ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

শিক্ষাঙ্গন

প্রতিকূলতা জয়ের স্বপ্নে বিভোর ফাতেমা পারভীন

প্রতিকূলতা জয়ের স্বপ্নে বিভোর ফাতেমা পারভীন

রেলওয়ে স্টেশনের বিপরীতে প্রতিদিন ছুটে আসে একদল শিশু। কারও গায়ে সি-গ্রিন জামা, নেভি-ব্লু প্যান্ট; কারও চোখে আগামী দিনের স্বপ্ন। সৈয়দপুর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফ্রি আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই শিশুরা কেউ আসে স্বচ্ছল পরিবার থেকে, আবার কারও জীবনে অভাবের ছায়া নিত্যসঙ্গী।

 তবু স্কুলের আঙিনা পেরিয়ে তারা যখন শ্রেণিকক্ষে বসে, তখন তাদের পরিচয় একটাই—তারা শিক্ষার্থী, তারা স্বপ্নবান।


এই শিশুদের স্বপ্নকে একটু দূর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে কাজ করে চলেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা পারভীন। তাঁর কাছে শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের কয়েকটি অধ্যায় শেষ করা নয়; শিক্ষা হলো শিশুর ভেতরে মানুষ হয়ে ওঠার বীজ বুনে দেওয়া।

 প্রতিকূলতাকে ভয় না পেয়ে কীভাবে জীবনকে সামনে এগিয়ে নিতে হয়, সেই সাহসটুকুও শিক্ষার অংশ বলে মনে করেন তিনি।

১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত ফ্রি আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে ২২২ শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর। বিদ্যালয়ে রয়েছেন আটজন সহকারী শিক্ষক। শহরের রেলওয়ে স্টেশনের বিপরীতে অবস্থান হওয়ায় প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার পরিবারের শিশুরা এখানে আসে। তাদের অনেকের পরিবার নিম্নমধ্যবিত্ত। কারও বাবা-মায়ের সংসারে টানাপোড়েন, কারও বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, আবার কেউ কেউ গৃহহীনতা কিংবা স্থানচ্যুতির বাস্তবতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

কখনও এমনও হয়, কোনো শিশু না খেয়েই বিদ্যালয়ে আসে। ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করেও সে বই খোলে, ক্লাস করে, খেলাধুলায় অংশ নেয়, ইংরেজি বিতর্কে নিজের কথা বলার চেষ্টা করে। ফাতেমা পারভীনের চোখে এসব শিশু করুণার পাত্র নয়; বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও সম্ভাবনার আলো বহন করা শিক্ষার্থী।

এই ভাবনা থেকেই প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে জীবনমুখী কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। দেড় ঘণ্টা পরপর শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’। সহপাঠীদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি করতে চালু করা হয়েছে ‘বন্ধু সহায়তা ব্যাংক’। প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার মধ্য দিয়ে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে দেওয়া হচ্ছে মানবিক শিক্ষার চর্চা।

শুধু বই আর খাতার মধ্যে শিক্ষা সীমাবদ্ধ না রেখে শিশুদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে পরিচিত করানো হচ্ছে। ‘Show and Tell’-এর মাধ্যমে তাদের নিজের কথা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। রয়েছে ইংরেজি ভাষা ক্লাবও। বড় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ছোটদের পড়ায় সহযোগিতা করে। এতে একদিকে ছোটদের শেখার সুযোগ বাড়ে, অন্যদিকে বড়দের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি হয়।

দিনের শেষে আরও একটি ছোট অথচ গভীর অনুশীলন রয়েছে। বিদ্যালয় ছাড়ার আগে শিশুরা কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে নিজেদের কাছে প্রশ্ন করে—‘আজ কী শিখলাম? আগামীকাল কী শিখব?’ ফাতেমা পারভীনের বিশ্বাস, নিজের শেখাকে নিজেই ফিরে দেখার এই অভ্যাস একদিন তাদের জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিতেও সাহায্য করবে।

বিদ্যালয়ের ফলাফলও তাঁর প্রচেষ্টার একটি দৃশ্যমান দিক। প্রতি বছর সাধারণত পাঁচ থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে। তবে শুধু পরীক্ষার ফলাফলকে সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখতে চান না ফাতেমা পারভীন। তাঁর লক্ষ্য আরও বড়—শিশুরা যেন নিজেদের জীবনের প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করার মতো আত্মবিশ্বাস, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ অর্জন করে।

এই শিক্ষাদর্শের পেছনে রয়েছে তাঁর নিজের দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতাও। ১৯৯৬ সালে সৈয়দপুর কলেজে বিএসসি পড়ার সময়ই শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন তিনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিএসসি পরীক্ষায় ১৩তম মেধাস্থান অর্জন করেন। শিক্ষকতা জীবনে ২০০০ ও ২০১৮ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, ২০১৫ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং ২০২৫ সালে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও সেরা ১৫-এর মধ্যে স্থান করে নেন।

তবে পুরস্কারের তালিকা তাঁর কাছে শেষ কথা নয়। নিজের পরিচয় শুধু ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর লক্ষ্য নয়। বরং যে শিশুটি আজ জীবনের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্কুলের বেঞ্চে বসেছে, আগামী দিনে সে যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে—এই স্বপ্নই তাঁকে বেশি তাড়িত করে।

সোহানের বয়স নয় বছর, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। সংসারের বাস্তবতা তাকে খুব অল্প বয়সেই জীবনের কঠিন দিক চিনিয়েছে। কিন্তু সেই বাস্তবতার কাছে পড়াশোনাকে হার মানতে দেয়নি সোহান।

দ্বিতীয় শ্রেণির সাত বছরের জাকিরের জীবনেও রয়েছে অন্যরকম ব্যস্ততা। বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে সে দোকানে কাজ করে। কখনও রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। ছোট ভাই ইয়াসিনও তার সঙ্গে থাকে। জীবনের এই ব্যস্ততার মাঝেও তারা বিদ্যালয়ের পড়াশোনায় নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে। তাদের গল্প করুণার নয়—বরং শিশুমনের অদম্য আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনার গল্প।

ফাতেমা পারভীনের স্বপ্ন, এসব শিশুর জীবন যেন তাদের বর্তমান বাস্তবতায় আটকে না থাকে। একটি স্কুল শুধু পরীক্ষার ফল তৈরি করবে না; তৈরি করবে আত্মবিশ্বাসী, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ—এটাই তাঁর বিশ্বাস।

রেলস্টেশনের পাশ দিয়ে প্রতিদিন কত ট্রেন আসে, কত ট্রেন দূরের শহরের দিকে চলে যায়। ফ্রি আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট্ট আঙিনাতেও যেন তেমনি প্রতিদিন স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়। কেউ হয়তো এখনো জানে না তার গন্তব্য কোথায়। কিন্তু ফাতেমা পারভীন জানেন, পথ যত কঠিনই হোক, একটি শিশুর হাতে যদি জ্ঞানের আলো, হৃদয়ে মানবিকতা আর মনে আত্মবিশ্বাস তুলে দেওয়া যায়, তবে প্রতিকূলতার দেয়াল একদিন পেরোনো সম্ভব।

সেই বিশ্বাস নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেছেন—শুধু শ্রেষ্ঠ হওয়ার জন্য নয়, প্রতিকূলতা জয় করে শিশুদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই লিখতে শেখানোর স্বপ্নে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


প্রতিকূলতা জয়ের স্বপ্নে বিভোর ফাতেমা পারভীন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রেলওয়ে স্টেশনের বিপরীতে প্রতিদিন ছুটে আসে একদল শিশু। কারও গায়ে সি-গ্রিন জামা, নেভি-ব্লু প্যান্ট; কারও চোখে আগামী দিনের স্বপ্ন। সৈয়দপুর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফ্রি আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই শিশুরা কেউ আসে স্বচ্ছল পরিবার থেকে, আবার কারও জীবনে অভাবের ছায়া নিত্যসঙ্গী।

 তবু স্কুলের আঙিনা পেরিয়ে তারা যখন শ্রেণিকক্ষে বসে, তখন তাদের পরিচয় একটাই—তারা শিক্ষার্থী, তারা স্বপ্নবান।


এই শিশুদের স্বপ্নকে একটু দূর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে কাজ করে চলেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা পারভীন। তাঁর কাছে শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের কয়েকটি অধ্যায় শেষ করা নয়; শিক্ষা হলো শিশুর ভেতরে মানুষ হয়ে ওঠার বীজ বুনে দেওয়া।

 প্রতিকূলতাকে ভয় না পেয়ে কীভাবে জীবনকে সামনে এগিয়ে নিতে হয়, সেই সাহসটুকুও শিক্ষার অংশ বলে মনে করেন তিনি।

১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত ফ্রি আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে ২২২ শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর। বিদ্যালয়ে রয়েছেন আটজন সহকারী শিক্ষক। শহরের রেলওয়ে স্টেশনের বিপরীতে অবস্থান হওয়ায় প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার পরিবারের শিশুরা এখানে আসে। তাদের অনেকের পরিবার নিম্নমধ্যবিত্ত। কারও বাবা-মায়ের সংসারে টানাপোড়েন, কারও বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, আবার কেউ কেউ গৃহহীনতা কিংবা স্থানচ্যুতির বাস্তবতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

কখনও এমনও হয়, কোনো শিশু না খেয়েই বিদ্যালয়ে আসে। ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করেও সে বই খোলে, ক্লাস করে, খেলাধুলায় অংশ নেয়, ইংরেজি বিতর্কে নিজের কথা বলার চেষ্টা করে। ফাতেমা পারভীনের চোখে এসব শিশু করুণার পাত্র নয়; বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও সম্ভাবনার আলো বহন করা শিক্ষার্থী।

এই ভাবনা থেকেই প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে জীবনমুখী কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। দেড় ঘণ্টা পরপর শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’। সহপাঠীদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি করতে চালু করা হয়েছে ‘বন্ধু সহায়তা ব্যাংক’। প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার মধ্য দিয়ে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে দেওয়া হচ্ছে মানবিক শিক্ষার চর্চা।

শুধু বই আর খাতার মধ্যে শিক্ষা সীমাবদ্ধ না রেখে শিশুদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে পরিচিত করানো হচ্ছে। ‘Show and Tell’-এর মাধ্যমে তাদের নিজের কথা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। রয়েছে ইংরেজি ভাষা ক্লাবও। বড় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ছোটদের পড়ায় সহযোগিতা করে। এতে একদিকে ছোটদের শেখার সুযোগ বাড়ে, অন্যদিকে বড়দের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি হয়।

দিনের শেষে আরও একটি ছোট অথচ গভীর অনুশীলন রয়েছে। বিদ্যালয় ছাড়ার আগে শিশুরা কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে নিজেদের কাছে প্রশ্ন করে—‘আজ কী শিখলাম? আগামীকাল কী শিখব?’ ফাতেমা পারভীনের বিশ্বাস, নিজের শেখাকে নিজেই ফিরে দেখার এই অভ্যাস একদিন তাদের জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিতেও সাহায্য করবে।

বিদ্যালয়ের ফলাফলও তাঁর প্রচেষ্টার একটি দৃশ্যমান দিক। প্রতি বছর সাধারণত পাঁচ থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে। তবে শুধু পরীক্ষার ফলাফলকে সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখতে চান না ফাতেমা পারভীন। তাঁর লক্ষ্য আরও বড়—শিশুরা যেন নিজেদের জীবনের প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করার মতো আত্মবিশ্বাস, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ অর্জন করে।

এই শিক্ষাদর্শের পেছনে রয়েছে তাঁর নিজের দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতাও। ১৯৯৬ সালে সৈয়দপুর কলেজে বিএসসি পড়ার সময়ই শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন তিনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিএসসি পরীক্ষায় ১৩তম মেধাস্থান অর্জন করেন। শিক্ষকতা জীবনে ২০০০ ও ২০১৮ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, ২০১৫ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং ২০২৫ সালে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও সেরা ১৫-এর মধ্যে স্থান করে নেন।

তবে পুরস্কারের তালিকা তাঁর কাছে শেষ কথা নয়। নিজের পরিচয় শুধু ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর লক্ষ্য নয়। বরং যে শিশুটি আজ জীবনের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্কুলের বেঞ্চে বসেছে, আগামী দিনে সে যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে—এই স্বপ্নই তাঁকে বেশি তাড়িত করে।

সোহানের বয়স নয় বছর, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। সংসারের বাস্তবতা তাকে খুব অল্প বয়সেই জীবনের কঠিন দিক চিনিয়েছে। কিন্তু সেই বাস্তবতার কাছে পড়াশোনাকে হার মানতে দেয়নি সোহান।

দ্বিতীয় শ্রেণির সাত বছরের জাকিরের জীবনেও রয়েছে অন্যরকম ব্যস্ততা। বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে সে দোকানে কাজ করে। কখনও রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। ছোট ভাই ইয়াসিনও তার সঙ্গে থাকে। জীবনের এই ব্যস্ততার মাঝেও তারা বিদ্যালয়ের পড়াশোনায় নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে। তাদের গল্প করুণার নয়—বরং শিশুমনের অদম্য আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনার গল্প।

ফাতেমা পারভীনের স্বপ্ন, এসব শিশুর জীবন যেন তাদের বর্তমান বাস্তবতায় আটকে না থাকে। একটি স্কুল শুধু পরীক্ষার ফল তৈরি করবে না; তৈরি করবে আত্মবিশ্বাসী, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ—এটাই তাঁর বিশ্বাস।

রেলস্টেশনের পাশ দিয়ে প্রতিদিন কত ট্রেন আসে, কত ট্রেন দূরের শহরের দিকে চলে যায়। ফ্রি আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট্ট আঙিনাতেও যেন তেমনি প্রতিদিন স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়। কেউ হয়তো এখনো জানে না তার গন্তব্য কোথায়। কিন্তু ফাতেমা পারভীন জানেন, পথ যত কঠিনই হোক, একটি শিশুর হাতে যদি জ্ঞানের আলো, হৃদয়ে মানবিকতা আর মনে আত্মবিশ্বাস তুলে দেওয়া যায়, তবে প্রতিকূলতার দেয়াল একদিন পেরোনো সম্ভব।

সেই বিশ্বাস নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেছেন—শুধু শ্রেষ্ঠ হওয়ার জন্য নয়, প্রতিকূলতা জয় করে শিশুদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই লিখতে শেখানোর স্বপ্নে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত