ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

জন দুর্ভোগ

আত্রাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

আত্রাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স গত ২৯ জুন ২০২৬ থেকে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার রোগী ও তাদের স্বজনরা। জরুরি রোগীদের রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়াসহ বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে জরুরি রোগী পরিবহনে সংকট তৈরি হয়েছে এবং সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোহাম্মদ খায়রুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণের কথা উল্লেখ করেন। কখনও বরাদ্দসংক্রান্ত সমস্যার কথা বলেন, আবার কখনও দাবি করেন, কয়েকটি পেট্রোল পাম্প জ্বালানি সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করায় অ্যাম্বুলেন্সটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স বন্ধের কারণ হিসেবে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। এটি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বা মনগড়া বক্তব্য।”

সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক টিপু জানান, “অফিস থেকেই আমাকে গাড়ি চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। অফিস থেকে নির্দেশ পেলেই আমি আবার অ্যাম্বুলেন্স চালাব। প্রতিদিন রোগী ও তাদের স্বজনরা ফোন করেন। আমি সবাইকে জানাই, অফিসের নির্দেশেই গাড়ি বন্ধ রয়েছে। শুনেছি বাজেট-সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই এটি বন্ধ রাখা হয়েছে।”

সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় রোগীদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়ে সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও তাঁর বক্তব্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (বড়বাবু) শাহি আলমের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে জরুরি এ সেবা বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। রোগীর স্বজনরা অবিলম্বে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুনরায় চালুর পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


আত্রাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image


নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স গত ২৯ জুন ২০২৬ থেকে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার রোগী ও তাদের স্বজনরা। জরুরি রোগীদের রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়াসহ বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে জরুরি রোগী পরিবহনে সংকট তৈরি হয়েছে এবং সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোহাম্মদ খায়রুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণের কথা উল্লেখ করেন। কখনও বরাদ্দসংক্রান্ত সমস্যার কথা বলেন, আবার কখনও দাবি করেন, কয়েকটি পেট্রোল পাম্প জ্বালানি সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করায় অ্যাম্বুলেন্সটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স বন্ধের কারণ হিসেবে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। এটি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বা মনগড়া বক্তব্য।”

সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক টিপু জানান, “অফিস থেকেই আমাকে গাড়ি চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। অফিস থেকে নির্দেশ পেলেই আমি আবার অ্যাম্বুলেন্স চালাব। প্রতিদিন রোগী ও তাদের স্বজনরা ফোন করেন। আমি সবাইকে জানাই, অফিসের নির্দেশেই গাড়ি বন্ধ রয়েছে। শুনেছি বাজেট-সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই এটি বন্ধ রাখা হয়েছে।”

সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় রোগীদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়ে সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও তাঁর বক্তব্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (বড়বাবু) শাহি আলমের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে জরুরি এ সেবা বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। রোগীর স্বজনরা অবিলম্বে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুনরায় চালুর পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত