ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

জাতীয়

গ্যাবনকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের কিশোররা

গ্যাবনকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের কিশোররা

একটি গোল, এক বুক সাহস আর লাল-সবুজের জার্সিতে বুকভরা স্বপ্ন—আজারবাইজানের বাকুতে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা লিখল জয়ের নতুন গল্প। 

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভালের টায়ার-ই প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে আফ্রিকার দেশ গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। লাল-সবুজের জয়ের নায়ক নাঈমুর রহমান রাতুল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। প্রথম ১০ মিনিটে বাংলাদেশের কিশোররা একের পর এক আক্রমণে গ্যাবনের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে। গোলের দেখা না মিললেও বল দখল, গতি আর আক্রমণাত্মক ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় তারা। গ্যাবনও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খুঁজেছে, কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ় ও সতর্ক।

অবশেষে ম্যাচের ১৪তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণ থেকে নেওয়া দূরপাল্লার জোরালো শট গ্যাবনের গোলরক্ষক ফিরিয়ে দেন। কিন্তু ফিরতি বলের অপেক্ষায় থাকা রাতুলের হেড ঠেকানোর সাধ্য ছিল না তাঁর। বল জালে জড়াতেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। সতীর্থদের উল্লাসে ভেসে ওঠে মাঠ, আর গোলের আনন্দে নতুন প্রাণ ফিরে পায় লাল-সবুজের শিবির।

এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল বাংলাদেশ। বামপ্রান্ত দিয়ে ওয়ান-টু-ওয়ান আক্রমণে এগিয়ে গিয়েও গোলের দেখা পায়নি দলটি। তবু এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশের কিশোররা।

দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালায় গ্যাবন। অন্যদিকে ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া ছিল বাংলাদেশও। আকবর হোসেন রিদনের শিষ্যরা একের পর এক আক্রমণ সাজালেও শেষ মুহূর্তে গোলের জাল খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। ৩৩তম মিনিটে আসে ভালো একটি সুযোগ, কিন্তু তা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত রাতুলের সেই একমাত্র গোলই হয়ে ওঠে ফাইনালে যাওয়ার সোনালি সোপান।

ফাইনালের পথটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও মসৃণ ছিল না। প্লেট পর্বের শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে টাইব্রেকারে সিশেলসকে হারায় দলটি। শেষ ষোলোতেও একই ভাগ্যনির্ধারণী লড়াইয়ে সিঙ্গাপুরকে পরাজিত করে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।

গ্রুপ পর্বে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে একটিতে জয়, দুটিতে ড্র এবং দুটিতে হারের অভিজ্ঞতা নিয়ে নকআউট পর্বে এগিয়েছিল দলটি। ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের যাত্রা। এরপর পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলে হার এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র। বুরুন্ডির কাছে ২-০ গোলে পরাজয়ের পর ফিজিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে জয়ের ছন্দে ফেরে ফাহিমের দল।

গ্রুপ পর্বের সেই ওঠানামার পথ পেরিয়ে এখন ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশের কিশোররা। প্রতিটি ম্যাচে লড়াই, প্রতিটি গোলের পেছনে চেষ্টা আর প্রতিটি জয়ে আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে দলটির সামনে এখন শিরোপা জয়ের হাতছানি।

ফাইনালে জয়ের মধ্য দিয়ে টায়ার-ই পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। তবে এই পর্যায়ের শিরোপা মূল টায়ার-এ প্রতিযোগিতার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব থেকে আলাদা। মূল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে টায়ার-এ প্রতিযোগিতায়।

তবু বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা কিশোর ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস ও সামর্থ্যের এক অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়। ফাইনালে মাঠে নামার অপেক্ষায় এখন লাল-সবুজের দল—স্বপ্ন একটাই, শেষ বাঁশি বাজার পর বিজয়ের উল্লাসে মাতুক বাংলাদেশের কিশোর ফুটবল।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


গ্যাবনকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের কিশোররা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একটি গোল, এক বুক সাহস আর লাল-সবুজের জার্সিতে বুকভরা স্বপ্ন—আজারবাইজানের বাকুতে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা লিখল জয়ের নতুন গল্প। 

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভালের টায়ার-ই প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে আফ্রিকার দেশ গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। লাল-সবুজের জয়ের নায়ক নাঈমুর রহমান রাতুল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। প্রথম ১০ মিনিটে বাংলাদেশের কিশোররা একের পর এক আক্রমণে গ্যাবনের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে। গোলের দেখা না মিললেও বল দখল, গতি আর আক্রমণাত্মক ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় তারা। গ্যাবনও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খুঁজেছে, কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ় ও সতর্ক।

অবশেষে ম্যাচের ১৪তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণ থেকে নেওয়া দূরপাল্লার জোরালো শট গ্যাবনের গোলরক্ষক ফিরিয়ে দেন। কিন্তু ফিরতি বলের অপেক্ষায় থাকা রাতুলের হেড ঠেকানোর সাধ্য ছিল না তাঁর। বল জালে জড়াতেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। সতীর্থদের উল্লাসে ভেসে ওঠে মাঠ, আর গোলের আনন্দে নতুন প্রাণ ফিরে পায় লাল-সবুজের শিবির।

এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল বাংলাদেশ। বামপ্রান্ত দিয়ে ওয়ান-টু-ওয়ান আক্রমণে এগিয়ে গিয়েও গোলের দেখা পায়নি দলটি। তবু এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশের কিশোররা।

দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালায় গ্যাবন। অন্যদিকে ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া ছিল বাংলাদেশও। আকবর হোসেন রিদনের শিষ্যরা একের পর এক আক্রমণ সাজালেও শেষ মুহূর্তে গোলের জাল খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। ৩৩তম মিনিটে আসে ভালো একটি সুযোগ, কিন্তু তা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত রাতুলের সেই একমাত্র গোলই হয়ে ওঠে ফাইনালে যাওয়ার সোনালি সোপান।

ফাইনালের পথটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও মসৃণ ছিল না। প্লেট পর্বের শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে টাইব্রেকারে সিশেলসকে হারায় দলটি। শেষ ষোলোতেও একই ভাগ্যনির্ধারণী লড়াইয়ে সিঙ্গাপুরকে পরাজিত করে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।

গ্রুপ পর্বে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে একটিতে জয়, দুটিতে ড্র এবং দুটিতে হারের অভিজ্ঞতা নিয়ে নকআউট পর্বে এগিয়েছিল দলটি। ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের যাত্রা। এরপর পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলে হার এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র। বুরুন্ডির কাছে ২-০ গোলে পরাজয়ের পর ফিজিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে জয়ের ছন্দে ফেরে ফাহিমের দল।

গ্রুপ পর্বের সেই ওঠানামার পথ পেরিয়ে এখন ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশের কিশোররা। প্রতিটি ম্যাচে লড়াই, প্রতিটি গোলের পেছনে চেষ্টা আর প্রতিটি জয়ে আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে দলটির সামনে এখন শিরোপা জয়ের হাতছানি।

ফাইনালে জয়ের মধ্য দিয়ে টায়ার-ই পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। তবে এই পর্যায়ের শিরোপা মূল টায়ার-এ প্রতিযোগিতার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব থেকে আলাদা। মূল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে টায়ার-এ প্রতিযোগিতায়।

তবু বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা কিশোর ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস ও সামর্থ্যের এক অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়। ফাইনালে মাঠে নামার অপেক্ষায় এখন লাল-সবুজের দল—স্বপ্ন একটাই, শেষ বাঁশি বাজার পর বিজয়ের উল্লাসে মাতুক বাংলাদেশের কিশোর ফুটবল।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত