ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে থামল ‘বদলি বাণিজ্য’

প্রাথমিক শিক্ষক বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

প্রাথমিক শিক্ষক বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়নের নতুন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে বদলি ও পদায়ন কমিটি থেকে অস্পষ্ট ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে এখন থেকে কমিটিতে স্থান পাবেন বিদ্যোত্সাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে জাতীয় কমিটির নেতৃত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট করতে সাতটি নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

 জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে থেমেছে বড় ‘বদলি বাণিজ্য’। গত মার্চ থেকে জুন-এই চার মাসে সহস্রাধিক বদলি বাণিজ্যের ঘটনা ঘটে। প্রেষণ বা সংযুক্তির মাধ্যমে ঢাকাসহ বিভিন্ন মহানগরের নামি স্কুলগুলোয় পদায়ন করা হয় বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি অবহিত হয়ে গত ১৫ জুন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলনকে বদলি বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২১ জুন বদলিকে কেন্দ্রীয়ভাবে না রেখে চার স্তরের (উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়) কমিটি গঠন করে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। ঐ দিন এ সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়। তবে অনলাইনের পরিবর্তে সনাতন (ম্যানুয়াল) ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুজন করে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর মধ্যে চরম অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ বলতে আসলে কাদের বোঝানো হচ্ছে, তা নীতিমালায় স্পষ্ট ছিল না। ফলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সরকারি শিক্ষকদের বদলির মতো একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বহিরাগত বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যুক্ত করা হলে স্বচ্ছতা নষ্ট হবে এবং তদবির ও অনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি হবে। এই সমালোচনার মুখেই নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশোধিত নীতিমালা জারি করে, যা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। পরিবর্তিত নীতিমালা অনুযায়ী, চার স্তরের কমিটির কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’র স্থলে এখন থেকে দুজন করে বিদ্যোত্সাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হবেন। নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা কিংবা থানা কমিটি সভাপতি থাকবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও); জেলা কমিটি সভাপতি থাকবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিভাগীয় কমিটি সভাপতি থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার।

এদিকে জাতীয় কমিটির নেতৃত্বেও বড় রদবদল করা হয়েছে। আগের নীতিমালায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে এই কমিটির সভাপতি করা হলেও, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় কমিটির সভাপতি হবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি)। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিদ্যালয়) এবং সদস্যসচিব হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) দায়িত্ব পালন করবেন।


বদলিতে যুক্ত হলো যে সাতটি নতুন শর্ত: আগের নীতিমালায় বদলির প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না। নতুন সংশোধিত নীতিমালায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে সাতটি সুনির্দিষ্ট শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এক. চাকরির মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ না হলে কোনো সহকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলিযোগ্য হবেন না। যে ক্ষেত্রে বদলির পর তিন বছর অতিক্রম না হলে কোনো শিক্ষক পুনর্বদলির জন্য বিবেচিত হবেন না। দুই. সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে কেবল শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করা যাবে। তিন. কোনো শিক্ষকের আবেদন ছাড়া নিজ বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে না। তবে জনস্বার্থে বা প্রশাসনিক কারণে জাতীয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে বদলি করা যাবে। চার. যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচ জন বা তার কমসংখ্যক শিক্ষক কর্মরত আছেন কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে বদলি করা যাবে না। পাঁচ. একই বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষক আবেদন করলে যথাক্রমে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা অগ্রাধিকার পাবেন। ছয়. একটি বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিন জন শিক্ষককে ‘সংযুক্তি’ পদায়ন করা যাবে। সাত. বদলির ক্ষেত্রে সব শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে শিক্ষিকারা স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর ঠিকানার নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

কমিটিগুলো প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে আবেদন নিষ্পত্তি করবে: সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, কমিটিগুলো প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করবে। একই উপজেলা, জেলা বা বিভাগের মধ্যে বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনে আদেশ জারি হবে এবং আন্তঃবিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনের বদলিগুলো জাতীয় কমিটি নিষ্পত্তি করবে। নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে পদায়নের দায়িত্ব জেলা কমিটির কাছেই বহাল রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই নতুন শর্ত ও পরিবর্তনের ফলে প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে তদবির ও অনিয়ম অনেকটাই হ্রাস পাবে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


প্রাথমিক শিক্ষক বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়নের নতুন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে বদলি ও পদায়ন কমিটি থেকে অস্পষ্ট ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে এখন থেকে কমিটিতে স্থান পাবেন বিদ্যোত্সাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে জাতীয় কমিটির নেতৃত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট করতে সাতটি নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

 জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে থেমেছে বড় ‘বদলি বাণিজ্য’। গত মার্চ থেকে জুন-এই চার মাসে সহস্রাধিক বদলি বাণিজ্যের ঘটনা ঘটে। প্রেষণ বা সংযুক্তির মাধ্যমে ঢাকাসহ বিভিন্ন মহানগরের নামি স্কুলগুলোয় পদায়ন করা হয় বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি অবহিত হয়ে গত ১৫ জুন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলনকে বদলি বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২১ জুন বদলিকে কেন্দ্রীয়ভাবে না রেখে চার স্তরের (উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়) কমিটি গঠন করে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। ঐ দিন এ সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়। তবে অনলাইনের পরিবর্তে সনাতন (ম্যানুয়াল) ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুজন করে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর মধ্যে চরম অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ বলতে আসলে কাদের বোঝানো হচ্ছে, তা নীতিমালায় স্পষ্ট ছিল না। ফলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সরকারি শিক্ষকদের বদলির মতো একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বহিরাগত বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যুক্ত করা হলে স্বচ্ছতা নষ্ট হবে এবং তদবির ও অনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি হবে। এই সমালোচনার মুখেই নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশোধিত নীতিমালা জারি করে, যা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। পরিবর্তিত নীতিমালা অনুযায়ী, চার স্তরের কমিটির কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’র স্থলে এখন থেকে দুজন করে বিদ্যোত্সাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হবেন। নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা কিংবা থানা কমিটি সভাপতি থাকবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও); জেলা কমিটি সভাপতি থাকবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিভাগীয় কমিটি সভাপতি থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার।

এদিকে জাতীয় কমিটির নেতৃত্বেও বড় রদবদল করা হয়েছে। আগের নীতিমালায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে এই কমিটির সভাপতি করা হলেও, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় কমিটির সভাপতি হবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি)। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিদ্যালয়) এবং সদস্যসচিব হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) দায়িত্ব পালন করবেন।


বদলিতে যুক্ত হলো যে সাতটি নতুন শর্ত: আগের নীতিমালায় বদলির প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না। নতুন সংশোধিত নীতিমালায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে সাতটি সুনির্দিষ্ট শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এক. চাকরির মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ না হলে কোনো সহকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলিযোগ্য হবেন না। যে ক্ষেত্রে বদলির পর তিন বছর অতিক্রম না হলে কোনো শিক্ষক পুনর্বদলির জন্য বিবেচিত হবেন না। দুই. সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে কেবল শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করা যাবে। তিন. কোনো শিক্ষকের আবেদন ছাড়া নিজ বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে না। তবে জনস্বার্থে বা প্রশাসনিক কারণে জাতীয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে বদলি করা যাবে। চার. যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচ জন বা তার কমসংখ্যক শিক্ষক কর্মরত আছেন কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে বদলি করা যাবে না। পাঁচ. একই বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষক আবেদন করলে যথাক্রমে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা অগ্রাধিকার পাবেন। ছয়. একটি বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিন জন শিক্ষককে ‘সংযুক্তি’ পদায়ন করা যাবে। সাত. বদলির ক্ষেত্রে সব শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে শিক্ষিকারা স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর ঠিকানার নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

কমিটিগুলো প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে আবেদন নিষ্পত্তি করবে: সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, কমিটিগুলো প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করবে। একই উপজেলা, জেলা বা বিভাগের মধ্যে বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনে আদেশ জারি হবে এবং আন্তঃবিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনের বদলিগুলো জাতীয় কমিটি নিষ্পত্তি করবে। নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে পদায়নের দায়িত্ব জেলা কমিটির কাছেই বহাল রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই নতুন শর্ত ও পরিবর্তনের ফলে প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে তদবির ও অনিয়ম অনেকটাই হ্রাস পাবে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত