ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

কৃষকের জানালা

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর আগ্রহ বাড়ছে ভুট্টার চাষে

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর আগ্রহ বাড়ছে ভুট্টার চাষে

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর আগ্রহ বাড়ছে ভুট্টার চাষে

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি :

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ভুট্টা কর্তন ও মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষক। তবে বেশি সার প্রয়োজন হওয়ায় এবং মূলত পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ভুট্টা আবাদের চাষিদের নিরুৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ। 

পাঁচটি ইউনিয়ন আর একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত কোটচাঁদপুর উপজেলায় আবাদ যোগ্য জমির পরিমাণ ১২ হাজার ৮০৮ হেক্টর। এর মধ্যে চার হাজার একরের বেশি জমিতে ভুট্টার চাষ হয়। কৃষকেরা নানা জাতের ভুট্টা চাষ করে থাকেন। যার মধ্যে রয়েছে পাইনিওর-৩৩৫৫, সুপার স্টার-৯২৫৫, রকেট-৫৫, আকবর-৫৫, সুপারসাইন-২৭৫৫, মহাযাদু-৫৫, গরুর গাড়ি-৫৫৩৩, টপস্টার-৫৫, পদ্মা, গঙ্গা, জিকে-৩২৫৫ ও ডেকালব-৯২১৭। তবে বেশি চাষ হয় পাইনিওর জাতের ভুট্টা। 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৯৪৯ হেক্টর। যা ইতোমধ্যে অর্জন হয়েছে। এ বছর হেক্টরপ্রতি ১২.৮ টন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৪৫ মণ উৎপাদনে খুশি চাষিরা। এ ছাড়া দাম ভালো পাওয়ায় ভুট্টা আবাদে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।

কোটচাঁদপুর তালসার গ্রামের ভুট্টাচাষি আকিমুল ইসলাম (সাজু) বলেন, এ বছরও দেড় বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। যা থেকে ৬০ থেকে ৬৫ মণ শুকনা ভুট্টা পাবেন বলে আশা করছেন। আর বর্তমানে প্রতি মণ শুকনা ভুট্টা ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দাম পেলে চাষিদের ভালো লাভ হবে। 

এলাঙ্গীর নারায়ণ বাড়িয়া গ্রামের মঈন উদ্দিন খান বলেন, এ বছর চার বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি ৪৫ মণ হারে উৎপাদিত হয়েছে। যা কাঁচা অবস্থায় ৮০০ টাকা মণ দামে বিক্রি করেছেন। এ দাম পেয়ে তিনি খুশি। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন জানান, এই উপজেলায় মোট আবাদযোগ্য জমি ১২ হাজার ৮০৮ হেক্টর। এর মধ্যে ৩১ শতাংশ জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। এখানে ১০টি জাতের ভুট্টার চাষ হয়। তবে বেশি চাষ হয় পাইনিওর জাতের ভুট্টা। এ ফসল আবাদে ১৫০ থেকে ১৫৫ দিন সময় লাগে।

তিনি বলেন, অনেক ভুট্টাচাষি ইতোমধ্যে তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলেছেন। এ ছাড়া এখনও চলছে কর্তন ও মাড়াইয়ের কাজ। লাভজনক ফসল হওয়ায় চাষিরা বেশি পরিমাণ জমিতে ভুট্টা আবাদ করছেন। এ ছাড়া ভুট্টা বিক্রিতে চাষিদের কোনো ঝামেলা হয় না। জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ভুট্টার ফলন ও দাম ভালো হলেও আমরা এ ফসল চাষে চাষিদের নিরুৎসাহিত করছি। কারণ, এটা মূলত বেশি ব্যবহৃত হয় পশু খাদ্যে, মানুষের খাদ্য হিসেবে খুব কম কাজে লাগে। আর ভুট্টা চাষে সব থেকে বেশি সার প্রয়োজন হয়। অন্য ফসল আবাদে এত বেশি পরিমাণ সারের প্রয়োজন হয় না। এ কারণে সরকার এ বছর ভুট্টা চাষে প্রণোদনা তুলে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর আগ্রহ বাড়ছে ভুট্টার চাষে

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর আগ্রহ বাড়ছে ভুট্টার চাষে


কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি :

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ভুট্টা কর্তন ও মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষক। তবে বেশি সার প্রয়োজন হওয়ায় এবং মূলত পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ভুট্টা আবাদের চাষিদের নিরুৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ। 


পাঁচটি ইউনিয়ন আর একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত কোটচাঁদপুর উপজেলায় আবাদ যোগ্য জমির পরিমাণ ১২ হাজার ৮০৮ হেক্টর। এর মধ্যে চার হাজার একরের বেশি জমিতে ভুট্টার চাষ হয়। কৃষকেরা নানা জাতের ভুট্টা চাষ করে থাকেন। যার মধ্যে রয়েছে পাইনিওর-৩৩৫৫, সুপার স্টার-৯২৫৫, রকেট-৫৫, আকবর-৫৫, সুপারসাইন-২৭৫৫, মহাযাদু-৫৫, গরুর গাড়ি-৫৫৩৩, টপস্টার-৫৫, পদ্মা, গঙ্গা, জিকে-৩২৫৫ ও ডেকালব-৯২১৭। তবে বেশি চাষ হয় পাইনিওর জাতের ভুট্টা। 


কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৯৪৯ হেক্টর। যা ইতোমধ্যে অর্জন হয়েছে। এ বছর হেক্টরপ্রতি ১২.৮ টন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৪৫ মণ উৎপাদনে খুশি চাষিরা। এ ছাড়া দাম ভালো পাওয়ায় ভুট্টা আবাদে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।


কোটচাঁদপুর তালসার গ্রামের ভুট্টাচাষি আকিমুল ইসলাম (সাজু) বলেন, এ বছরও দেড় বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। যা থেকে ৬০ থেকে ৬৫ মণ শুকনা ভুট্টা পাবেন বলে আশা করছেন। আর বর্তমানে প্রতি মণ শুকনা ভুট্টা ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দাম পেলে চাষিদের ভালো লাভ হবে। 


এলাঙ্গীর নারায়ণ বাড়িয়া গ্রামের মঈন উদ্দিন খান বলেন, এ বছর চার বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি ৪৫ মণ হারে উৎপাদিত হয়েছে। যা কাঁচা অবস্থায় ৮০০ টাকা মণ দামে বিক্রি করেছেন। এ দাম পেয়ে তিনি খুশি। 


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন জানান, এই উপজেলায় মোট আবাদযোগ্য জমি ১২ হাজার ৮০৮ হেক্টর। এর মধ্যে ৩১ শতাংশ জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। এখানে ১০টি জাতের ভুট্টার চাষ হয়। তবে বেশি চাষ হয় পাইনিওর জাতের ভুট্টা। এ ফসল আবাদে ১৫০ থেকে ১৫৫ দিন সময় লাগে।


তিনি বলেন, অনেক ভুট্টাচাষি ইতোমধ্যে তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলেছেন। এ ছাড়া এখনও চলছে কর্তন ও মাড়াইয়ের কাজ। লাভজনক ফসল হওয়ায় চাষিরা বেশি পরিমাণ জমিতে ভুট্টা আবাদ করছেন। এ ছাড়া ভুট্টা বিক্রিতে চাষিদের কোনো ঝামেলা হয় না। জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ভুট্টার ফলন ও দাম ভালো হলেও আমরা এ ফসল চাষে চাষিদের নিরুৎসাহিত করছি। কারণ, এটা মূলত বেশি ব্যবহৃত হয় পশু খাদ্যে, মানুষের খাদ্য হিসেবে খুব কম কাজে লাগে। আর ভুট্টা চাষে সব থেকে বেশি সার প্রয়োজন হয়। অন্য ফসল আবাদে এত বেশি পরিমাণ সারের প্রয়োজন হয় না। এ কারণে সরকার এ বছর ভুট্টা চাষে প্রণোদনা তুলে দিয়েছে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত