ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

আন্তর্জাতিক

দ. কোরিয়ায় শত বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড

দ. কোরিয়ায় শত বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড

দক্ষিণ কোরিয়ায় গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আবহাওয়া রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার দেশটির সরকারি আবহাওয়া সংস্থা কোরিয়া মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (কেএমএ) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানে রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট)।

চলমান এই তীব্র দাবদাহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দেশটির ইয়াংসান শহর। সেখানে রোববার টানা পঞ্চম দিনের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চলজুড়েই তাপদাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির অধিকাংশ শহরেই তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে পৌঁছেছে।

ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ভালোভাবে মোকাবিলা করার জন্য চলতি বছর চালু করা নতুন তাপমাত্রা ক্যাটাগরি ‌‘জরুরি তাপদাহ সতর্কতার’ আওতায় রোববার দেশটির ২০টিরও বেশি এলাকা ছিল।

দেশটির কোনও অঞ্চলে অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা প্রকৃত তাপমাত্রা একদিনের জন্য ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হলে এই জরুরি তাপদাহ সতর্কতা জারি করা হয়।

কেএমএর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকে দেশটিতে বছরে তাপদাহের গড় সময় ৮ দিন; যা গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১৯ দিনে দাঁড়িয়েছে।

সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অন্তত ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সেটিকে ‘তাপদাহের দিন’ এবং রাতভর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে থাকলে সেটিকে ট্রপিক্যাল নাইট বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দাবদাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো এখন আরও ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে এবং তীব্র আকার ধারণ করছে।

গত মাসে প্রতিবেশী জাপানেও চরম ও প্রাণঘাতী দাবদাহের প্রভাব দেখা গেছে। দেশটির সরকার সম্প্রতি কয়েকটি শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল।

জাপানের আবহাওয়া দপ্তর দেশটির অধিকাংশ এলাকার জন্য হিট স্ট্রোক সতর্কতা জারি করেছিল। পাশাপাশি রাজধানী টোকিওর উত্তরে কুমাগায়া এবং মধ্য জাপানের নাগয়াতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ‘কোকুশোবি’ (ভয়াবহ গরমের দিন) ঘোষণা করেছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অবাধে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার, নিয়মিত পানি পান এবং দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

জাপানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর গ্রীষ্ম দেখা যাচ্ছে; যেখানে গত বছর দেশটিতে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।

সূত্র: এএফপি।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


দ. কোরিয়ায় শত বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ কোরিয়ায় গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আবহাওয়া রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার দেশটির সরকারি আবহাওয়া সংস্থা কোরিয়া মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (কেএমএ) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানে রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট)।

চলমান এই তীব্র দাবদাহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দেশটির ইয়াংসান শহর। সেখানে রোববার টানা পঞ্চম দিনের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চলজুড়েই তাপদাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির অধিকাংশ শহরেই তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে পৌঁছেছে।

ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ভালোভাবে মোকাবিলা করার জন্য চলতি বছর চালু করা নতুন তাপমাত্রা ক্যাটাগরি ‌‘জরুরি তাপদাহ সতর্কতার’ আওতায় রোববার দেশটির ২০টিরও বেশি এলাকা ছিল।

দেশটির কোনও অঞ্চলে অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা প্রকৃত তাপমাত্রা একদিনের জন্য ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হলে এই জরুরি তাপদাহ সতর্কতা জারি করা হয়।

কেএমএর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকে দেশটিতে বছরে তাপদাহের গড় সময় ৮ দিন; যা গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১৯ দিনে দাঁড়িয়েছে।

সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অন্তত ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সেটিকে ‘তাপদাহের দিন’ এবং রাতভর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে থাকলে সেটিকে ট্রপিক্যাল নাইট বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দাবদাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো এখন আরও ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে এবং তীব্র আকার ধারণ করছে।

গত মাসে প্রতিবেশী জাপানেও চরম ও প্রাণঘাতী দাবদাহের প্রভাব দেখা গেছে। দেশটির সরকার সম্প্রতি কয়েকটি শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল।

জাপানের আবহাওয়া দপ্তর দেশটির অধিকাংশ এলাকার জন্য হিট স্ট্রোক সতর্কতা জারি করেছিল। পাশাপাশি রাজধানী টোকিওর উত্তরে কুমাগায়া এবং মধ্য জাপানের নাগয়াতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ‘কোকুশোবি’ (ভয়াবহ গরমের দিন) ঘোষণা করেছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অবাধে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার, নিয়মিত পানি পান এবং দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

জাপানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর গ্রীষ্ম দেখা যাচ্ছে; যেখানে গত বছর দেশটিতে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।

সূত্র: এএফপি।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত