সৈয়দপুর পৌরসভার উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে দিনব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে অবৈধভাবে দখল করে রাখা দোকানের চকি, ব্যবসায়িক মালামাল, অস্থায়ী স্থাপনা ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিনের দখলমুক্ত হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শহরের ব্যস্ততম শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। এতে প্রতিদিন যানজট ও জনভোগান্তি বাড়ছিল। এ অবস্থায় জনস্বার্থে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ।
দিনব্যাপী পরিচালিত অভিযানে পৌরসভার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। অভিযানের সময় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রাখা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। অনেক ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় তাদের মালামাল সরিয়ে নিলেও নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
টোল আদায় শাখার পরিদর্শক আনসার আলী বলেন, “পৌরসভার পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করার পরও কিছু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রেখেছিলেন। এতে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। নগরীর শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ রক্ষায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।”
পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতিহা তাকমিলা বলেন, “সড়ক ও ফুটপাত জনগণের সম্পদ। এগুলো কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কাজে দখল করে রাখা যাবে না। নাগরিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে পৌরসভা নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করবে। একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তবে স্থানীয়রা বলছেন, একদিনের অভিযানে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাদের অভিযোগ, উচ্ছেদের পর অনেক দখলদার আবারও সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসেন। তাই এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠা সৈয়দপুর শহরের সড়ক অবকাঠামো এখনও প্রায় একই অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যানবাহনের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। ফলে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে প্রায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে অটোরিকশার চাপ, ফুটপাত দখল এবং ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার কারণে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাফিক বিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও অবৈধ দখলের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী, ট্রাফিক বিভাগ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
তবে সর্বশেষ পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযানের পর শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে চলাচলে দৃশ্যমান স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন পর দখলমুক্ত ফুটপাত ব্যবহার করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পথচারীরা। নগরবাসীর প্রত্যাশা, জনস্বার্থে এ অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে এবং শহরের সড়ক ও ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা হবে। এতে যানজট কমার পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও বাসযোগ্য সৈয়দপুর গড়ে উঠবে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
সৈয়দপুর পৌরসভার উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে দিনব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে অবৈধভাবে দখল করে রাখা দোকানের চকি, ব্যবসায়িক মালামাল, অস্থায়ী স্থাপনা ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিনের দখলমুক্ত হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শহরের ব্যস্ততম শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। এতে প্রতিদিন যানজট ও জনভোগান্তি বাড়ছিল। এ অবস্থায় জনস্বার্থে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ।
দিনব্যাপী পরিচালিত অভিযানে পৌরসভার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। অভিযানের সময় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রাখা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। অনেক ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় তাদের মালামাল সরিয়ে নিলেও নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
টোল আদায় শাখার পরিদর্শক আনসার আলী বলেন, “পৌরসভার পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করার পরও কিছু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রেখেছিলেন। এতে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। নগরীর শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ রক্ষায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।”
পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতিহা তাকমিলা বলেন, “সড়ক ও ফুটপাত জনগণের সম্পদ। এগুলো কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কাজে দখল করে রাখা যাবে না। নাগরিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে পৌরসভা নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করবে। একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তবে স্থানীয়রা বলছেন, একদিনের অভিযানে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাদের অভিযোগ, উচ্ছেদের পর অনেক দখলদার আবারও সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসেন। তাই এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠা সৈয়দপুর শহরের সড়ক অবকাঠামো এখনও প্রায় একই অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যানবাহনের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। ফলে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে প্রায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে অটোরিকশার চাপ, ফুটপাত দখল এবং ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার কারণে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাফিক বিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও অবৈধ দখলের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী, ট্রাফিক বিভাগ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
তবে সর্বশেষ পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযানের পর শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে চলাচলে দৃশ্যমান স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন পর দখলমুক্ত ফুটপাত ব্যবহার করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পথচারীরা। নগরবাসীর প্রত্যাশা, জনস্বার্থে এ অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে এবং শহরের সড়ক ও ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা হবে। এতে যানজট কমার পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও বাসযোগ্য সৈয়দপুর গড়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন