ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

আন্তর্জাতিক

আফগান সীমান্তে মুহুর্মুহু হামলা পাকিস্তানের, নিহত ২৯

আফগান সীমান্তে মুহুর্মুহু হামলা পাকিস্তানের, নিহত ২৯

আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো এক বিশাল স্থল অভিযান ও বিমান হামলায় অন্তত ২৯ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। করাচি শহরে আধাসামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরে এক আত্মঘাতী হামলায় তিন পাকিস্তানি সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঠিক পরদিনই এই বড় ধরনের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে এই বিশেষ সামরিক অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর চালানো একাধিক প্রাণঘাতী হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই নতুন অভিযানটি শুরু করা হয়েছে।

পাকিস্তানি তথ্যমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্তানের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত পাক্তিয়া, পাক্তিকা এবং কুনার— এই তিন প্রদেশের সুনির্দিষ্ট তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত বিমান হামলা চালিয়ে যোদ্ধাদের আস্তানাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আফগানিস্তানের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এই ঘটনাটির ঠিক একদিন আগে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী করাচিতে ভারী অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে একদল যোদ্ধা আধাসামরিক বাহিনী পাকিস্তান রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে আকস্মিক হামলা চালায়। ওই সশস্ত্র সংঘর্ষে পাকিস্তানের তিন সেনা সদস্য নিহত হন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে তিন হামলাকারীও ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ ছাড়া পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী সেখান থেকে এক আফগান নাগরিককে মারাত্মক আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। পাকিস্তানের নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির একটি বিচ্ছিন্ন দল জামাত-উল-আহরার গত শনিবার রাতে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই করাচি হামলার দায় স্বীকার করে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার স্পষ্ট করে বলেছেন যে আফগান সীমান্তের এই বিশেষ অভিযানটি মূলত টিটিপি যোদ্ধাদের গোপন আস্তানা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

উল্লেখ্য যে পাকিস্তানের টিটিপি এবং আফগানিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীন তালেবান দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও পৃথক সশস্ত্র দল হলেও আদর্শগতভাবে তারা একে অপরের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এই ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রবিবারের এই আন্তঃসীমান্ত বিমান ও স্থল অভিযান মূলত ইসলামাবাদ এবং কাবুলের মধ্যকার ইতিমধ্যে অত্যন্ত তিক্ত ও ভঙ্গুর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বেশি সংকটের মুখে ঠেলে দেবে। এর আগে আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের ভেতরে চালানো হামলার পাল্টা জবাবে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় সামরিক সংঘাত চলছে, যাতে ইতিমধ্যে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

যদিও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একাধিকবার দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনা হয়েছে এবং গত এপ্রিল মাসে চীন দুই পক্ষকে নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকও আয়োজন করেছিল, যেখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা না বাড়ানোর বিষয়ে তারা সম্মত হয়েছিল।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার টিটিপি এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের নিজেদের ভূখণ্ডে নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছে, যারা প্রতিনিয়ত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে মারাত্মক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তবে কাবুলের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন ইসলামাবাদের এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ বরাবরই শক্তভাবে অস্বীকার করে আসছে।

সূত্র: আল জাজিরা

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


আফগান সীমান্তে মুহুর্মুহু হামলা পাকিস্তানের, নিহত ২৯

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো এক বিশাল স্থল অভিযান ও বিমান হামলায় অন্তত ২৯ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। করাচি শহরে আধাসামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরে এক আত্মঘাতী হামলায় তিন পাকিস্তানি সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঠিক পরদিনই এই বড় ধরনের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে এই বিশেষ সামরিক অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর চালানো একাধিক প্রাণঘাতী হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই নতুন অভিযানটি শুরু করা হয়েছে।

পাকিস্তানি তথ্যমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্তানের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত পাক্তিয়া, পাক্তিকা এবং কুনার— এই তিন প্রদেশের সুনির্দিষ্ট তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত বিমান হামলা চালিয়ে যোদ্ধাদের আস্তানাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আফগানিস্তানের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এই ঘটনাটির ঠিক একদিন আগে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী করাচিতে ভারী অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে একদল যোদ্ধা আধাসামরিক বাহিনী পাকিস্তান রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে আকস্মিক হামলা চালায়। ওই সশস্ত্র সংঘর্ষে পাকিস্তানের তিন সেনা সদস্য নিহত হন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে তিন হামলাকারীও ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ ছাড়া পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী সেখান থেকে এক আফগান নাগরিককে মারাত্মক আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। পাকিস্তানের নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির একটি বিচ্ছিন্ন দল জামাত-উল-আহরার গত শনিবার রাতে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই করাচি হামলার দায় স্বীকার করে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার স্পষ্ট করে বলেছেন যে আফগান সীমান্তের এই বিশেষ অভিযানটি মূলত টিটিপি যোদ্ধাদের গোপন আস্তানা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

উল্লেখ্য যে পাকিস্তানের টিটিপি এবং আফগানিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীন তালেবান দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও পৃথক সশস্ত্র দল হলেও আদর্শগতভাবে তারা একে অপরের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এই ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রবিবারের এই আন্তঃসীমান্ত বিমান ও স্থল অভিযান মূলত ইসলামাবাদ এবং কাবুলের মধ্যকার ইতিমধ্যে অত্যন্ত তিক্ত ও ভঙ্গুর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বেশি সংকটের মুখে ঠেলে দেবে। এর আগে আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের ভেতরে চালানো হামলার পাল্টা জবাবে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় সামরিক সংঘাত চলছে, যাতে ইতিমধ্যে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

যদিও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একাধিকবার দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনা হয়েছে এবং গত এপ্রিল মাসে চীন দুই পক্ষকে নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকও আয়োজন করেছিল, যেখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা না বাড়ানোর বিষয়ে তারা সম্মত হয়েছিল।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার টিটিপি এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের নিজেদের ভূখণ্ডে নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছে, যারা প্রতিনিয়ত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে মারাত্মক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তবে কাবুলের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন ইসলামাবাদের এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ বরাবরই শক্তভাবে অস্বীকার করে আসছে।

সূত্র: আল জাজিরা


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত