ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

শিক্ষাঙ্গন

আগামীর সময়ের প্রতিবেদন

শিক্ষা এখনো চক ডাস্টারে

শিক্ষা এখনো চক ডাস্টারে
  • স্বল্প বাজেট বরাদ্দ, শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের অভাব
  • স্কুলের ভবন বাড়ছে কিন্তু বাড়ছে না শিক্ষার মান
  • ডিজিটাল কারিকুলামের ধীর বাস্তবায়ন
  • ল্যাবে প্রশিক্ষণ-উপকরণের অভাব
  • প্রশিক্ষণ পান না শিক্ষকরা

ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোয় শিক্ষকরা যখন ক্লাস নিচ্ছেন স্মার্ট বোর্ডে, ঠিক তখন বাংলাদেশের শিক্ষকরা ক্লাসে যাচ্ছেন চক-ডাস্টার হাতে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কাগজে-কলমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার থাকলেও জরিপের তথ্য বলছে, প্রাথমিকে এর ব্যবহার মাত্র দেড় শতাংশ আর মাধ্যমিকে মাত্র ১১ শতাংশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে মুখে ফেনা তুললেও, সত্যিকার ডিজিটাল হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য ‘দিল্লি এখনো বহুদূর’।

অন্যদিকে, ডিজিটালে পথ পেরিয়ে বিশ্বের শিক্ষা খাতে এখন শুরু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের চর্চা। আর আমাদের শিক্ষার্থীরা এখনো পড়ছে অ্যানালগ পদ্ধতিতে। বর্তমান সরকার ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ প্রকল্পের কথা বললেও বাস্তবতা হলো মফস্বলের ৮৬ শতাংশ শিক্ষক এখনো স্মার্টফোনই ব্যবহার করতে পারেন না। সেখানে ট্যাব ব্যবহার করে পড়ানো রীতিমতো স্বপ্নের মতো। তা ছাড়া স্কুলগুলোয় রয়েছে ডিজিটাল উপকরণের অভাব। ল্যাবগুলো পড়ে আছে অকেজো। আর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ তো অনেক দূরের কথা। দেশে তথ্যপ্রযুক্তির জোয়ার এলেও বদলায়নি শিক্ষার পুরনো কাঠামো। ফলে অগ্রগতির এ যাত্রায় এখনো সঙ্গী হতে পারেনি শিক্ষা খাত।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় প্রবেশ করতে প্রথমেই প্রয়োজন বিনিয়োগ। কিন্তু এ খাতে আমাদের বিনিয়োগ এখনো তলানিতেই। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, দেশীয় উৎপাদন বা জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ রাখার কথা। যদিও বাংলাদেশ কখনোই ২ শতাংশের ঘর পেরোতে পারেনি। সবশেষ অর্থবছরে শিক্ষার বরাদ্দ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ।’

যথাযথ বরাদ্দের অভাবে থমকে আছে শিক্ষার অন্যান্য সংস্কারও। আবার যেই বাজেট দেওয়া হয়, এর অধিকাংশই ব্যবহার হয় অবকাঠামোগত উন্নয়নে

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থার (ইউনেসকো) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের জিডিপির ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ ব্যয় হয়েছিল শিক্ষা খাতে। পরে ২০২০ সালে ১ দশমিক ৭৭, ২০২১ সালে ১ দশমিক ৮৩, ২০২২ সালে ১ দশমিক ৭১ এবং ২০২৩ সালে ব্যয় হয় ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ গত সাত বছরেও শিক্ষা খাতে বার্ষিক ব্যয় দেশের জিডিপির ২-এর ঘরে পৌঁছাতে পারেনি।

যথাযথ বরাদ্দের অভাবে থমকে আছে শিক্ষার অন্যান্য সংস্কারও। আবার যেই বাজেট দেওয়া হয়, এর অধিকাংশই ব্যবহার হয় অবকাঠামোগত উন্নয়নে। দেখা যায়, সরকারি স্কুলগুলোর কলেবর বাড়ছে, বড় বড় ভবন হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার মানে কোনো উন্নতি হচ্ছে না। শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। আর শিক্ষকরা যদি যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত না হন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তারা আধুনিক নন; বরং পুরনো পদ্ধতিতেই শেখাবেন। বিশেষ করে, প্রাথমিক স্তরে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার ২০১২ সালের চেয়েও কমেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের দেখা দিচ্ছে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব। কেননা শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা বুঝে পাঠদানের কোনো প্রশিক্ষণই তারা পান না।

বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রেণি অনুযায়ী প্রত্যাশিত শিখন দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না। প্রাথমিক স্তরের শেষের দিকে থাকা অনেক শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে তাদের পাঠ্যবই পড়তে পারে না। মৌলিক গাণিতিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও তারা বেশ দুর্বল। এর প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারেও। দেশে এখন উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের হার ১৩ শতাংশেরও বেশি।

দেশের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তর শেষ করতে পারছে না। ২০২৪ সালে করা ‘বাংলাদেশ শিক্ষা পরিষদ’ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক স্তরে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার ২০১২ সালের তুলনায় কমেছে

তাদেরই একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করা রবিউল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরেই চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। কিন্তু প্রযুক্তিগত দক্ষতা না থাকায় বেসরকারি বেশ কয়েকটি চাকরি হয়নি তারা।

বিশ্ব যখন শিক্ষায় সব সূচকে এগিয়ে গেল, তখন বাংলাদেশ তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না বলে মনে করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনার সময় এর জন্য যে চাপ আমরা অনুভব করেছি, এখন সেই চিত্র নেই। উন্নত দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেভাবে এগোচ্ছে, সেই বিবেচনায় আমরা এখনো অ্যানালগ যুগেই বসবাস করছি।’

পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে-২০২৫’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশে নিম্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেছে— এমন শিক্ষার্থীর হার যথাক্রমে ৭১ ও ৩১ শতাংশ। আর ২০২৫ সালে তা হয় যথাক্রমে ৬৯ দশমিক ৩ ও ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

অর্থাৎ, এখনো দেশের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তর শেষ করতে পারছে না। ২০২৪ সালে করা ‘বাংলাদেশ শিক্ষা পরিষদ’ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক স্তরে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার ২০১২ সালের তুলনায় কমেছে।

সম্প্রতি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এক সেমিনারে উঠে আসে শিক্ষা খাতের নানা দুর্দশার কথা। সেখানে শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী ও শিক্ষা-বিশ্লেষকরাই স্বীকার করলেন এই খাত জুড়ে চলা স্থবিরতার কথা।

অবশ্য সেখানে কিছু আশ্বাস দিয়েছেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিক্ষা বর্তমান সরকারের সবচেয়ে অগ্রাধিকার খাত। জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ রাখার সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

তিনি সেখানে এটাও ঘোষণা দেন, এখন থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে দেওয়া হবে না। প্রশিক্ষণ শেষে চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে এসব শিক্ষক আবার শ্রেণিকক্ষে ফেরবেন।

প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য কত দিনে বাস্তবায়ন হয়; কিংবা আসলেই বাস্তবায়ন হয় কি না— সেটিই এখন দেখার বিষয়। নতুন ধারায় যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষকদের মধ্যে অনুপ্রেরণা নেই বলে উল্লেখ করলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আহসান হাবিব।

তিনি বললেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির যত দ্রুত উন্নতি হচ্ছে, সেখানে গতানুগতিক শিক্ষাধারা আর কাজ করবে না। নতুন ধারায় যাওয়া আমাদের এখনো পর্যন্ত সে পরিমাণ উৎস, প্রশিক্ষণ, অনুপ্রেরণা নেই।’

তাই শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি কারিকুলাম শুধু কাগজে-কলমে না রেখে সেগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিলেন এই শিক্ষাবিদ।

প্রতিবেদন: আগামীর সময় 

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


শিক্ষা এখনো চক ডাস্টারে

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image
  • স্বল্প বাজেট বরাদ্দ, শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের অভাব
  • স্কুলের ভবন বাড়ছে কিন্তু বাড়ছে না শিক্ষার মান
  • ডিজিটাল কারিকুলামের ধীর বাস্তবায়ন
  • ল্যাবে প্রশিক্ষণ-উপকরণের অভাব
  • প্রশিক্ষণ পান না শিক্ষকরা

ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোয় শিক্ষকরা যখন ক্লাস নিচ্ছেন স্মার্ট বোর্ডে, ঠিক তখন বাংলাদেশের শিক্ষকরা ক্লাসে যাচ্ছেন চক-ডাস্টার হাতে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কাগজে-কলমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার থাকলেও জরিপের তথ্য বলছে, প্রাথমিকে এর ব্যবহার মাত্র দেড় শতাংশ আর মাধ্যমিকে মাত্র ১১ শতাংশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে মুখে ফেনা তুললেও, সত্যিকার ডিজিটাল হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য ‘দিল্লি এখনো বহুদূর’।

অন্যদিকে, ডিজিটালে পথ পেরিয়ে বিশ্বের শিক্ষা খাতে এখন শুরু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের চর্চা। আর আমাদের শিক্ষার্থীরা এখনো পড়ছে অ্যানালগ পদ্ধতিতে। বর্তমান সরকার ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ প্রকল্পের কথা বললেও বাস্তবতা হলো মফস্বলের ৮৬ শতাংশ শিক্ষক এখনো স্মার্টফোনই ব্যবহার করতে পারেন না। সেখানে ট্যাব ব্যবহার করে পড়ানো রীতিমতো স্বপ্নের মতো। তা ছাড়া স্কুলগুলোয় রয়েছে ডিজিটাল উপকরণের অভাব। ল্যাবগুলো পড়ে আছে অকেজো। আর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ তো অনেক দূরের কথা। দেশে তথ্যপ্রযুক্তির জোয়ার এলেও বদলায়নি শিক্ষার পুরনো কাঠামো। ফলে অগ্রগতির এ যাত্রায় এখনো সঙ্গী হতে পারেনি শিক্ষা খাত।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় প্রবেশ করতে প্রথমেই প্রয়োজন বিনিয়োগ। কিন্তু এ খাতে আমাদের বিনিয়োগ এখনো তলানিতেই। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, দেশীয় উৎপাদন বা জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ রাখার কথা। যদিও বাংলাদেশ কখনোই ২ শতাংশের ঘর পেরোতে পারেনি। সবশেষ অর্থবছরে শিক্ষার বরাদ্দ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ।’

যথাযথ বরাদ্দের অভাবে থমকে আছে শিক্ষার অন্যান্য সংস্কারও। আবার যেই বাজেট দেওয়া হয়, এর অধিকাংশই ব্যবহার হয় অবকাঠামোগত উন্নয়নে

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থার (ইউনেসকো) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের জিডিপির ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ ব্যয় হয়েছিল শিক্ষা খাতে। পরে ২০২০ সালে ১ দশমিক ৭৭, ২০২১ সালে ১ দশমিক ৮৩, ২০২২ সালে ১ দশমিক ৭১ এবং ২০২৩ সালে ব্যয় হয় ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ গত সাত বছরেও শিক্ষা খাতে বার্ষিক ব্যয় দেশের জিডিপির ২-এর ঘরে পৌঁছাতে পারেনি।

যথাযথ বরাদ্দের অভাবে থমকে আছে শিক্ষার অন্যান্য সংস্কারও। আবার যেই বাজেট দেওয়া হয়, এর অধিকাংশই ব্যবহার হয় অবকাঠামোগত উন্নয়নে। দেখা যায়, সরকারি স্কুলগুলোর কলেবর বাড়ছে, বড় বড় ভবন হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার মানে কোনো উন্নতি হচ্ছে না। শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। আর শিক্ষকরা যদি যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত না হন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তারা আধুনিক নন; বরং পুরনো পদ্ধতিতেই শেখাবেন। বিশেষ করে, প্রাথমিক স্তরে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার ২০১২ সালের চেয়েও কমেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের দেখা দিচ্ছে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব। কেননা শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা বুঝে পাঠদানের কোনো প্রশিক্ষণই তারা পান না।

বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রেণি অনুযায়ী প্রত্যাশিত শিখন দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না। প্রাথমিক স্তরের শেষের দিকে থাকা অনেক শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে তাদের পাঠ্যবই পড়তে পারে না। মৌলিক গাণিতিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও তারা বেশ দুর্বল। এর প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারেও। দেশে এখন উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের হার ১৩ শতাংশেরও বেশি।

দেশের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তর শেষ করতে পারছে না। ২০২৪ সালে করা ‘বাংলাদেশ শিক্ষা পরিষদ’ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক স্তরে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার ২০১২ সালের তুলনায় কমেছে

তাদেরই একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করা রবিউল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরেই চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। কিন্তু প্রযুক্তিগত দক্ষতা না থাকায় বেসরকারি বেশ কয়েকটি চাকরি হয়নি তারা।

বিশ্ব যখন শিক্ষায় সব সূচকে এগিয়ে গেল, তখন বাংলাদেশ তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না বলে মনে করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনার সময় এর জন্য যে চাপ আমরা অনুভব করেছি, এখন সেই চিত্র নেই। উন্নত দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেভাবে এগোচ্ছে, সেই বিবেচনায় আমরা এখনো অ্যানালগ যুগেই বসবাস করছি।’

পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে-২০২৫’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশে নিম্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেছে— এমন শিক্ষার্থীর হার যথাক্রমে ৭১ ও ৩১ শতাংশ। আর ২০২৫ সালে তা হয় যথাক্রমে ৬৯ দশমিক ৩ ও ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

অর্থাৎ, এখনো দেশের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তর শেষ করতে পারছে না। ২০২৪ সালে করা ‘বাংলাদেশ শিক্ষা পরিষদ’ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক স্তরে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার ২০১২ সালের তুলনায় কমেছে।

সম্প্রতি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এক সেমিনারে উঠে আসে শিক্ষা খাতের নানা দুর্দশার কথা। সেখানে শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী ও শিক্ষা-বিশ্লেষকরাই স্বীকার করলেন এই খাত জুড়ে চলা স্থবিরতার কথা।

অবশ্য সেখানে কিছু আশ্বাস দিয়েছেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিক্ষা বর্তমান সরকারের সবচেয়ে অগ্রাধিকার খাত। জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ রাখার সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

তিনি সেখানে এটাও ঘোষণা দেন, এখন থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে দেওয়া হবে না। প্রশিক্ষণ শেষে চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে এসব শিক্ষক আবার শ্রেণিকক্ষে ফেরবেন।

প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য কত দিনে বাস্তবায়ন হয়; কিংবা আসলেই বাস্তবায়ন হয় কি না— সেটিই এখন দেখার বিষয়। নতুন ধারায় যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষকদের মধ্যে অনুপ্রেরণা নেই বলে উল্লেখ করলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আহসান হাবিব।

তিনি বললেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির যত দ্রুত উন্নতি হচ্ছে, সেখানে গতানুগতিক শিক্ষাধারা আর কাজ করবে না। নতুন ধারায় যাওয়া আমাদের এখনো পর্যন্ত সে পরিমাণ উৎস, প্রশিক্ষণ, অনুপ্রেরণা নেই।’

তাই শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি কারিকুলাম শুধু কাগজে-কলমে না রেখে সেগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিলেন এই শিক্ষাবিদ।

প্রতিবেদন: আগামীর সময় 


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত