সাভারে হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
সাভারে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
আজ শনিবার দুপুরে সাভারের হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালে রাষ্ট্র ও জনগণের অর্থে ইনস্টিটিউটের ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালেও এগুলো কোনো কাজে লাগানো হচ্ছে না। সেখানে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার ছাপ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের ৫০০ উপজেলায় ৫০০টি নতুন ১৫০ শয্যার হাসপাতাল তৈরি করা হবে। তবে সেগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করা না হলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে না।
এ কারণে সাভারের হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটে দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকদের ধাপে ধাপে হেলথ ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৬৪ জেলায় সিভিল সার্জন, বিভাগীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ উপজেলায় দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নতুন ভবন, জনবল, চিকিৎসক ও নার্স এবং ওষুধের সরবরাহ বাড়ানো হলে সেগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
দুর্নীতি ছাড়া সুব্যবস্থাপনা ও সুশাসন নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেশে যত্রতত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনার বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে ১০ হাজারের বেশি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র সাত-আটটি আন্তর্জাতিক মানের প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করেছে।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা পরীক্ষার মান নিশ্চিত করা না হলে ওই পরীক্ষার ভিত্তিতে দেওয়া চিকিৎসাও কার্যকর হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা এখনও অপ্রতুল। বিশেষ করে সরকারি খাতে আরও চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নত হলে এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো গেলে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা কমবে।
চিকিৎসার ব্যয় প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন রোগী চিকিৎসা নিতে গেলে প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৬০-৭০ টাকা নিজ পকেট থেকে খরচ করতে হয়। এই খরচ কমিয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য সহজে চিকিৎসা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে কাজ করা হচ্ছে।
ওষুধের খরচ দিতে গিয়ে রোগীরা নাজেহাল অবস্থায় পড়ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রেও কাজ করা হচ্ছে।
গত ১৬-১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে।
ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা সরকারের কাজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণ অর্থের বিনিময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের সেবা নিচ্ছে উল্লেখ করে সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর ডেঙ্গুর বিষয়ে প্রায় এক-দেড় মাস আগে থেকেই সতর্ক হয়েছে সরকার। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো ওষুধ দিয়ে সম্ভব নয়। এ জন্য চারপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কাজ করতে হবে।
ডেঙ্গু আক্রান্তদের সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
সাভারে হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
সাভারে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
আজ শনিবার দুপুরে সাভারের হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালে রাষ্ট্র ও জনগণের অর্থে ইনস্টিটিউটের ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালেও এগুলো কোনো কাজে লাগানো হচ্ছে না। সেখানে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার ছাপ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের ৫০০ উপজেলায় ৫০০টি নতুন ১৫০ শয্যার হাসপাতাল তৈরি করা হবে। তবে সেগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করা না হলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে না।
এ কারণে সাভারের হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটে দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকদের ধাপে ধাপে হেলথ ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৬৪ জেলায় সিভিল সার্জন, বিভাগীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ উপজেলায় দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নতুন ভবন, জনবল, চিকিৎসক ও নার্স এবং ওষুধের সরবরাহ বাড়ানো হলে সেগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
দুর্নীতি ছাড়া সুব্যবস্থাপনা ও সুশাসন নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেশে যত্রতত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনার বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে ১০ হাজারের বেশি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র সাত-আটটি আন্তর্জাতিক মানের প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করেছে।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা পরীক্ষার মান নিশ্চিত করা না হলে ওই পরীক্ষার ভিত্তিতে দেওয়া চিকিৎসাও কার্যকর হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা এখনও অপ্রতুল। বিশেষ করে সরকারি খাতে আরও চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নত হলে এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো গেলে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা কমবে।
চিকিৎসার ব্যয় প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন রোগী চিকিৎসা নিতে গেলে প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৬০-৭০ টাকা নিজ পকেট থেকে খরচ করতে হয়। এই খরচ কমিয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য সহজে চিকিৎসা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে কাজ করা হচ্ছে।
ওষুধের খরচ দিতে গিয়ে রোগীরা নাজেহাল অবস্থায় পড়ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রেও কাজ করা হচ্ছে।
গত ১৬-১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে।
ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা সরকারের কাজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণ অর্থের বিনিময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের সেবা নিচ্ছে উল্লেখ করে সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর ডেঙ্গুর বিষয়ে প্রায় এক-দেড় মাস আগে থেকেই সতর্ক হয়েছে সরকার। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো ওষুধ দিয়ে সম্ভব নয়। এ জন্য চারপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কাজ করতে হবে।
ডেঙ্গু আক্রান্তদের সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন