ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

কৃষকের জানালা

কালো ধানে ব্যাপক লাভবান কৃষক মোক্তারুলের

কালো ধানে ব্যাপক লাভবান কৃষক মোক্তারুলের
ছবিতে কালো ধানের ক্ষেতে কৃষক মোক্তারুল

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৫০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কালো ধানের চাষ করেছেন কৃষক মোক্তারুল ইসলাম (৪৪)। প্রচলিত ধানের বাইরে নতুন এ ফসল চাষ করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কালো ধানের শিষের দৈর্ঘ্য আট থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়েছে। ভালো ফলন পেলে এ চাষ থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করা সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।


মোক্তারুল উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাখাতিপাড়ার বাসিন্দা। ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় নিজের জমিতে তিনি এ ধানের আবাদ করেছেন। ঢাকার একটি অনলাইন মাধ্যম থেকে পাঁচ কেজি বীজ ৩০০ টাকায় সংগ্রহ করেন। পরে চারা তৈরি করে গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে জমিতে রোপণ করেন।


মোক্তারুলের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচলিত অন্যান্য ধানের শিষ সাধারণত প্রায় ছয় ইঞ্চি লম্বা হলেও তাঁর জমির কালো ধানের শিষ আট থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়েছে। প্রতিটি শিষে দানার সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছেন তিনি। আশপাশের জমিতে কালো ধানের শিষ বের হওয়ার আগেই তাঁর জমিতে শিষ দেখা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।


এ বৈশিষ্ট্য দেখে ৫০ শতক জমি থেকে প্রায় ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন মোক্তারুল। তবে প্রকৃত ফলন জানা যাবে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের পর।


এ আবাদে বীজ সংগ্রহ, চারা তৈরি, রোপণ ও পরিচর্যা বাবদ তাঁর ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ টাকা। ধান কাটা ও মাড়াইয়ে আরও প্রায় চার হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। সে হিসাবে এসব খাতে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। তবে জমির ভাড়া, পরিবহন, চাল তৈরি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


মোক্তারুলের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ধান থেকে চাল তৈরি করে বিক্রি করতে পারলে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য বিক্রির হিসাব। প্রকৃত আয় নির্ভর করবে ধানের ফলন, চাল উৎপাদনের পরিমাণ ও বাজারদরের ওপর। সব ব্যয় হিসাব না করে প্রকৃত মুনাফা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।


মোক্তারুল ইসলাম বলেন, অন্য ধানের মতোই যত্ন নিয়ে কালো ধানের চাষ করছি। আলাদা করে বাড়তি কোনো খরচ করতে হচ্ছে না। ফলন ও বাজারদর ভালো হলে এ চাষ থেকে লাভবান হতে পারব বলে আশা করছি।


কালো চালের পুষ্টিগুণের কারণেও এ ধানের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এতে অ্যান্থোসায়ানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক, খাদ্যআঁশ, প্রোটিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে। অ্যান্থোসায়ানিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তবে জাত ও প্রক্রিয়াজাতকরণভেদে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। সব ধরনের কালো চাল সাদা চালের চেয়ে নির্দিষ্ট হারে বেশি পুষ্টিকর—এমন দাবি করতে তুলনামূলক গবেষণা প্রয়োজন।


সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ২১৬ হেক্টর জমিতে। তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো কৃষক কালো ধানের চাষ করতে পারেন।


সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, “কালো ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে যে কেউ এ ধানের চাষ করতে পারেন।”


তিনি আরও বলেন, একটি ধানের জাত কৃষকদের মধ্যে সম্প্রসারণের আগে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা করেন। বর্তমানে ১১৮ জাতের ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। কালো ধান চাষে নির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি।


মোক্তারুলের এ উদ্যোগে আশপাশের কয়েকজন কৃষকও আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁরা আগামীতে কালো ধানের চাষ করার কথা ভাবছেন। পরীক্ষামূলক এ আবাদে ভালো ফলন ও উপযুক্ত বাজারমূল্য পাওয়া গেলে সৈয়দপুরে কালো ধানের চাষ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে ফলন, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


কালো ধানে ব্যাপক লাভবান কৃষক মোক্তারুলের

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৫০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কালো ধানের চাষ করেছেন কৃষক মোক্তারুল ইসলাম (৪৪)। প্রচলিত ধানের বাইরে নতুন এ ফসল চাষ করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কালো ধানের শিষের দৈর্ঘ্য আট থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়েছে। ভালো ফলন পেলে এ চাষ থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করা সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।


মোক্তারুল উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাখাতিপাড়ার বাসিন্দা। ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় নিজের জমিতে তিনি এ ধানের আবাদ করেছেন। ঢাকার একটি অনলাইন মাধ্যম থেকে পাঁচ কেজি বীজ ৩০০ টাকায় সংগ্রহ করেন। পরে চারা তৈরি করে গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে জমিতে রোপণ করেন।


মোক্তারুলের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচলিত অন্যান্য ধানের শিষ সাধারণত প্রায় ছয় ইঞ্চি লম্বা হলেও তাঁর জমির কালো ধানের শিষ আট থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়েছে। প্রতিটি শিষে দানার সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছেন তিনি। আশপাশের জমিতে কালো ধানের শিষ বের হওয়ার আগেই তাঁর জমিতে শিষ দেখা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।


এ বৈশিষ্ট্য দেখে ৫০ শতক জমি থেকে প্রায় ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন মোক্তারুল। তবে প্রকৃত ফলন জানা যাবে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের পর।


এ আবাদে বীজ সংগ্রহ, চারা তৈরি, রোপণ ও পরিচর্যা বাবদ তাঁর ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ টাকা। ধান কাটা ও মাড়াইয়ে আরও প্রায় চার হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। সে হিসাবে এসব খাতে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। তবে জমির ভাড়া, পরিবহন, চাল তৈরি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


মোক্তারুলের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ধান থেকে চাল তৈরি করে বিক্রি করতে পারলে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য বিক্রির হিসাব। প্রকৃত আয় নির্ভর করবে ধানের ফলন, চাল উৎপাদনের পরিমাণ ও বাজারদরের ওপর। সব ব্যয় হিসাব না করে প্রকৃত মুনাফা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।


মোক্তারুল ইসলাম বলেন, অন্য ধানের মতোই যত্ন নিয়ে কালো ধানের চাষ করছি। আলাদা করে বাড়তি কোনো খরচ করতে হচ্ছে না। ফলন ও বাজারদর ভালো হলে এ চাষ থেকে লাভবান হতে পারব বলে আশা করছি।


কালো চালের পুষ্টিগুণের কারণেও এ ধানের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এতে অ্যান্থোসায়ানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক, খাদ্যআঁশ, প্রোটিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে। অ্যান্থোসায়ানিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তবে জাত ও প্রক্রিয়াজাতকরণভেদে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। সব ধরনের কালো চাল সাদা চালের চেয়ে নির্দিষ্ট হারে বেশি পুষ্টিকর—এমন দাবি করতে তুলনামূলক গবেষণা প্রয়োজন।


সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ২১৬ হেক্টর জমিতে। তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো কৃষক কালো ধানের চাষ করতে পারেন।


সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, “কালো ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে যে কেউ এ ধানের চাষ করতে পারেন।”


তিনি আরও বলেন, একটি ধানের জাত কৃষকদের মধ্যে সম্প্রসারণের আগে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা করেন। বর্তমানে ১১৮ জাতের ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। কালো ধান চাষে নির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি।


মোক্তারুলের এ উদ্যোগে আশপাশের কয়েকজন কৃষকও আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁরা আগামীতে কালো ধানের চাষ করার কথা ভাবছেন। পরীক্ষামূলক এ আবাদে ভালো ফলন ও উপযুক্ত বাজারমূল্য পাওয়া গেলে সৈয়দপুরে কালো ধানের চাষ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে ফলন, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত