ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

জাতীয়

‘জুলাইয়ের মধ্যে জুতা পাবে প্রাথমিকের ১ লাখ শিক্ষার্থী’

‘জুলাইয়ের মধ্যে জুতা পাবে প্রাথমিকের ১ লাখ শিক্ষার্থী’

আগামী জুলাইয়ের মধ্যে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জুতা-মোজা দেওয়া হবে বলে জনিয়েছন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ জুতা প্রদান করা হবে। প্রথম ধাপে দেশের প্রত্যেক উপজেলার নির্বাচিত দুটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক লাখ শিক্ষার্থীকে এ জুতা পাবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (৭ মে) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাটের তৈরি ব্যাগ, স্কুল ড্রেস, ফুটওয়্যার সামগ্রী (জুতা-মোজা) দেওয়া হত। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এরই মধ্যেই কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পাইলট কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যার মাধ্যমে প্রথম ধাপে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসম্মত স্কুল জুতা বিতরণ করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশের বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সিএসআর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকারকে অনুদান দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, এ উদ্যোগটি শুধু একটি বিতরণ কর্মসূচি না হয়ে শিশুদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সমন্বিত সহায়তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। এজন্য জুতার মান, স্টাইল ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট সমন্বয় থাকা অত্যন্ত জরুরি। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জুতার গুণগত মানে বড় ধরনের বৈষম্য থাকলে সেটি শিশুদের মধ্যে অসম অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য মান নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করছি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক উপজেলায় দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীদের (প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী) জুতা বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেন সীমিত পরিসরে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পাইলট হিসেবে বাস্তবায়ন করা যায়।

এ সময় তিনি টেকনিক্যাল ও কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। কমিটিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ, লেদার ইনস্টিটিটিউট ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি সহযোগী প্রতিটি কোম্পানির একজন প্রতিনিধি রাখার নির্দেশনা দেন এবং ডিজাইন, কোয়ালিটি চেকিং, সার্টিফিকেশন সবকিছু যেন আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী হয়, সেজন্য টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দ্রুত এ পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে এ ধরনের জুতা উৎপাদন করে, তাই অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

সভায় বাটা, এপেক্স, প্রাণ-আরএফএল, বসুন্ধরা গ্রুপসহ বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


‘জুলাইয়ের মধ্যে জুতা পাবে প্রাথমিকের ১ লাখ শিক্ষার্থী’

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

আগামী জুলাইয়ের মধ্যে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জুতা-মোজা দেওয়া হবে বলে জনিয়েছন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ জুতা প্রদান করা হবে। প্রথম ধাপে দেশের প্রত্যেক উপজেলার নির্বাচিত দুটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক লাখ শিক্ষার্থীকে এ জুতা পাবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (৭ মে) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাটের তৈরি ব্যাগ, স্কুল ড্রেস, ফুটওয়্যার সামগ্রী (জুতা-মোজা) দেওয়া হত। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এরই মধ্যেই কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পাইলট কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যার মাধ্যমে প্রথম ধাপে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসম্মত স্কুল জুতা বিতরণ করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশের বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সিএসআর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকারকে অনুদান দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, এ উদ্যোগটি শুধু একটি বিতরণ কর্মসূচি না হয়ে শিশুদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সমন্বিত সহায়তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। এজন্য জুতার মান, স্টাইল ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট সমন্বয় থাকা অত্যন্ত জরুরি। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জুতার গুণগত মানে বড় ধরনের বৈষম্য থাকলে সেটি শিশুদের মধ্যে অসম অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য মান নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করছি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক উপজেলায় দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীদের (প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী) জুতা বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেন সীমিত পরিসরে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পাইলট হিসেবে বাস্তবায়ন করা যায়।

এ সময় তিনি টেকনিক্যাল ও কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। কমিটিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ, লেদার ইনস্টিটিটিউট ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি সহযোগী প্রতিটি কোম্পানির একজন প্রতিনিধি রাখার নির্দেশনা দেন এবং ডিজাইন, কোয়ালিটি চেকিং, সার্টিফিকেশন সবকিছু যেন আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী হয়, সেজন্য টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দ্রুত এ পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে এ ধরনের জুতা উৎপাদন করে, তাই অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

সভায় বাটা, এপেক্স, প্রাণ-আরএফএল, বসুন্ধরা গ্রুপসহ বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত