ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

জন দুর্ভোগ

ধসের ঝুঁকিতে সৈয়দপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস: নেই স্যানিটেশন ও সংরক্ষণ ব্যাবস্থা

ধসের ঝুঁকিতে সৈয়দপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস: নেই স্যানিটেশন ও সংরক্ষণ ব্যাবস্থা

ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ভবনেই চলছে সৈয়দপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম। ১৯৮২ সালে নির্মিত ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে একজন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। নিরাপত্তার কারণে নির্ধারিত এজলাস ছেড়ে পাশের কক্ষে বসে কাজ করছেন খণ্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মাসুম।

সহকারী রেজিস্ট্রার আ. রব বলেন, “এখানে ফাইল রাখার কোনো জায়গা নেই। মূল্যবান দলিলপত্র ভিজে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। অথচ কোটি কোটি টাকার ফাইলপত্র এখানে সংরক্ষিত রয়েছে।”

তিনি জানান, মাত্র চারটি কক্ষে অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই ভবনে সহকারী সেটেলমেন্ট, পরিসংখ্যান ও সমবায় কার্যালয়ও রয়েছে। নকলনবিশসহ প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে কাজ করেন।

নকলনবিশ আ. আউয়াল বলেন, “আমরা বারান্দায় বসে কাজ করি। মাথার ওপর থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে একজন আহত হয়েছিলেন। এরপরও ভবনটি মেরামত করা হয়নি।”

অফিসে টয়লেট বা ওয়াশরুমের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরে যেতে হয়। এতে দাপ্তরিক কাজে ব্যাঘাত ঘটে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম হয়। ওই দুই দিন জমি ও দলিল-সংক্রান্ত কাজে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। কোনো কোনো দিন প্রায় এক হাজার মানুষ অফিসে আসেন। অন্য দিনগুলোতেও সেবা নিতে লোকজনের উপস্থিতি থাকে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ কার্যালয়ের মাধ্যমে সরকার প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব পায়। তবে দীর্ঘদিনেও ভবনটির বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। নতুন ভবনের প্রয়োজন থাকলেও নিজস্ব জমি না থাকায় বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না।

সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, “ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। তাই আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছি।”

সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত ভবনটির কারিগরি নিরাপত্তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা নতুন ভবনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


ধসের ঝুঁকিতে সৈয়দপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস: নেই স্যানিটেশন ও সংরক্ষণ ব্যাবস্থা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ভবনেই চলছে সৈয়দপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম। ১৯৮২ সালে নির্মিত ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে একজন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। নিরাপত্তার কারণে নির্ধারিত এজলাস ছেড়ে পাশের কক্ষে বসে কাজ করছেন খণ্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মাসুম।

সহকারী রেজিস্ট্রার আ. রব বলেন, “এখানে ফাইল রাখার কোনো জায়গা নেই। মূল্যবান দলিলপত্র ভিজে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। অথচ কোটি কোটি টাকার ফাইলপত্র এখানে সংরক্ষিত রয়েছে।”

তিনি জানান, মাত্র চারটি কক্ষে অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই ভবনে সহকারী সেটেলমেন্ট, পরিসংখ্যান ও সমবায় কার্যালয়ও রয়েছে। নকলনবিশসহ প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে কাজ করেন।

নকলনবিশ আ. আউয়াল বলেন, “আমরা বারান্দায় বসে কাজ করি। মাথার ওপর থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে একজন আহত হয়েছিলেন। এরপরও ভবনটি মেরামত করা হয়নি।”

অফিসে টয়লেট বা ওয়াশরুমের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরে যেতে হয়। এতে দাপ্তরিক কাজে ব্যাঘাত ঘটে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম হয়। ওই দুই দিন জমি ও দলিল-সংক্রান্ত কাজে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। কোনো কোনো দিন প্রায় এক হাজার মানুষ অফিসে আসেন। অন্য দিনগুলোতেও সেবা নিতে লোকজনের উপস্থিতি থাকে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ কার্যালয়ের মাধ্যমে সরকার প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব পায়। তবে দীর্ঘদিনেও ভবনটির বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। নতুন ভবনের প্রয়োজন থাকলেও নিজস্ব জমি না থাকায় বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না।

সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, “ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। তাই আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছি।”

সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত ভবনটির কারিগরি নিরাপত্তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা নতুন ভবনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত