ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

জাতীয়

মানুষ যেন সেলফি না তুলে সাহায্যে এগিয়ে যায়, প্রধানমন্ত্রীকে জুয়েল রানা

মানুষ যেন সেলফি না তুলে সাহায্যে এগিয়ে যায়, প্রধানমন্ত্রীকে জুয়েল রানা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে রাষ্ট্র ও সমাজ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর চিত্ত মিডিয়ার জুয়েল রানা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন রাষ্ট্রের জন্য কোনো পরামর্শ জানতে চান, তখন তিনি মানুষের মধ্যে আত্মিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি বলেছেন, একজন মানুষ বিপদে পড়লে যেন সবাই ছবি বা সেলফি তোলার পরিবর্তে তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে যায়। প্রাণী ও শিশুদের প্রতিও ভালোবাসা ও সহমর্মিতা বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য নাগরিকদের দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মতামত মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন বলে দাবি করেন জুয়েল রানা।

সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে জুয়েল রানাকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষি ও প্রকৃতিকে উপজীব্য করে নিয়মিত ভিডিও বানান জুয়েল রানা। ভিডিওর সঙ্গে যুক্ত করেন মানুষ ও সাহিত্য। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি চালুর পর ফেসবুকে তার পেজ ‘চিত্ত মিডিয়া’র ফলোয়ার এখন ৪৩ লাখের বেশি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জুয়েল রানার সাক্ষাৎকার নিয়েছে দৈনিক যুগান্তর।

মানুষ যেন সেলফি না তুলে সাহায্যে এগিয়ে যায়, প্রধানমন্ত্রীকে জুয়েল রানা

জুয়েল রানা বলেন, আমি গিয়েছি। উনি অনেকক্ষণ গল্প করলেন। তার সাথে ভালো একটা গল্প জমেছিল। উনি বলছিলেন যে আমাকে একটা সাজেশন দেন। আমি বললাম, আমি ক্ষুদ্র মানুষ। আপনি রাষ্ট্রের প্রধান। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে রাষ্ট্রের প্রধান বলে কবুল করেছেন। ডেফিনেটলি আপনি সৃষ্টিকর্তার স্পেশাল সিলেকশন। সেই জায়গা থেকে আমার বলাটা অনুচিত হবে, অভয় দিলে বলতে পারি।

অভয় পেয়ে জুয়েল রানা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, রাষ্ট্রের প্রত্যেকটা নাগরিকের আত্মিক পরিবর্তন দরকার। তারা যেন রাষ্ট্রকে ভালোবাসতে পারে, যেন একটা মানুষ বিপদে পড়লে সবাই সেলফি ছবি না তুলে তার সাহায্যের থেকে এগিয়ে যায়। এটি আত্মিক পরিবর্তন। একটা প্রাণীকে যেনো মেরে আহত না করে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে। ছোট বাচ্চা লিচু পারলে তাকে বেধরক পিটিয়ে এই সংবাদ শুনতে চাই না। আমরা তাকে ভালোবাসা দিয়ে, তাকে গাছে তুলে বলতে বলতে হবে যে এই গাছ থেকে লিচু পারো, আমার জন্য পারো, তোমার জন্য পারো। কতগুলো লিচু খাওয়া যায়? একটা ছোট বাচ্চা ৮টা, ১০টা লিচু খেতে পারে। তার বেশি খেতে পারে না। তাকে তার জন্য পেটাবেন? একটা বাবা তার স্ত্রীকে কাঁধে নিচ্ছে, আবার মৃত সন্তানকে নিচ্ছে, আরেক সন্তানকে হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে, প্লাটফর্মে এত মানুষ! এটা হতে পারে না। এটি একটি রাষ্ট্রের দুর্বিষহ অবস্থা প্রকাশ করে। সো আমি বলেছি এভাবে।

‘আমার অপিনিয়ন জানতে চেয়েছেন। আমি বলেছি। গল্পের খাতিরে অনেক কথাই বলতে হয়েছে। আমি বলেছি যে আমরা চাই রাষ্ট্রের মানুষগুলো সেলফি তোলা ভুলে গিয়ে, ক্যামেরায় ধারণ করা ভুলে গিয়ে, তাৎক্ষণিক তাকে সাহায্য করুক সবাই। আমরা চাই আত্মিক পরিবর্তন, আমাদের হৃদয়ের মধ্যে একটা বিপ্লব আসুক।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে কী দিয়ে আপ্যায়ন করা হলো আপনাকে?

প্রশ্নের জবাবে জুয়েল রানা বলেন, ‘একটা তরমুজের জুস ছিল, ওইটা খুব দারুণ ছিল। আমার কাছে ভালো লেগেছে।’

স্পেসিফিক যদি জিজ্ঞেস করি যে আসলে আপনাকে এরকম কিছু জানানো হয়েছে কিনা যে কোন কন্টেন্টটা সর্বশেষ দেখে আপনাকে এখানে ডাকা হলো?

এই প্রশ্নের জবাবে জুয়েল রানা বলেন, আমি গেলাম। উনি বললেন যে আসলে যেহেতু আপনি প্রকৃতির কথা বলেন, প্রকৃতিকে দেখান। আমি আসলে বাংলার প্রকৃতিটাকে অনেক ভালোবাসি, আমার ভালো লাগে। কন্টেন্টগুলো ভালো লাগে। প্রকৃতির বর্ণনার সাথে যে শিল্পের বা সাহিত্যের যে উদ্ধৃতি এগুলো উনি পছন্দ করেছেন, এটি সবাই করে, উনি করেছেন। উনি বললেন যে সর্বশেষ আকাশে প্রচণ্ড মেঘ ছিল এবং কালো একটা মেঘ ঈশান কোণে জমা হয়ে ছিল। সেই মেঘটি একটি দুর্বার গতিতে এগিয়ে আসছিল। ঝড়ো হওয়া। তার মাঝখানে আপনি বজ্রপাত নিয়ে একটু সতর্ক করলেন মানুষকে। এটি আমার ভালো লেগেছে যে কন্টেন্ট তৈরি হতে হতে একটা সিচুয়েশন তৈরি হলো। সেটা নিয়ে আপনি আবার বজ্রপাতের একটা পরিসংখ্যান তুলে ধরলেন।

জুয়েল রানা বলেন, নাইজেরিয়ায় বজ্রপাতে বেশি মানুষ মারা যায়। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষ বজ্রপাতে নিহত হয়। উনি বলছেন যে এটা ভালো লেগেছে যে আপনি এ বিষয়টা তাৎক্ষণিক মেসেজ দিয়ে দিলেন এবং আপনি সরে গেলেন। এবং আপনি বললেন যে আর কথা বাড়ানো যাবে না, মেঘ উঠে আসছে। বজ্রপাতের সংখ্যা, আপনার নিরাপদে চলে যাওয়া। এ বিষয়টি বললেন যে খুব ভালো লেগেছে। এবং এই কন্টেন্টটি আমি দেখেছি। এভাবে অনেকগুলোর কথাই বললেন যে আপনি গ্রামের মেঠোপথে খালি পায়ে হাঁটেন। খালি পায়ে হাঁটার কথাটা বলেন আমার ভালো লাগে। তো এই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়াটা যেকোনো নাগরিকের জন্যই আসলে সৌভাগ্যের এবং তার জন্য আপ্লুত হওয়ার মতো ব্যাপার।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


মানুষ যেন সেলফি না তুলে সাহায্যে এগিয়ে যায়, প্রধানমন্ত্রীকে জুয়েল রানা

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে রাষ্ট্র ও সমাজ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর চিত্ত মিডিয়ার জুয়েল রানা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন রাষ্ট্রের জন্য কোনো পরামর্শ জানতে চান, তখন তিনি মানুষের মধ্যে আত্মিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি বলেছেন, একজন মানুষ বিপদে পড়লে যেন সবাই ছবি বা সেলফি তোলার পরিবর্তে তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে যায়। প্রাণী ও শিশুদের প্রতিও ভালোবাসা ও সহমর্মিতা বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য নাগরিকদের দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মতামত মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন বলে দাবি করেন জুয়েল রানা।

সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে জুয়েল রানাকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষি ও প্রকৃতিকে উপজীব্য করে নিয়মিত ভিডিও বানান জুয়েল রানা। ভিডিওর সঙ্গে যুক্ত করেন মানুষ ও সাহিত্য। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি চালুর পর ফেসবুকে তার পেজ ‘চিত্ত মিডিয়া’র ফলোয়ার এখন ৪৩ লাখের বেশি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জুয়েল রানার সাক্ষাৎকার নিয়েছে দৈনিক যুগান্তর।

মানুষ যেন সেলফি না তুলে সাহায্যে এগিয়ে যায়, প্রধানমন্ত্রীকে জুয়েল রানা

জুয়েল রানা বলেন, আমি গিয়েছি। উনি অনেকক্ষণ গল্প করলেন। তার সাথে ভালো একটা গল্প জমেছিল। উনি বলছিলেন যে আমাকে একটা সাজেশন দেন। আমি বললাম, আমি ক্ষুদ্র মানুষ। আপনি রাষ্ট্রের প্রধান। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে রাষ্ট্রের প্রধান বলে কবুল করেছেন। ডেফিনেটলি আপনি সৃষ্টিকর্তার স্পেশাল সিলেকশন। সেই জায়গা থেকে আমার বলাটা অনুচিত হবে, অভয় দিলে বলতে পারি।

অভয় পেয়ে জুয়েল রানা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, রাষ্ট্রের প্রত্যেকটা নাগরিকের আত্মিক পরিবর্তন দরকার। তারা যেন রাষ্ট্রকে ভালোবাসতে পারে, যেন একটা মানুষ বিপদে পড়লে সবাই সেলফি ছবি না তুলে তার সাহায্যের থেকে এগিয়ে যায়। এটি আত্মিক পরিবর্তন। একটা প্রাণীকে যেনো মেরে আহত না করে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে। ছোট বাচ্চা লিচু পারলে তাকে বেধরক পিটিয়ে এই সংবাদ শুনতে চাই না। আমরা তাকে ভালোবাসা দিয়ে, তাকে গাছে তুলে বলতে বলতে হবে যে এই গাছ থেকে লিচু পারো, আমার জন্য পারো, তোমার জন্য পারো। কতগুলো লিচু খাওয়া যায়? একটা ছোট বাচ্চা ৮টা, ১০টা লিচু খেতে পারে। তার বেশি খেতে পারে না। তাকে তার জন্য পেটাবেন? একটা বাবা তার স্ত্রীকে কাঁধে নিচ্ছে, আবার মৃত সন্তানকে নিচ্ছে, আরেক সন্তানকে হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে, প্লাটফর্মে এত মানুষ! এটা হতে পারে না। এটি একটি রাষ্ট্রের দুর্বিষহ অবস্থা প্রকাশ করে। সো আমি বলেছি এভাবে।

‘আমার অপিনিয়ন জানতে চেয়েছেন। আমি বলেছি। গল্পের খাতিরে অনেক কথাই বলতে হয়েছে। আমি বলেছি যে আমরা চাই রাষ্ট্রের মানুষগুলো সেলফি তোলা ভুলে গিয়ে, ক্যামেরায় ধারণ করা ভুলে গিয়ে, তাৎক্ষণিক তাকে সাহায্য করুক সবাই। আমরা চাই আত্মিক পরিবর্তন, আমাদের হৃদয়ের মধ্যে একটা বিপ্লব আসুক।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে কী দিয়ে আপ্যায়ন করা হলো আপনাকে?

প্রশ্নের জবাবে জুয়েল রানা বলেন, ‘একটা তরমুজের জুস ছিল, ওইটা খুব দারুণ ছিল। আমার কাছে ভালো লেগেছে।’

স্পেসিফিক যদি জিজ্ঞেস করি যে আসলে আপনাকে এরকম কিছু জানানো হয়েছে কিনা যে কোন কন্টেন্টটা সর্বশেষ দেখে আপনাকে এখানে ডাকা হলো?

এই প্রশ্নের জবাবে জুয়েল রানা বলেন, আমি গেলাম। উনি বললেন যে আসলে যেহেতু আপনি প্রকৃতির কথা বলেন, প্রকৃতিকে দেখান। আমি আসলে বাংলার প্রকৃতিটাকে অনেক ভালোবাসি, আমার ভালো লাগে। কন্টেন্টগুলো ভালো লাগে। প্রকৃতির বর্ণনার সাথে যে শিল্পের বা সাহিত্যের যে উদ্ধৃতি এগুলো উনি পছন্দ করেছেন, এটি সবাই করে, উনি করেছেন। উনি বললেন যে সর্বশেষ আকাশে প্রচণ্ড মেঘ ছিল এবং কালো একটা মেঘ ঈশান কোণে জমা হয়ে ছিল। সেই মেঘটি একটি দুর্বার গতিতে এগিয়ে আসছিল। ঝড়ো হওয়া। তার মাঝখানে আপনি বজ্রপাত নিয়ে একটু সতর্ক করলেন মানুষকে। এটি আমার ভালো লেগেছে যে কন্টেন্ট তৈরি হতে হতে একটা সিচুয়েশন তৈরি হলো। সেটা নিয়ে আপনি আবার বজ্রপাতের একটা পরিসংখ্যান তুলে ধরলেন।

জুয়েল রানা বলেন, নাইজেরিয়ায় বজ্রপাতে বেশি মানুষ মারা যায়। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষ বজ্রপাতে নিহত হয়। উনি বলছেন যে এটা ভালো লেগেছে যে আপনি এ বিষয়টা তাৎক্ষণিক মেসেজ দিয়ে দিলেন এবং আপনি সরে গেলেন। এবং আপনি বললেন যে আর কথা বাড়ানো যাবে না, মেঘ উঠে আসছে। বজ্রপাতের সংখ্যা, আপনার নিরাপদে চলে যাওয়া। এ বিষয়টি বললেন যে খুব ভালো লেগেছে। এবং এই কন্টেন্টটি আমি দেখেছি। এভাবে অনেকগুলোর কথাই বললেন যে আপনি গ্রামের মেঠোপথে খালি পায়ে হাঁটেন। খালি পায়ে হাঁটার কথাটা বলেন আমার ভালো লাগে। তো এই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়াটা যেকোনো নাগরিকের জন্যই আসলে সৌভাগ্যের এবং তার জন্য আপ্লুত হওয়ার মতো ব্যাপার।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত