ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

জন দুর্ভোগ

কুসংস্কারের অন্ধকার: রোগ মুক্তির আশায় হিজড়া নাচিয়ে গান-বাজনার আসর

কুসংস্কারের অন্ধকার: রোগ মুক্তির আশায় হিজড়া নাচিয়ে গান-বাজনার আসর



​বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগে দাঁড়িয়েও দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে এখনো বাসা বেঁধে আছে মধ্যযুগীয় অন্ধবিশ্বাস। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে বদলগাছীর থুপশহর ও গোবরচাপা বাজার এলাকায়। যেখানে  গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সুস্থ করার নামে আয়োজন করা হয়েছিল ‘হিজড়া নাচ’ এবং ধুমধাম গান-বাজনার আসর। আধুনিক চিকিৎসার ওপর আস্থা না রেখে কুসংস্কারের এমন প্রকাশে হতবাক সচেতন মহল।

​

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোবরচাপা বাজার এলাকায় এক শিশু ও থুুপশহর গ্রামের এক ব্যক্তি মারাত্মক রোগে ভুগছেন। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কিছু ওঝা ও কবিরাজের পরামর্শ নেন। তাদের দাবি, কোনো ‘অশুভ বাতাস’ বা ‘জিনের আছর’ থেকে এই রোগ হয়েছে, যা তাড়াতে হিজড়াদের দিয়ে নাচ-গান করানো প্রয়োজন।

​গতকাল রাতে রোগীর প্রতিবেশীর উঠানে রীতিমতো মণ্ডপ সাজিয়ে এই আসরের আয়োজন করা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে তীব্র আওয়াজে গান-বাজনা এবং হিজড়াদের নৃত্য। পরিবারের বিশ্বাস ছিল, এই নাচের মাধ্যমে অলৌকিক শক্তিতে রোগী রোগমুক্ত হবেন।

​

​মোঃ নজরুল ইসলাম জানান:

​"আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলি, কিন্তু আমাদের চোখের সামনে এই আধুনিক যুগেও এমন আদিম কুসংস্কার চলছে। ছেলেটি ব্যথায় চিৎকার করছে, আর উঠানে নাচ-গান হচ্ছে। এটা চিকিৎসার নামে এক ধরনের মানসিক নির্যাতন ছাড়া আর কিছুই নয়।"

​তবে রোগীর পরিবারের দাবি, তারা নিরুপায় হয়েই এই পথ বেছে নিয়েছেন। আধুনিক চিকিৎসায় নাকি কোনো কাজ হচ্ছিল না।

​

​এই বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন: ​ঝুঁকিপূর্ণ বিলম্ব: এ ধরনের কুসংস্কারের ফলে রোগীকে সঠিক সময়ে হাসপাতালে আনা হয় না। ফলে সামান্য রোগ ও অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

​

​সচেতন সমাজে দাবী, শিক্ষার অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো ছড়িয়ে থাকা অপচিকিৎসার সিন্ডিকেটই এর জন্য দায়ী। হিজড়া সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহল সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ​বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনে কেবল শিক্ষার হার বাড়ালেই চলবে না, বরং গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং কুসংস্কার বিরোধী জোরালো প্রচারণা চালানো এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, অন্ধকারের এই আসরগুলো এভাবেই সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতেই থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


কুসংস্কারের অন্ধকার: রোগ মুক্তির আশায় হিজড়া নাচিয়ে গান-বাজনার আসর

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image



​বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগে দাঁড়িয়েও দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে এখনো বাসা বেঁধে আছে মধ্যযুগীয় অন্ধবিশ্বাস। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে বদলগাছীর থুপশহর ও গোবরচাপা বাজার এলাকায়। যেখানে  গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সুস্থ করার নামে আয়োজন করা হয়েছিল ‘হিজড়া নাচ’ এবং ধুমধাম গান-বাজনার আসর। আধুনিক চিকিৎসার ওপর আস্থা না রেখে কুসংস্কারের এমন প্রকাশে হতবাক সচেতন মহল।

​

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোবরচাপা বাজার এলাকায় এক শিশু ও থুুপশহর গ্রামের এক ব্যক্তি মারাত্মক রোগে ভুগছেন। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কিছু ওঝা ও কবিরাজের পরামর্শ নেন। তাদের দাবি, কোনো ‘অশুভ বাতাস’ বা ‘জিনের আছর’ থেকে এই রোগ হয়েছে, যা তাড়াতে হিজড়াদের দিয়ে নাচ-গান করানো প্রয়োজন।

​গতকাল রাতে রোগীর প্রতিবেশীর উঠানে রীতিমতো মণ্ডপ সাজিয়ে এই আসরের আয়োজন করা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে তীব্র আওয়াজে গান-বাজনা এবং হিজড়াদের নৃত্য। পরিবারের বিশ্বাস ছিল, এই নাচের মাধ্যমে অলৌকিক শক্তিতে রোগী রোগমুক্ত হবেন।

​

​মোঃ নজরুল ইসলাম জানান:

​"আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলি, কিন্তু আমাদের চোখের সামনে এই আধুনিক যুগেও এমন আদিম কুসংস্কার চলছে। ছেলেটি ব্যথায় চিৎকার করছে, আর উঠানে নাচ-গান হচ্ছে। এটা চিকিৎসার নামে এক ধরনের মানসিক নির্যাতন ছাড়া আর কিছুই নয়।"

​তবে রোগীর পরিবারের দাবি, তারা নিরুপায় হয়েই এই পথ বেছে নিয়েছেন। আধুনিক চিকিৎসায় নাকি কোনো কাজ হচ্ছিল না।

​

​এই বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন: ​ঝুঁকিপূর্ণ বিলম্ব: এ ধরনের কুসংস্কারের ফলে রোগীকে সঠিক সময়ে হাসপাতালে আনা হয় না। ফলে সামান্য রোগ ও অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

​

​সচেতন সমাজে দাবী, শিক্ষার অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো ছড়িয়ে থাকা অপচিকিৎসার সিন্ডিকেটই এর জন্য দায়ী। হিজড়া সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহল সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ​বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনে কেবল শিক্ষার হার বাড়ালেই চলবে না, বরং গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং কুসংস্কার বিরোধী জোরালো প্রচারণা চালানো এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, অন্ধকারের এই আসরগুলো এভাবেই সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতেই থাকবে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত