ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

জাতীয়

আবু সাঈদ হত্যা মামলা

বেরোবির দুই শিক্ষক ও ছাত্রলীগ সভাপতির ১০ বছর করে কারাদণ্ড

বেরোবির দুই শিক্ষক ও ছাত্রলীগ সভাপতির ১০ বছর করে কারাদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় প্রদান করেন।

রায়ে অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকে সরাসরি সম্পৃক্ততার দায়ে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রথম কোনো সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এমন কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।

আদালতের ঘোষিত রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান এবং লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকেও একই মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, তৎকালীন ছাত্র আন্দোলন দমাতে অভিযুক্তরা প্রত্যক্ষভাবে উসকানি ও সহায়তা প্রদান করেছিলেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে, নিরস্ত্র একজন শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশের বর্বরোচিত গুলির ঘটনায় শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত নেতিবাচক। তারা আবু সাঈদকে রক্ষায় এগিয়ে না এসে উল্টো আক্রমণকারীদের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন, যা আইন ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন।

বিচারক প্যানেল আরও জানান, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনার প্রতি সম্মান রেখে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই রায় প্রদান করা হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে আগামী দিনে শিক্ষাঙ্গনে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন চালানোর প্রবণতা বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আবু সাঈদ হত্যার পর দেশজুড়ে যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছিল, তা শেষ পর্যন্ত একটি সফল গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আজকের এই রায়কে সেই বিপ্লবের ফসল হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও আইনজীবীরা।

শহীদ আবু সাঈদের পরিবার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। অন্যদিকে, আসামীপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন। তবে বর্তমান সরকার ও প্রসিকিউশন টিমের পক্ষ থেকে এই রায়কে দেশের বিচার বিভাগের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


বেরোবির দুই শিক্ষক ও ছাত্রলীগ সভাপতির ১০ বছর করে কারাদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় প্রদান করেন।

রায়ে অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকে সরাসরি সম্পৃক্ততার দায়ে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রথম কোনো সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এমন কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।

আদালতের ঘোষিত রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান এবং লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকেও একই মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, তৎকালীন ছাত্র আন্দোলন দমাতে অভিযুক্তরা প্রত্যক্ষভাবে উসকানি ও সহায়তা প্রদান করেছিলেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে, নিরস্ত্র একজন শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশের বর্বরোচিত গুলির ঘটনায় শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত নেতিবাচক। তারা আবু সাঈদকে রক্ষায় এগিয়ে না এসে উল্টো আক্রমণকারীদের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন, যা আইন ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন।

বিচারক প্যানেল আরও জানান, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনার প্রতি সম্মান রেখে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই রায় প্রদান করা হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে আগামী দিনে শিক্ষাঙ্গনে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন চালানোর প্রবণতা বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আবু সাঈদ হত্যার পর দেশজুড়ে যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছিল, তা শেষ পর্যন্ত একটি সফল গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আজকের এই রায়কে সেই বিপ্লবের ফসল হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও আইনজীবীরা।

শহীদ আবু সাঈদের পরিবার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। অন্যদিকে, আসামীপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন। তবে বর্তমান সরকার ও প্রসিকিউশন টিমের পক্ষ থেকে এই রায়কে দেশের বিচার বিভাগের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত