ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া লেবানন–ইসরায়েল চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল হিজবুল্লাহ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া লেবানন–ইসরায়েল চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল হিজবুল্লাহ

হিজবুল্লাহর সহকারী মহাসচিব নাইম কাশেম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত রূপরেখা চুক্তিকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। শনিবার (২৭ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ চুক্তি অবৈধ ও অকার্যকর। তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার আলোকে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানান। ওয়াশিংটনে শুক্রবার বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে পঞ্চম দফা আলোচনার পর এই চুক্তির ঘোষণা হয়। এরপর এটাই হিজবুল্লাহ প্রধানের প্রথম প্রতিক্রিয়া।

নাইম কাশেম বলেন, এ চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অকার্যকর। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের পুরো ভূখণ্ড থেকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রস্তাব। এটি সব সীমা অতিক্রম করেছে। এমন পদক্ষেপ লেবাননকে শত্রু ইসরায়েলের হাতের পুতুল বানিয়ে দেবে।

লেবাননে চুক্তি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও আইনপ্রণেতা এটিকে ‘ঐতিহাসিক’ এবং দেশের জন্য ‘রক্ষাকবচ’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে অনেকে একে ইসরায়েলের প্রতি একতরফা ছাড় হিসেবে নিন্দা করেছেন। বৈরুতে চুক্তির বিরোধিতায় বিক্ষোভও হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের যৌথ ঘোষণায় শুক্রবার এই রূপরেখা চুক্তির কথা জানানো হয়। ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

নাদা হামাদাহ বলেন, এ চুক্তি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধার, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘরে ফেরা এবং সব লেবাননির নিরাপদ জীবনের পথে প্রথম পদক্ষেপ।

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত লেইটার বলেন, চুক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে উভয় দেশের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে এবং একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। এরপর থেকেই নতুন করে ইসরায়েল-লেবানন সংঘাত শুরু হয়। ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে কয়েকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়।

চলতি বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহর হামলায় অন্তত ৩৭ জন ইসরায়েলের সেনা নিহত হয়েছে।

এর আগে কয়েকবার সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও তা টেকেনি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আরেকটি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।

সূত্র: আনাদোলু

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া লেবানন–ইসরায়েল চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল হিজবুল্লাহ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

হিজবুল্লাহর সহকারী মহাসচিব নাইম কাশেম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত রূপরেখা চুক্তিকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। শনিবার (২৭ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ চুক্তি অবৈধ ও অকার্যকর। তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার আলোকে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানান। ওয়াশিংটনে শুক্রবার বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে পঞ্চম দফা আলোচনার পর এই চুক্তির ঘোষণা হয়। এরপর এটাই হিজবুল্লাহ প্রধানের প্রথম প্রতিক্রিয়া।

নাইম কাশেম বলেন, এ চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অকার্যকর। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের পুরো ভূখণ্ড থেকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রস্তাব। এটি সব সীমা অতিক্রম করেছে। এমন পদক্ষেপ লেবাননকে শত্রু ইসরায়েলের হাতের পুতুল বানিয়ে দেবে।

লেবাননে চুক্তি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও আইনপ্রণেতা এটিকে ‘ঐতিহাসিক’ এবং দেশের জন্য ‘রক্ষাকবচ’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে অনেকে একে ইসরায়েলের প্রতি একতরফা ছাড় হিসেবে নিন্দা করেছেন। বৈরুতে চুক্তির বিরোধিতায় বিক্ষোভও হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের যৌথ ঘোষণায় শুক্রবার এই রূপরেখা চুক্তির কথা জানানো হয়। ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

নাদা হামাদাহ বলেন, এ চুক্তি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধার, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘরে ফেরা এবং সব লেবাননির নিরাপদ জীবনের পথে প্রথম পদক্ষেপ।

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত লেইটার বলেন, চুক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে উভয় দেশের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে এবং একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। এরপর থেকেই নতুন করে ইসরায়েল-লেবানন সংঘাত শুরু হয়। ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে কয়েকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়।

চলতি বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহর হামলায় অন্তত ৩৭ জন ইসরায়েলের সেনা নিহত হয়েছে।

এর আগে কয়েকবার সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও তা টেকেনি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আরেকটি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।

সূত্র: আনাদোলু


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত