সেতুর ওপর দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে বাজারে যাতায়াত করা লাগে। এ ছাড়া আতঙ্ক নিয়ে ওই সেতু ব্যবহার করে জেলা-উপজেলা সদরে চলাচল করেন স্থানীয় কয়েক গ্রামের হাজারো। সেতুটি পুননির্মাণের উদ্যোগ হিসেবে মাঝে মাঝে মাটি পরীক্ষা করে যান কর্মকর্তা। তবে এখনো সেতুটি নির্মাণের কোনো লক্ষণ নেই। এমন অবস্থায় দ্রুত সেতুটি অপসারণ করে এখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

মোটরসাইকেল চালক সেলিম ইসলাম জানান, এখানে একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। বড় কোনো গাড়ী চলাচল করতে পারে না। গাড়ী চলাচলের সময় ব্রীজটি কাঁপতে থাকে। ভয় নিয়েই চলাচল করতে হয়। কেউ কোনো খোঁজ নেয় না।

সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, নারানদিয়ার সেতুটির বিষয় খোঁজখবর নিয়েছি। ওখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য ঢাকায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত