ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে জাতিসংঘের বাইরে বিক্ষোভ, হলিউড তারকাসহ গ্রেপ্তার শতাধিক

নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে জাতিসংঘের বাইরে বিক্ষোভ, হলিউড তারকাসহ গ্রেপ্তার শতাধিক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নেতানিয়াহুর বক্তব্য চলাকালে অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন তখনই সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ থেকে হলিউড তারকা, মানবাধিকারকর্মী ও জনপ্রতিনিধিসহ শতাধিক মানুষকে আটক করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ। তাদের মধ্যে ইহুদি, ফিলিস্তিনি, ইরানি ও লেবানিজ বংশোদ্ভূত নিউইয়র্কবাসীও ছিলেন।

 

বিক্ষোভকারীদের অনেকের টি-শার্টে লেখা ছিল ‘বোমা নয়, মানুষের পেছনে অর্থ ব্যয় করুন’। তারা ‘গাজাকে বাঁচতে দাও’ ও ‘গণহত্যা বন্ধ করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় সড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে জাতিসংঘের দিকে যাতায়াতকারী সরকারি গাড়িগুলোকে বিকল্প পথে চলতে হয়।

‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা ঘুড়িও ওড়াতে দেখাপ যায় বিক্ষোভকারীদের। চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানোর বিষয়েও হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে প্রতীকীভাবে এই কর্মসূচি নেওয়া হয় বলে আয়োজকেরা জানান।

পরে ব্রায়ান্ট পার্ক থেকে কয়েক হাজার মানুষের আরেকটি মিছিল জাতিসংঘ সদর দপ্তরের দিকে এগিয়ে যায়। মিছিল থেকে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানানো হয়। এর আগে বুধবার জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য বাণিজ্যিক বিমানে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাঠানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছিল।

 

সুজান সারান্ডনসহ যারা আটক
পুলিশের সরে যাওয়ার নির্দেশ অমান্য করে সড়কে অবস্থান নেওয়ায় অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুজান সারান্ডন, হান্না আইনবাইন্ডার, ডেবরা উইঙ্গার, মডেল ও অভিনেত্রী ইন্ডিয়া মুর, হুইসেলব্লোয়ার চেলসি ম্যানিং, কমেডিয়ান ক্যালেব হিরন, লেখক গ্লেনন ডয়েল, ডেভিড ভ্যালেস্কো, র‍্যাবাই অ্যাবি স্টেইন এবং মানবাধিকারকর্মী লিন্ডা সারসুরসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।

আটক হওয়ার আগে অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার জানান, একজন ইহুদি, আমেরিকান ও মানুষ হিসেবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তার নৈতিক দায়িত্ব। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।

বিক্ষোভের সমন্বয়কারী সংগঠন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস অ্যাকশন’-এর রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেন, গত তিন বছরে গাজায় ৭৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিউইয়র্কবাসী কোনো যুদ্ধাপরাধ বা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শহরে দেখতে চায় না বলেও দাবি করেন মিলার।

ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টের নাস ইসা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন এবং যুদ্ধের নীতি চাপিয়ে দিচ্ছেন। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে দায়মুক্তি ভোগ করছে, তা চ্যালেঞ্জ করতে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আটক হয়েছেন জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থীরাও
গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও জনমতে পরিবর্তনের দাবির মধ্যেই বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে অংশ নেন ফিলিস্তিনপন্থী কয়েকজন রাজনীতিক ও নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাদের মধ্যে ব্র্যাড ল্যান্ডার, দারিয়ালিজা আভিলা শ্যভালিয়ের, ক্রিস র‍্যাব, অ্যাডাম হামাউই ও মেলাত কিরোস ছিলেন।

বিক্ষোভ থেকে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে, টিফানি কাবান, কংগ্রেস প্রার্থী শ্যভালিয়ের এবং আগামী নভেম্বরে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য আইনসভার প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সদস্য হওয়ার পথে থাকা আবের কাওয়াসসহ অন্তত ১০ জন জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থীকে আটক করা হয়।

২০২৪ সালে গাজায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া সাবেক সেনা চিকিৎসক ও প্রার্থী অ্যাডাম হামাউই বলেন, আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার দায়িত্বে থাকা জাতিসংঘের উচিত ছিল নেতানিয়াহুকে দ্য হেগের আদালতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা, তাকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো নয়।

মামদানির জন্যও তৈরি হয়েছে চাপ
বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনায় নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান এবং নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েই নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন মামদানি। তবে চলতি বছরের শুরুতে তিনি স্বীকার করেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আইনি এখতিয়ার নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের নেই। এ বিষয়ে ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবারের আটকের বিষয়ে মেয়রের দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে মামদানি বলেছিলেন, সংবিধান অনুযায়ী নিউইয়র্কবাসীর বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে এবং তার প্রশাসন সেই অধিকারকে সম্মান করে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে জাতিসংঘের বাইরে বিক্ষোভ, হলিউড তারকাসহ গ্রেপ্তার শতাধিক

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নেতানিয়াহুর বক্তব্য চলাকালে অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন তখনই সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ থেকে হলিউড তারকা, মানবাধিকারকর্মী ও জনপ্রতিনিধিসহ শতাধিক মানুষকে আটক করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ। তাদের মধ্যে ইহুদি, ফিলিস্তিনি, ইরানি ও লেবানিজ বংশোদ্ভূত নিউইয়র্কবাসীও ছিলেন।

 

বিক্ষোভকারীদের অনেকের টি-শার্টে লেখা ছিল ‘বোমা নয়, মানুষের পেছনে অর্থ ব্যয় করুন’। তারা ‘গাজাকে বাঁচতে দাও’ ও ‘গণহত্যা বন্ধ করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় সড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে জাতিসংঘের দিকে যাতায়াতকারী সরকারি গাড়িগুলোকে বিকল্প পথে চলতে হয়।

‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা ঘুড়িও ওড়াতে দেখাপ যায় বিক্ষোভকারীদের। চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানোর বিষয়েও হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে প্রতীকীভাবে এই কর্মসূচি নেওয়া হয় বলে আয়োজকেরা জানান।

পরে ব্রায়ান্ট পার্ক থেকে কয়েক হাজার মানুষের আরেকটি মিছিল জাতিসংঘ সদর দপ্তরের দিকে এগিয়ে যায়। মিছিল থেকে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানানো হয়। এর আগে বুধবার জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য বাণিজ্যিক বিমানে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাঠানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছিল।

 

সুজান সারান্ডনসহ যারা আটক
পুলিশের সরে যাওয়ার নির্দেশ অমান্য করে সড়কে অবস্থান নেওয়ায় অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুজান সারান্ডন, হান্না আইনবাইন্ডার, ডেবরা উইঙ্গার, মডেল ও অভিনেত্রী ইন্ডিয়া মুর, হুইসেলব্লোয়ার চেলসি ম্যানিং, কমেডিয়ান ক্যালেব হিরন, লেখক গ্লেনন ডয়েল, ডেভিড ভ্যালেস্কো, র‍্যাবাই অ্যাবি স্টেইন এবং মানবাধিকারকর্মী লিন্ডা সারসুরসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।

আটক হওয়ার আগে অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার জানান, একজন ইহুদি, আমেরিকান ও মানুষ হিসেবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তার নৈতিক দায়িত্ব। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।

বিক্ষোভের সমন্বয়কারী সংগঠন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস অ্যাকশন’-এর রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেন, গত তিন বছরে গাজায় ৭৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিউইয়র্কবাসী কোনো যুদ্ধাপরাধ বা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শহরে দেখতে চায় না বলেও দাবি করেন মিলার।

ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টের নাস ইসা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন এবং যুদ্ধের নীতি চাপিয়ে দিচ্ছেন। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে দায়মুক্তি ভোগ করছে, তা চ্যালেঞ্জ করতে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আটক হয়েছেন জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থীরাও
গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও জনমতে পরিবর্তনের দাবির মধ্যেই বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে অংশ নেন ফিলিস্তিনপন্থী কয়েকজন রাজনীতিক ও নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাদের মধ্যে ব্র্যাড ল্যান্ডার, দারিয়ালিজা আভিলা শ্যভালিয়ের, ক্রিস র‍্যাব, অ্যাডাম হামাউই ও মেলাত কিরোস ছিলেন।

বিক্ষোভ থেকে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে, টিফানি কাবান, কংগ্রেস প্রার্থী শ্যভালিয়ের এবং আগামী নভেম্বরে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য আইনসভার প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সদস্য হওয়ার পথে থাকা আবের কাওয়াসসহ অন্তত ১০ জন জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থীকে আটক করা হয়।

২০২৪ সালে গাজায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া সাবেক সেনা চিকিৎসক ও প্রার্থী অ্যাডাম হামাউই বলেন, আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার দায়িত্বে থাকা জাতিসংঘের উচিত ছিল নেতানিয়াহুকে দ্য হেগের আদালতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা, তাকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো নয়।

মামদানির জন্যও তৈরি হয়েছে চাপ
বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনায় নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান এবং নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েই নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন মামদানি। তবে চলতি বছরের শুরুতে তিনি স্বীকার করেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আইনি এখতিয়ার নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের নেই। এ বিষয়ে ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবারের আটকের বিষয়ে মেয়রের দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে মামদানি বলেছিলেন, সংবিধান অনুযায়ী নিউইয়র্কবাসীর বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে এবং তার প্রশাসন সেই অধিকারকে সম্মান করে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত