ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

শিক্ষাঙ্গন

শাপলার পাপড়িতে ফুটল ছয় কাবের স্বপ্ন: গর্বিত সৈয়দপুর ইন্টারন্যাশনাল স্কুল

শাপলার পাপড়িতে ফুটল ছয় কাবের স্বপ্ন: গর্বিত সৈয়দপুর ইন্টারন্যাশনাল স্কুল

‎একটি শিশুর হাতে যখন শাপলা ফুটে ওঠে, তখন সেটি শুধু একটি পুরস্কার অর্জনের গল্প নয়; বরং তা হয়ে ওঠে শৃঙ্খলা, আত্মনিবেদন, দেশপ্রেম এবং মানবিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠা এক সুন্দর ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি। আর সেই স্বপ্নময় অর্জনের আনন্দে আজ উজ্জ্বল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্কাউট গ্রুপ।


‎২০২৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত মূল্যায়নে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্কাউট গ্রুপের ৬ জন কাব স্কাউট কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। এই অর্জন শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, শিক্ষক এবং পুরো স্কাউট পরিবারের জন্য এক গর্বের অধ্যায়।


‎সাফল্যের এই উজ্জ্বল তালিকায় রয়েছে—তাজিম মুহাম্মদ আশকান, মোঃ নাফিস আখতার, মোঃ আজমির হোসেন বিজয়, নিষাদ করিম, পি. কে. ধ্রুব জ্যোতি এবং মোঃ মোবাশশের হক ফাহিন।


‎বাংলাদেশ স্কাউটসের কাব শাখায় শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডকে ধরা হয় সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটি হিসেবে। 

এই স্বীকৃতি অর্জনের জন্য একজন কাব স্কাউটকে দীর্ঘ সময় ধরে নানা বিষয়ে দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ, শৃঙ্খলা, সেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং স্কাউটিংয়ের আদর্শিক চর্চার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়।

 তাই শাপলা কাব অর্জনের পথ মোটেও সহজ নয়; এটি অধ্যবসায়, দায়িত্ববোধ এবং আত্মবিশ্বাসের এক দীর্ঘ যাত্রা।


‎ছয় কাবের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অসংখ্য দিনের অনুশীলন, শিক্ষা, ক্যাম্পিং, দলগত কার্যক্রম এবং সমাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা। 

ছোট ছোট হাতে তারা শিখেছে দায়িত্ব নিতে, অন্যকে সাহায্য করতে, প্রকৃতিকে ভালোবাসতে এবং দেশের প্রতি কর্তব্যবোধ গড়ে তুলতে। সেই শিক্ষারই এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি আজকের এই অর্জন।


‎একজন শিশুর সাফল্যের গল্প কখনোই একার হয় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনেক মানুষের ভালোবাসা, ত্যাগ এবং নিরলস পরিশ্রম। ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্কাউট গ্রুপের এই অর্জনের পেছনেও রয়েছে নিবেদিতপ্রাণ স্কাউটার, শিক্ষক, গ্রুপ পরিচালনা পরিষদ, অভিভাবক এবং জেলা স্কাউট কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

 তাদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা, সময়োপযোগী পরামর্শ এবং নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের পথকে সুগম করেছে।


‎স্কাউটিং মূলত একজন শিশুকে শুধু ভালো শিক্ষার্থী নয়, বরং একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা দেয়। এখানে শেখানো হয় সততা, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব এবং সেবার মানসিকতা।

শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জনকারী এই ছয় শিক্ষার্থী সেই মূল্যবোধগুলোকেই ধারণ করে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে।
‎আজ যখন তাদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে গর্বের সঙ্গে, তখন হয়তো তাদের চোখে ভাসছে ভবিষ্যতের আরও বড় স্বপ্ন।

এই স্বপ্ন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়; এটি দেশ, সমাজ এবং মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার স্বপ্ন। কারণ স্কাউটিংয়ের শিক্ষা মানুষকে শেখায়—নিজের জন্য নয়, সবার জন্য বাঁচতে।


‎ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্কাউট গ্রুপের এই অর্জন নিঃসন্দেহে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে। আগামী দিনে আরও অনেক শিশু এই সাফল্য থেকে উৎসাহ পাবে, স্কাউটিংয়ের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হবে এবং সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিজেদের প্রস্তুত করবে।


‎শাপলার পাপড়িতে আজ যে ছয়টি নাম লেখা হলো, সেগুলো কেবল কয়েকজন কাব স্কাউটের নাম নয়; বরং সেগুলো সম্ভাবনা, স্বপ্ন এবং আগামীর আলোকিত পথচলার প্রতীক। তাদের এই সাফল্যে গর্বিত স্কাউট পরিবার, গর্বিত শিক্ষাঙ্গন, গর্বিত বাংলাদেশ।
‎

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


শাপলার পাপড়িতে ফুটল ছয় কাবের স্বপ্ন: গর্বিত সৈয়দপুর ইন্টারন্যাশনাল স্কুল

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

featured Image

‎একটি শিশুর হাতে যখন শাপলা ফুটে ওঠে, তখন সেটি শুধু একটি পুরস্কার অর্জনের গল্প নয়; বরং তা হয়ে ওঠে শৃঙ্খলা, আত্মনিবেদন, দেশপ্রেম এবং মানবিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠা এক সুন্দর ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি। আর সেই স্বপ্নময় অর্জনের আনন্দে আজ উজ্জ্বল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্কাউট গ্রুপ।


‎২০২৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত মূল্যায়নে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্কাউট গ্রুপের ৬ জন কাব স্কাউট কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। এই অর্জন শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, শিক্ষক এবং পুরো স্কাউট পরিবারের জন্য এক গর্বের অধ্যায়।


‎সাফল্যের এই উজ্জ্বল তালিকায় রয়েছে—তাজিম মুহাম্মদ আশকান, মোঃ নাফিস আখতার, মোঃ আজমির হোসেন বিজয়, নিষাদ করিম, পি. কে. ধ্রুব জ্যোতি এবং মোঃ মোবাশশের হক ফাহিন।


‎বাংলাদেশ স্কাউটসের কাব শাখায় শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডকে ধরা হয় সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটি হিসেবে। 

এই স্বীকৃতি অর্জনের জন্য একজন কাব স্কাউটকে দীর্ঘ সময় ধরে নানা বিষয়ে দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ, শৃঙ্খলা, সেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং স্কাউটিংয়ের আদর্শিক চর্চার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়।

 তাই শাপলা কাব অর্জনের পথ মোটেও সহজ নয়; এটি অধ্যবসায়, দায়িত্ববোধ এবং আত্মবিশ্বাসের এক দীর্ঘ যাত্রা।


‎ছয় কাবের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অসংখ্য দিনের অনুশীলন, শিক্ষা, ক্যাম্পিং, দলগত কার্যক্রম এবং সমাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা। 

ছোট ছোট হাতে তারা শিখেছে দায়িত্ব নিতে, অন্যকে সাহায্য করতে, প্রকৃতিকে ভালোবাসতে এবং দেশের প্রতি কর্তব্যবোধ গড়ে তুলতে। সেই শিক্ষারই এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি আজকের এই অর্জন।


‎একজন শিশুর সাফল্যের গল্প কখনোই একার হয় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনেক মানুষের ভালোবাসা, ত্যাগ এবং নিরলস পরিশ্রম। ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্কাউট গ্রুপের এই অর্জনের পেছনেও রয়েছে নিবেদিতপ্রাণ স্কাউটার, শিক্ষক, গ্রুপ পরিচালনা পরিষদ, অভিভাবক এবং জেলা স্কাউট কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

 তাদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা, সময়োপযোগী পরামর্শ এবং নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের পথকে সুগম করেছে।


‎স্কাউটিং মূলত একজন শিশুকে শুধু ভালো শিক্ষার্থী নয়, বরং একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা দেয়। এখানে শেখানো হয় সততা, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব এবং সেবার মানসিকতা।

শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জনকারী এই ছয় শিক্ষার্থী সেই মূল্যবোধগুলোকেই ধারণ করে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে।
‎আজ যখন তাদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে গর্বের সঙ্গে, তখন হয়তো তাদের চোখে ভাসছে ভবিষ্যতের আরও বড় স্বপ্ন।

এই স্বপ্ন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়; এটি দেশ, সমাজ এবং মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার স্বপ্ন। কারণ স্কাউটিংয়ের শিক্ষা মানুষকে শেখায়—নিজের জন্য নয়, সবার জন্য বাঁচতে।


‎ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্কাউট গ্রুপের এই অর্জন নিঃসন্দেহে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে। আগামী দিনে আরও অনেক শিশু এই সাফল্য থেকে উৎসাহ পাবে, স্কাউটিংয়ের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হবে এবং সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিজেদের প্রস্তুত করবে।


‎শাপলার পাপড়িতে আজ যে ছয়টি নাম লেখা হলো, সেগুলো কেবল কয়েকজন কাব স্কাউটের নাম নয়; বরং সেগুলো সম্ভাবনা, স্বপ্ন এবং আগামীর আলোকিত পথচলার প্রতীক। তাদের এই সাফল্যে গর্বিত স্কাউট পরিবার, গর্বিত শিক্ষাঙ্গন, গর্বিত বাংলাদেশ।
‎


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত