ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

আন্তর্জাতিক

ভারতের মণিপুরে ফের সহিংসতা, উত্তেজনায় থমথমে পরিস্থিতি

ভারতের মণিপুরে ফের সহিংসতা, উত্তেজনায় থমথমে পরিস্থিতি

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা। শনিবার কুকি উপজাতির বিরুদ্ধে মেইতেই সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। ২০২৩ সালে জাতিগত বিরোধ থেকে শুরু হওয়া সংঘাত গোটা রাজ্যকেই নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

অর্থনৈতিক সুবিধা ও সরকারি চাকরির কোটা নিয়ে মণিপুরের মেইতেই আর কুকি সম্প্রদায়ের বিরোধ ক্রমেই রূপ নিচ্ছে এক স্থায়ী সংকটে।

স্থানীয় একজন ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘কুকিদের কিছু লোক আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। আমাদের লোকজন বাধা দিতে গেলে সেনাবাহিনী উল্টো কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে আমাদের তাড়িয়ে দেয়।’

মণিপুরের পশ্চিম ইম্ফলের লেলন ভাইফেই গ্রামের কাছে চলতি বছরের শুরুতে অপহৃত ১৮ জনের মধ্যে ছয়জনের খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত ১০ জুন তাদের দেহাবশেষের বাকি অংশ উদ্ধারের পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে গ্রামবাসীর ত্রিমুখী সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। আর এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবাধে প্রবেশ করছে অবৈধ অস্ত্র, যা এই সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে।

২০২৩ সালে মেইতেইরা তফসিলি উপজাতির মর্যাদা দাবি করলে কুকি সম্প্রদায় পৈতৃক জমি হারানোর আশঙ্কায় প্রতিরোধ শুরু করে। পরে নাগা সম্প্রদায় সেই বিরোধে সম্পৃক্ত হলে সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করে।

দীর্ঘস্থায়ী এই সহিংসতায় গত এক বছরে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২৬০ জন। আর বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


ভারতের মণিপুরে ফের সহিংসতা, উত্তেজনায় থমথমে পরিস্থিতি

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা। শনিবার কুকি উপজাতির বিরুদ্ধে মেইতেই সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। ২০২৩ সালে জাতিগত বিরোধ থেকে শুরু হওয়া সংঘাত গোটা রাজ্যকেই নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

অর্থনৈতিক সুবিধা ও সরকারি চাকরির কোটা নিয়ে মণিপুরের মেইতেই আর কুকি সম্প্রদায়ের বিরোধ ক্রমেই রূপ নিচ্ছে এক স্থায়ী সংকটে।

স্থানীয় একজন ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘কুকিদের কিছু লোক আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। আমাদের লোকজন বাধা দিতে গেলে সেনাবাহিনী উল্টো কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে আমাদের তাড়িয়ে দেয়।’

মণিপুরের পশ্চিম ইম্ফলের লেলন ভাইফেই গ্রামের কাছে চলতি বছরের শুরুতে অপহৃত ১৮ জনের মধ্যে ছয়জনের খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত ১০ জুন তাদের দেহাবশেষের বাকি অংশ উদ্ধারের পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে গ্রামবাসীর ত্রিমুখী সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। আর এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবাধে প্রবেশ করছে অবৈধ অস্ত্র, যা এই সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে।

২০২৩ সালে মেইতেইরা তফসিলি উপজাতির মর্যাদা দাবি করলে কুকি সম্প্রদায় পৈতৃক জমি হারানোর আশঙ্কায় প্রতিরোধ শুরু করে। পরে নাগা সম্প্রদায় সেই বিরোধে সম্পৃক্ত হলে সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করে।

দীর্ঘস্থায়ী এই সহিংসতায় গত এক বছরে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২৬০ জন। আর বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত