শহরও কখনো ক্লান্ত হয়ে পড়ে। দিনের পর দিন যানজট, ফুটপাত দখল আর অপরিকল্পিত বিস্তারের চাপে তার স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে যায়। তখন প্রয়োজন হয় নতুন করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার। নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে রবিবারের মাপজোখ কার্যক্রম ছিল তেমনই এক উদ্যোগ—একটি শহরকে তার হারিয়ে যাওয়া জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়াস।
রবিবার বেলা ১১টা থেকে শহরের পাঁচমাথা মোড় হতে শহীদ ডা. জিকরুল সড়কের পশ্চিমাংশে মাপজোখ কার্যক্রম শুরু করে সৈয়দপুর পৌর কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতায় এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল সড়ক, ফুটপাত ও পৌরসভার মালিকানাধীন জায়গার প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ এবং যানজট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনেকেই আগ্রহভরে দেখছিলেন কীভাবে বছরের পর বছর ধরে হারিয়ে যাওয়া পৌরসভার জায়গাগুলো আবার নথির পাতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
মাপজোখে দেখা যায়, ওই এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পৌরসভার লাইসেন্স গ্রহণ করলেও অধিকাংশই লাইসেন্সে উল্লেখিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত জায়গা দখল করে রেখেছে। দোকানের সামনের অংশ বাড়িয়ে কিংবা ফুটপাতের জায়গা ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনার ফলে পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল এবং সৃষ্টি হচ্ছিল দীর্ঘস্থায়ী যানজট।
সার্ভেয়ার আবু সাঈদ জানান, পৌরসভার সংরক্ষিত নথি ও লাইসেন্স অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সীমানা যাচাই করা হয়েছে। মাপজোখে বেশ কিছু দোকান নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত জায়গা ব্যবহার করছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করে তা চিহ্নিত করছি, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের জটিলতা না থাকে এবং পৌরসভার সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকে।”
মাপজোখ শেষে পৌরসভার প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের লাইসেন্সবিহীন অতিরিক্ত জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। পরে উদ্ধার হওয়া অংশগুলো লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হয়। লাল সেই দাগগুলো যেন শহরের নতুন সীমারেখা, যা মনে করিয়ে দেয়—জনগণের সম্পদ জনগণের জন্যই সংরক্ষিত থাকতে হবে।
এ সময় সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহিন আকতার শাহিন বলেন, “আমরা এ শহরে সর্বদা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চাই। ব্যবসায়ীসহ সকলকে নিয়ে যানজট সমস্যা নিরসন করতে চাই। শহরের উন্নয়ন ও জনস্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আইয়ুব আলী বলেন, “মাপজোখে দেখা গেছে, অনেক ব্যবসায়ী অতিরিক্ত জমি দখলে রেখেছেন। এসব জমির বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা কোনো সংঘাত চাই না; বরং আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে চাই।”
একটি শহরের সৌন্দর্য শুধু তার ভবন, সড়ক কিংবা স্থাপনায় নয়; বরং তার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায়। ফুটপাত পথচারীর জন্য, সড়ক যানবাহনের জন্য—এই সহজ সত্য প্রতিষ্ঠিত হলেই নগরজীবন হয়ে ওঠে আরও স্বস্তিদায়ক। সৈয়দপুরের এই উদ্যোগ তাই শুধু জমি উদ্ধারের ঘটনা নয়, এটি একটি শহরের নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার গল্প। কোটি টাকার পৌর জায়গা উদ্ধারের পাশাপাশি নগরবাসীর প্রত্যাশা—এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিন গড়ে উঠবে পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও যানজটমুক্ত সৈয়দপুর।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
শহরও কখনো ক্লান্ত হয়ে পড়ে। দিনের পর দিন যানজট, ফুটপাত দখল আর অপরিকল্পিত বিস্তারের চাপে তার স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে যায়। তখন প্রয়োজন হয় নতুন করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার। নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে রবিবারের মাপজোখ কার্যক্রম ছিল তেমনই এক উদ্যোগ—একটি শহরকে তার হারিয়ে যাওয়া জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়াস।
রবিবার বেলা ১১টা থেকে শহরের পাঁচমাথা মোড় হতে শহীদ ডা. জিকরুল সড়কের পশ্চিমাংশে মাপজোখ কার্যক্রম শুরু করে সৈয়দপুর পৌর কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতায় এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল সড়ক, ফুটপাত ও পৌরসভার মালিকানাধীন জায়গার প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ এবং যানজট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনেকেই আগ্রহভরে দেখছিলেন কীভাবে বছরের পর বছর ধরে হারিয়ে যাওয়া পৌরসভার জায়গাগুলো আবার নথির পাতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
মাপজোখে দেখা যায়, ওই এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পৌরসভার লাইসেন্স গ্রহণ করলেও অধিকাংশই লাইসেন্সে উল্লেখিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত জায়গা দখল করে রেখেছে। দোকানের সামনের অংশ বাড়িয়ে কিংবা ফুটপাতের জায়গা ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনার ফলে পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল এবং সৃষ্টি হচ্ছিল দীর্ঘস্থায়ী যানজট।
সার্ভেয়ার আবু সাঈদ জানান, পৌরসভার সংরক্ষিত নথি ও লাইসেন্স অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সীমানা যাচাই করা হয়েছে। মাপজোখে বেশ কিছু দোকান নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত জায়গা ব্যবহার করছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করে তা চিহ্নিত করছি, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের জটিলতা না থাকে এবং পৌরসভার সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকে।”
মাপজোখ শেষে পৌরসভার প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের লাইসেন্সবিহীন অতিরিক্ত জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। পরে উদ্ধার হওয়া অংশগুলো লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হয়। লাল সেই দাগগুলো যেন শহরের নতুন সীমারেখা, যা মনে করিয়ে দেয়—জনগণের সম্পদ জনগণের জন্যই সংরক্ষিত থাকতে হবে।
এ সময় সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহিন আকতার শাহিন বলেন, “আমরা এ শহরে সর্বদা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চাই। ব্যবসায়ীসহ সকলকে নিয়ে যানজট সমস্যা নিরসন করতে চাই। শহরের উন্নয়ন ও জনস্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আইয়ুব আলী বলেন, “মাপজোখে দেখা গেছে, অনেক ব্যবসায়ী অতিরিক্ত জমি দখলে রেখেছেন। এসব জমির বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা কোনো সংঘাত চাই না; বরং আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে চাই।”
একটি শহরের সৌন্দর্য শুধু তার ভবন, সড়ক কিংবা স্থাপনায় নয়; বরং তার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায়। ফুটপাত পথচারীর জন্য, সড়ক যানবাহনের জন্য—এই সহজ সত্য প্রতিষ্ঠিত হলেই নগরজীবন হয়ে ওঠে আরও স্বস্তিদায়ক। সৈয়দপুরের এই উদ্যোগ তাই শুধু জমি উদ্ধারের ঘটনা নয়, এটি একটি শহরের নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার গল্প। কোটি টাকার পৌর জায়গা উদ্ধারের পাশাপাশি নগরবাসীর প্রত্যাশা—এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিন গড়ে উঠবে পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও যানজটমুক্ত সৈয়দপুর।

আপনার মতামত লিখুন