কোচ ববি শিষ্যদের নিয়ে জাতীয় ক্যাম্পে, নতুন স্বপ্নে বিভোর সৈয়দপুরের ১৪ সেপাক টাকরো খেলোয়াড়
রেলের শহর সৈয়দপুর থেকে আবারও জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনের পথে যাত্রা শুরু করলেন একঝাঁক স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণী। সেপাক টাকরোর জাতীয় ক্যাম্পে অংশ নিতে কোচ ববি রায়ের নেতৃত্বে ১৪ জন প্রতিভাবান খেলোয়াড় রেলপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। দলের মধ্যে রয়েছেন ৭ জন বালক ও ৭ জন বালিকা খেলোয়াড়। তাদের এই যাত্রা শুধুমাত্র একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্নকে আরও কাছে টেনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
জাতীয় ক্যাম্পে অংশ নিতে যাওয়া বালক দলের সদস্যরা হলেন— অন্তর কুমার রায়, মোঃ রাকিব, মোঃ রাব্বি মন্ডল, মোঃ জাহিদ হাসান, মোঃ জাবেদ ইসলাম, রিপন রায় এবং মোঃ রাকিব হোসেন। বালিকা দলের সদস্যরা হলেন— মোছাঃ আইরিন খাতুন, মোছাঃ সারমিন আক্তার মিম, কলি রানী রায়, অঞ্জলি রাণী রায়, লিমা রায়, মোছাঃ সামিয়া এবং মোছাঃ শান্ত মনি।
দীর্ঘদিন ধরে কোচ ববি রায়ের নিবিড় প্রশিক্ষণ, তত্ত্বাবধান এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই খেলোয়াড়রা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। খেলাটির প্রতি ভালোবাসা, কঠোর অনুশীলন এবং আত্মবিশ্বাসই তাদের আজ জাতীয় ক্যাম্পের মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ক্যাম্প শেষে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নির্বাচিত খেলোয়াড়রা থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ISTAF World Sepak Takraw Championship 39th Thai King's Cup-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে একই মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা ইতোমধ্যেই খেলোয়াড়দের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ সেপাক টাকরোর জন্য এবারের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রিমিয়ার লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। দেশের সেপাক টাকরো ইতিহাসে এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্রীড়া সংগঠকরা বলছেন, এই অর্জনের পেছনে তৃণমূল পর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করা কোচদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাদের মধ্যে কোচ ববি রায়ের নাম অন্যতম। এর আগেও তাঁর নেতৃত্বে এবং প্রশিক্ষণে গড়ে ওঠা খেলোয়াড়রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য এনে দিয়েছে। ফলে এবারও তাঁর শিষ্যদের নিয়ে প্রত্যাশার পারদ অনেক উঁচুতে।
সৈয়দপুর ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ ও ক্রীড়া সংগঠক সাহাবাত আলী সাব্বু বলেন, “সৈয়দপুরের জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের একটি অর্জন। একসঙ্গে ১৪ জন খেলোয়াড়ের জাতীয় ক্যাম্পে ডাক পাওয়া প্রমাণ করে যে, আমাদের তরুণরা প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এর পেছনে কোচ ববি রায়ের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, শ্রম ও ত্যাগ রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ক্যাম্পে তারা নিজেদের সেরাটা উপহার দেবে এবং সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগেও ববি রায়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সাফল্যের মুখ দেখেছে। তাই এবারও আমরা আশাবাদী। এই খেলোয়াড়দের মধ্যে ভবিষ্যতের জাতীয় তারকা লুকিয়ে আছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা।”
আজ সকালে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে খেলোয়াড়দের বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক, ক্রীড়া সংগঠক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা। বিদায়ের মুহূর্তে কারও চোখে ছিল স্বপ্ন, কারও চোখে আবেগ, আবার কারও কণ্ঠে ছিল দোয়া ও শুভকামনা।
সৈয়দপুরবাসীসহ দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা খেলোয়াড়দের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন, যেন তারা জাতীয় ক্যাম্পে নিজেদের যোগ্যতার সর্বোচ্চ প্রমাণ দিতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম আরও উজ্জ্বল করতে সক্ষম হন।
এখন পুরো সৈয়দপুরের প্রত্যাশা একটাই—কোচ ববি রায় ও তাঁর ১৪ শিষ্যের এই যাত্রা যেন সাফল্যের নতুন ইতিহাস রচনা করে। জাতীয় ক্যাম্প থেকে শুরু হওয়া এই পথচলা একদিন যেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের বিজয়ের গল্প হয়ে ফিরে আসে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
কোচ ববি শিষ্যদের নিয়ে জাতীয় ক্যাম্পে, নতুন স্বপ্নে বিভোর সৈয়দপুরের ১৪ সেপাক টাকরো খেলোয়াড়
রেলের শহর সৈয়দপুর থেকে আবারও জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনের পথে যাত্রা শুরু করলেন একঝাঁক স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণী। সেপাক টাকরোর জাতীয় ক্যাম্পে অংশ নিতে কোচ ববি রায়ের নেতৃত্বে ১৪ জন প্রতিভাবান খেলোয়াড় রেলপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। দলের মধ্যে রয়েছেন ৭ জন বালক ও ৭ জন বালিকা খেলোয়াড়। তাদের এই যাত্রা শুধুমাত্র একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্নকে আরও কাছে টেনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
জাতীয় ক্যাম্পে অংশ নিতে যাওয়া বালক দলের সদস্যরা হলেন— অন্তর কুমার রায়, মোঃ রাকিব, মোঃ রাব্বি মন্ডল, মোঃ জাহিদ হাসান, মোঃ জাবেদ ইসলাম, রিপন রায় এবং মোঃ রাকিব হোসেন। বালিকা দলের সদস্যরা হলেন— মোছাঃ আইরিন খাতুন, মোছাঃ সারমিন আক্তার মিম, কলি রানী রায়, অঞ্জলি রাণী রায়, লিমা রায়, মোছাঃ সামিয়া এবং মোছাঃ শান্ত মনি।
দীর্ঘদিন ধরে কোচ ববি রায়ের নিবিড় প্রশিক্ষণ, তত্ত্বাবধান এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই খেলোয়াড়রা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। খেলাটির প্রতি ভালোবাসা, কঠোর অনুশীলন এবং আত্মবিশ্বাসই তাদের আজ জাতীয় ক্যাম্পের মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ক্যাম্প শেষে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নির্বাচিত খেলোয়াড়রা থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ISTAF World Sepak Takraw Championship 39th Thai King's Cup-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে একই মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা ইতোমধ্যেই খেলোয়াড়দের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ সেপাক টাকরোর জন্য এবারের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রিমিয়ার লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। দেশের সেপাক টাকরো ইতিহাসে এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্রীড়া সংগঠকরা বলছেন, এই অর্জনের পেছনে তৃণমূল পর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করা কোচদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাদের মধ্যে কোচ ববি রায়ের নাম অন্যতম। এর আগেও তাঁর নেতৃত্বে এবং প্রশিক্ষণে গড়ে ওঠা খেলোয়াড়রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য এনে দিয়েছে। ফলে এবারও তাঁর শিষ্যদের নিয়ে প্রত্যাশার পারদ অনেক উঁচুতে।
সৈয়দপুর ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ ও ক্রীড়া সংগঠক সাহাবাত আলী সাব্বু বলেন, “সৈয়দপুরের জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের একটি অর্জন। একসঙ্গে ১৪ জন খেলোয়াড়ের জাতীয় ক্যাম্পে ডাক পাওয়া প্রমাণ করে যে, আমাদের তরুণরা প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এর পেছনে কোচ ববি রায়ের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, শ্রম ও ত্যাগ রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ক্যাম্পে তারা নিজেদের সেরাটা উপহার দেবে এবং সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগেও ববি রায়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সাফল্যের মুখ দেখেছে। তাই এবারও আমরা আশাবাদী। এই খেলোয়াড়দের মধ্যে ভবিষ্যতের জাতীয় তারকা লুকিয়ে আছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা।”
আজ সকালে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে খেলোয়াড়দের বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক, ক্রীড়া সংগঠক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা। বিদায়ের মুহূর্তে কারও চোখে ছিল স্বপ্ন, কারও চোখে আবেগ, আবার কারও কণ্ঠে ছিল দোয়া ও শুভকামনা।
সৈয়দপুরবাসীসহ দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা খেলোয়াড়দের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন, যেন তারা জাতীয় ক্যাম্পে নিজেদের যোগ্যতার সর্বোচ্চ প্রমাণ দিতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম আরও উজ্জ্বল করতে সক্ষম হন।
এখন পুরো সৈয়দপুরের প্রত্যাশা একটাই—কোচ ববি রায় ও তাঁর ১৪ শিষ্যের এই যাত্রা যেন সাফল্যের নতুন ইতিহাস রচনা করে। জাতীয় ক্যাম্প থেকে শুরু হওয়া এই পথচলা একদিন যেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের বিজয়ের গল্প হয়ে ফিরে আসে।

আপনার মতামত লিখুন