ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

নীলফামারীতে ১৩৪০ শিক্ষার্থী পেল ঈদ উপহার

নীলফামারীতে ১৩৪০ শিক্ষার্থী পেল ঈদ উপহার
ছবিতে: শিক্ষার্থীর হাতে উপহার তুলে দিচ্ছেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতিহা তাকমিলা ও স্কুল কতৃপক্ষ।

‎রোজার মাস এলেই মানুষের মনে জাগে এক ধরনের কোমলতা—ভাগাভাগির আনন্দ, সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুলতা। ঠিক তেমনই এক মানবিক উদ্যোগে ঈদের আনন্দ কিছুটা আগেভাগেই পৌঁছে গেল নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর পরিবারে।

‎মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঙ্গালীপুর এলাকার এফওএইচ স্কুল প্রাঙ্গণে ছিল ভিন্ন এক আবহ। স্কুলের উঠোনে জড়ো হয়েছিলেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। কারও হাতে ব্যাগ, কারও চোখে অপেক্ষার আলো—কখন মিলবে সেই ঈদের উপহার। কিন্তু এটি শুধু খাদ্যসামগ্রীর একটি প্যাকেট নয়; এর ভেতরে ছিল যত্ন, ভালোবাসা আর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি বার্তা।

‎এদিন স্কুলটির ১৩৪০ জন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হিড সংস্থার চেয়ারম্যান এম এ বারী। প্রধান শিক্ষক আয়েশা সিদ্দিকার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতিহা তাকলিমা। তার হাত থেকেই শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয় উপহারের প্যাকেট।

‎প্রতিটি প্যাকেটে ছিল আলু, সেমাই, আতপ চাল, চাল, তেল, পেঁয়াজ, লবণ, চিনি, ডাল, পাউডার দুধ ও আটা—মোট প্রায় ১৮ কেজি খাদ্যসামগ্রী। আসন্ন ঈদকে ঘিরে এসব সামগ্রী অনেক পরিবারের রান্নাঘরে স্বস্তির বাতাস বইয়ে দেবে।

‎স্কুলটির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিন্নাতের চোখে ছিল আনন্দের ঝিলিক। সে বলল, “এই স্কুলে পড়ালেখা করে আমরা অনেক কিছুই পাই—পোশাক, খাতা-কলম, বই। আজ আবার ঈদের উপহারও পেলাম।” তার কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতার সরলতা।

‎অভিভাবকদের অনেকেই বলছিলেন, এই স্কুলে শুধু পড়াশোনাই নয়, শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নও নেওয়া হয়। বিনা বেতনে শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনেক উপকরণও সরবরাহ করা হয়। ফলে পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে আশার একটি ঠিকানা।

‎হিড সংস্থার চেয়ারম্যান এম এ বারী জানান, দাতা সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—কোনো শিশুই যেন দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে। বর্তমানে এই সংস্থার মাধ্যমে শহরের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় হাজার সুবিধাবঞ্চিত শিশু পড়াশোনা করছে।

‎তার ভাষায়, “শিশুদের শিক্ষার পথ সহজ করতে পারলে সমাজই এগিয়ে যাবে। এই ছোট ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যতের বড় পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে।”

‎ঈদের আগে এমন একটি আয়োজন শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক নীরব অঙ্গীকার। আর সেই অঙ্গীকারের আলোয় হয়তো বড় হয়ে উঠছে সৈয়দপুরের অনেক শিশুর স্বপ্ন।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


নীলফামারীতে ১৩৪০ শিক্ষার্থী পেল ঈদ উপহার

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image

‎রোজার মাস এলেই মানুষের মনে জাগে এক ধরনের কোমলতা—ভাগাভাগির আনন্দ, সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুলতা। ঠিক তেমনই এক মানবিক উদ্যোগে ঈদের আনন্দ কিছুটা আগেভাগেই পৌঁছে গেল নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর পরিবারে।

‎মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঙ্গালীপুর এলাকার এফওএইচ স্কুল প্রাঙ্গণে ছিল ভিন্ন এক আবহ। স্কুলের উঠোনে জড়ো হয়েছিলেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। কারও হাতে ব্যাগ, কারও চোখে অপেক্ষার আলো—কখন মিলবে সেই ঈদের উপহার। কিন্তু এটি শুধু খাদ্যসামগ্রীর একটি প্যাকেট নয়; এর ভেতরে ছিল যত্ন, ভালোবাসা আর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি বার্তা।

‎এদিন স্কুলটির ১৩৪০ জন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হিড সংস্থার চেয়ারম্যান এম এ বারী। প্রধান শিক্ষক আয়েশা সিদ্দিকার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতিহা তাকলিমা। তার হাত থেকেই শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয় উপহারের প্যাকেট।

‎প্রতিটি প্যাকেটে ছিল আলু, সেমাই, আতপ চাল, চাল, তেল, পেঁয়াজ, লবণ, চিনি, ডাল, পাউডার দুধ ও আটা—মোট প্রায় ১৮ কেজি খাদ্যসামগ্রী। আসন্ন ঈদকে ঘিরে এসব সামগ্রী অনেক পরিবারের রান্নাঘরে স্বস্তির বাতাস বইয়ে দেবে।

‎স্কুলটির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিন্নাতের চোখে ছিল আনন্দের ঝিলিক। সে বলল, “এই স্কুলে পড়ালেখা করে আমরা অনেক কিছুই পাই—পোশাক, খাতা-কলম, বই। আজ আবার ঈদের উপহারও পেলাম।” তার কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতার সরলতা।

‎অভিভাবকদের অনেকেই বলছিলেন, এই স্কুলে শুধু পড়াশোনাই নয়, শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নও নেওয়া হয়। বিনা বেতনে শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনেক উপকরণও সরবরাহ করা হয়। ফলে পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে আশার একটি ঠিকানা।

‎হিড সংস্থার চেয়ারম্যান এম এ বারী জানান, দাতা সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—কোনো শিশুই যেন দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে। বর্তমানে এই সংস্থার মাধ্যমে শহরের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় হাজার সুবিধাবঞ্চিত শিশু পড়াশোনা করছে।

‎তার ভাষায়, “শিশুদের শিক্ষার পথ সহজ করতে পারলে সমাজই এগিয়ে যাবে। এই ছোট ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যতের বড় পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে।”

‎ঈদের আগে এমন একটি আয়োজন শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক নীরব অঙ্গীকার। আর সেই অঙ্গীকারের আলোয় হয়তো বড় হয়ে উঠছে সৈয়দপুরের অনেক শিশুর স্বপ্ন।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত