ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

কৃষকের জানালা

ডিজেল সংকটে দোহারে সেচ স্থবির, হুমকির মুখে হাজার একর ধান ক্ষেত

ডিজেল সংকটে দোহারে সেচ স্থবির, হুমকির মুখে হাজার একর ধান ক্ষেত
দোহারের জামালচরে ইরি ধানের জমি, ইন সেটে তৈয়ব ও মানিক

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এখন কৃষকের ‘ভাতের হাড়িতে’ হানা দিয়েছে। ডিজেলের অভাবে ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ায় এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। পানির অভাবে ধান ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

বর্তমানে দোহার-নবাবগঞ্জে ইরি-বোরো ধান পাকার শেষ সময় চলছে। এই মুহূর্তে ধানের ফলন নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ অপরিহার্য। অথচ গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ‘পেট্রোল বা ডিজেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সেচ পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় পানির অভাবে ধানের শিষ সাদা হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে, যা ফলনে ব্যাপক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সেচ প্রকল্পের মালিক ও সাধারণ কৃষকরা ভোররাত থেকে ড্রাম ও বোতল নিয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। জয়মঙ্গলে দুটি ইরি প্রজেক্টের তৈয়ব আলী এবং স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ মানিক আক্ষেপ করে বলেন, “তেল নেই বলে আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাম্প চালাতে না পারলে কয়েক দিনের মধ্যে সব ধান মরে যাবে। এভাবে চলতে থাকলে মাঠেই ফসল নষ্ট হবে, আমাদের বিনিয়োগ করা সব টাকা ডোবায় যাবে।”

এদিকে তেলের এই তীব্র সংকটের সুযোগ নিচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র। অভিযোগ উঠেছে, ফিলিং স্টেশনে তেল না মিললেও গ্রাম পর্যায়ে চড়া দামে ডিজেল বিক্রি করছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল কিনতে হওয়ায় ধান চাষের উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। একদিকে জ্বালানি অভাব, অন্যদিকে অস্বাভাবিক দাম—এই দ্বিমুখী চাপে প্রান্তিক কৃষকরা এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত এই সংকট নিরসন করা না গেলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান উৎপাদন সম্ভব হবে না। সেচ ব্যবস্থার এই স্থবিরতা কেবল কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং আগামী দিনে স্থানীয় চালের বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা ও দাম বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

কৃষক ও সেচ প্রকল্প মালিকদের দাবি, কৃষি কাজ ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে দোহার-নবাবগঞ্জ অঞ্চলে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। তা না হলে এই কৃষি বেল্টে ধানের উৎপাদনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


ডিজেল সংকটে দোহারে সেচ স্থবির, হুমকির মুখে হাজার একর ধান ক্ষেত

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এখন কৃষকের ‘ভাতের হাড়িতে’ হানা দিয়েছে। ডিজেলের অভাবে ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ায় এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। পানির অভাবে ধান ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

বর্তমানে দোহার-নবাবগঞ্জে ইরি-বোরো ধান পাকার শেষ সময় চলছে। এই মুহূর্তে ধানের ফলন নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ অপরিহার্য। অথচ গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ‘পেট্রোল বা ডিজেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সেচ পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় পানির অভাবে ধানের শিষ সাদা হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে, যা ফলনে ব্যাপক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সেচ প্রকল্পের মালিক ও সাধারণ কৃষকরা ভোররাত থেকে ড্রাম ও বোতল নিয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। জয়মঙ্গলে দুটি ইরি প্রজেক্টের তৈয়ব আলী এবং স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ মানিক আক্ষেপ করে বলেন, “তেল নেই বলে আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাম্প চালাতে না পারলে কয়েক দিনের মধ্যে সব ধান মরে যাবে। এভাবে চলতে থাকলে মাঠেই ফসল নষ্ট হবে, আমাদের বিনিয়োগ করা সব টাকা ডোবায় যাবে।”

এদিকে তেলের এই তীব্র সংকটের সুযোগ নিচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র। অভিযোগ উঠেছে, ফিলিং স্টেশনে তেল না মিললেও গ্রাম পর্যায়ে চড়া দামে ডিজেল বিক্রি করছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল কিনতে হওয়ায় ধান চাষের উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। একদিকে জ্বালানি অভাব, অন্যদিকে অস্বাভাবিক দাম—এই দ্বিমুখী চাপে প্রান্তিক কৃষকরা এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত এই সংকট নিরসন করা না গেলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান উৎপাদন সম্ভব হবে না। সেচ ব্যবস্থার এই স্থবিরতা কেবল কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং আগামী দিনে স্থানীয় চালের বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা ও দাম বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

কৃষক ও সেচ প্রকল্প মালিকদের দাবি, কৃষি কাজ ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে দোহার-নবাবগঞ্জ অঞ্চলে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। তা না হলে এই কৃষি বেল্টে ধানের উৎপাদনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত