মাথার ওপর নেই চাল জোড়াতালি দেওয়া এক টুকরো পলিথিন। সামান্য বৃষ্টি হলেই ভিজে একাকার হয়ে যায় পুরো ঘর। যেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও সুরক্ষিত নয়, সেখানে দুমুঠো অন্ন যেন এক আকাশ কুসুম কল্পনা। বলছিলাম বদলগাছীর মিঠাপুর ইউনিয়নের জগপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দিলীপ সাধুর কথা।
একসময় তার ছিল সাজানো গোছানো সংসার, ছিল স্ত্রী ও দুই মেয়ে। ছেড়ে চলে গেছে স্ত্রী, বাবার খোঁজ খবর রাখে না মেয়েরা।
সমাজের আর দশটা মানুষ যখন স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যস্ত, তখন দিলীপ সাধুর পলিথিনের এক খুপরিতে কাটাচ্ছেন চরম মানবেতর জীবন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিলীপ সাধুর ঘরে নেই কোনো আসবাবপত্র, এমনকি নিত্যদিনের রান্নাবান্না ও খাওয়ার জন্য ন্যূনতম থালাবাটিও নেই। অনাহার আর অর্ধাহার এখন তার নিত্যদিনের সঙ্গী। ঝড়-বৃষ্টির রাতে যখন মানুষ ঘরে শান্তিতে ঘুমায়, তখন দিলীপকে জেগে কাটাতে হয় নির্ঘুম রাত। একটুখানি বৃষ্টির পানি আটকাতে পলিথিনের নিচে গুটিসুটি মেরে বসে থাকা ছাড়া তার আর কোনো উপায় থাকে না।
ভুগছেন চরম খাদ্য ও বাসস্থান সংকটে। অথচ এখন পর্যন্ত তার ভাগ্যে জোটেনি কোনো সরকারি বা বেসরকারি অনুদান।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দিলীপ সাধু অত্যন্ত অসহায় এবং দিনমজুরির কাজ করার মতো শারীরিক সামর্থ্যও এখন তার নেই বললেই চলে। প্রতিবেশীরা মাঝেমধ্যে সামান্য খাবার বা সাহায্য করলেও তা দিয়ে জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অথচ সরকারের নানামুখী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও আশ্রয়ণ প্রকল্প চালু থাকলেও, দিলীপের মতো প্রকৃত ভুক্তভোগীর কাছে এখনো পৌঁছায়নি কোনো সহায়তা।
সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দিলীপ সাধু আক্ষেপ করে বলেন, আমার তো কেউ নাই বাবা। বৃষ্টি আইলে ঘর ভাইসা যায়, খাওয়ার মতো থালাবাটিও নাই। সকলে সরকারি সাহায্যের কথা কয়, কিন্তু আমার কপালে একটা চালের দানাও জোটে নাই।"
স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী মুকুল বলেন, “বর্ষা আর শীতের সময় এই ঘরে থাকা খুবই কষ্টকর। বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ে। অনেক সময় না খেয়ে-খেয়েই দিন কাটে তাদের। সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে অন্তত মাথা গোঁজার মতো একটি ঘর তৈরি করা সম্ভব।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী ভবেশ বলেন, “এটা সত্যিই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কষ্টের বিষয়। আমরা এলাকাবাসী মিলে কিছু করার চেষ্টা করছি। তবে সচ্ছল মানুষের সহযোগিতা পেলে ঘরটি সংস্কার করা সম্ভব হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসন যেন দিলীপ সাধুর এই চরম দুর্দশা খতিয়ে দেখে এবং তাকে দ্রুত একটি স্থায়ী বাসস্থান (ঘর), খাদ্য ও প্রয়োজনীয় নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা করে। একজন নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম মৌলিক অধিকারটুকু ফিরে পাক দিলীপ—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
মাথার ওপর নেই চাল জোড়াতালি দেওয়া এক টুকরো পলিথিন। সামান্য বৃষ্টি হলেই ভিজে একাকার হয়ে যায় পুরো ঘর। যেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও সুরক্ষিত নয়, সেখানে দুমুঠো অন্ন যেন এক আকাশ কুসুম কল্পনা। বলছিলাম বদলগাছীর মিঠাপুর ইউনিয়নের জগপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দিলীপ সাধুর কথা।
একসময় তার ছিল সাজানো গোছানো সংসার, ছিল স্ত্রী ও দুই মেয়ে। ছেড়ে চলে গেছে স্ত্রী, বাবার খোঁজ খবর রাখে না মেয়েরা।
সমাজের আর দশটা মানুষ যখন স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যস্ত, তখন দিলীপ সাধুর পলিথিনের এক খুপরিতে কাটাচ্ছেন চরম মানবেতর জীবন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিলীপ সাধুর ঘরে নেই কোনো আসবাবপত্র, এমনকি নিত্যদিনের রান্নাবান্না ও খাওয়ার জন্য ন্যূনতম থালাবাটিও নেই। অনাহার আর অর্ধাহার এখন তার নিত্যদিনের সঙ্গী। ঝড়-বৃষ্টির রাতে যখন মানুষ ঘরে শান্তিতে ঘুমায়, তখন দিলীপকে জেগে কাটাতে হয় নির্ঘুম রাত। একটুখানি বৃষ্টির পানি আটকাতে পলিথিনের নিচে গুটিসুটি মেরে বসে থাকা ছাড়া তার আর কোনো উপায় থাকে না।
ভুগছেন চরম খাদ্য ও বাসস্থান সংকটে। অথচ এখন পর্যন্ত তার ভাগ্যে জোটেনি কোনো সরকারি বা বেসরকারি অনুদান।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দিলীপ সাধু অত্যন্ত অসহায় এবং দিনমজুরির কাজ করার মতো শারীরিক সামর্থ্যও এখন তার নেই বললেই চলে। প্রতিবেশীরা মাঝেমধ্যে সামান্য খাবার বা সাহায্য করলেও তা দিয়ে জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অথচ সরকারের নানামুখী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও আশ্রয়ণ প্রকল্প চালু থাকলেও, দিলীপের মতো প্রকৃত ভুক্তভোগীর কাছে এখনো পৌঁছায়নি কোনো সহায়তা।
সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দিলীপ সাধু আক্ষেপ করে বলেন, আমার তো কেউ নাই বাবা। বৃষ্টি আইলে ঘর ভাইসা যায়, খাওয়ার মতো থালাবাটিও নাই। সকলে সরকারি সাহায্যের কথা কয়, কিন্তু আমার কপালে একটা চালের দানাও জোটে নাই।"
স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী মুকুল বলেন, “বর্ষা আর শীতের সময় এই ঘরে থাকা খুবই কষ্টকর। বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ে। অনেক সময় না খেয়ে-খেয়েই দিন কাটে তাদের। সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে অন্তত মাথা গোঁজার মতো একটি ঘর তৈরি করা সম্ভব।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী ভবেশ বলেন, “এটা সত্যিই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কষ্টের বিষয়। আমরা এলাকাবাসী মিলে কিছু করার চেষ্টা করছি। তবে সচ্ছল মানুষের সহযোগিতা পেলে ঘরটি সংস্কার করা সম্ভব হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসন যেন দিলীপ সাধুর এই চরম দুর্দশা খতিয়ে দেখে এবং তাকে দ্রুত একটি স্থায়ী বাসস্থান (ঘর), খাদ্য ও প্রয়োজনীয় নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা করে। একজন নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম মৌলিক অধিকারটুকু ফিরে পাক দিলীপ—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

আপনার মতামত লিখুন